১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সকাল ৮:৫০

নিজেদের বিমান বাহিনী থেকে সুরক্ষা পেতেই এরদোগানের এস-৪০০ ক্রয়!

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় থেকে তুরস্ককে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার শিকড় মূলত বছর তিনেক আগে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্যেই নিহত বলে বেশ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা ধারণা করছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এমন খবরই দিয়েছে।

২০১৬ সালের ১৫ জুলাই এরদোগানের বিরুদ্ধে সেনা অভ্যুত্থানে এই বিমান বাহিনী বড় ভূমিকা রেখেছিল।  গত শুক্রবার থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার যন্ত্রপাতি গ্রহণ শুরু করে দিয়েছে তুরস্ক। এতে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার চেয়ে নিজেদের বিমানের যেকোনো হামলা থেকে সুরক্ষা পেতে এস-৪০০ দিয়ে তুর্কি সরকার বেশি সুবিধা পাবে।  রেইথিওন কো’এস’এস প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তুর্কিশ বিমান বাহিনীর জেটসহ ন্যাটো যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে গুলি করা থেকে বিরত থাকতে সহায়তা করতো। বিশেষজ্ঞদের ধারণা এমনটিই। অথচ এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ক্রয়ে তুরস্ককে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, আপনি নিজেকেবা জিজ্ঞেস করুন, এরদোগান কেন রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আনতে গেছেন? আসলে তিনি নিজের বিমান বাহিনীর ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না।  তুরস্কের সঙ্গে ন্যাটোর আলোচনা সংশ্লিষ্ট এক প্রতিরক্ষা ও দুই মার্কিন কর্মকর্তা তুরস্ককে দীর্ঘদিন শাসন করা এই নেতার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নিয়ে একই কথা বলেছেন।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব কর্মকর্তা বলেন, সেখানে এমন কথাও হয়েছে যে তিনি এমন একটি ব্যবস্থা ক্রয় করতে চেয়েছেন, যেটা তার নিজেকেও সুরক্ষা দেবে। কাজেই ন্যাটো-সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয়ে তিনি আগ্রহী ছিলেন না।

তবে এস-৪০০ ক্রয়ের সিদ্ধান্তে সেনা অভ্যুত্থান একটি নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করার খবর উড়িয়ে দিয়েছেন তুরস্কের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। সেনা অভ্যুত্থানে সমর্থনকারীদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছে তুরস্ক।  মার্কিন কর্মকর্তাদের জল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, আরেকটি অভ্যুত্থান চেষ্টা নিয়ে তুরস্ক একেবারেই ভীত না।  আরেক তুর্কি কর্মকর্তারা বলেন, আঙ্কারা সবসময় প্যাট্রিয়ট কিনতে উদগ্রীব ছিল। কিন্তু তাদের এস-৪০০ ক্রয়ে বাধ্য করা হয়েছে। প্যাট্রিয়ট কিনতে চাওয়া নিয়ে কোনো ধরনের দোদুল্যমানতা ছিল না। কিন্তু ওবামা প্রশাসনের আমলে এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র বেশ ঢিমেতালে এগোচ্ছিল। পরে আমরা সেখান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছি।

এরদোগান নিজেই বলেছেন, রাশিয়া তার সঙ্গে একটি সম্মানজনক চুক্তি করেছে বলেই এস-৪০০ কেনা।  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এরদোগানকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বারাক ওবামার কারণেই রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনতে হয়েছে তুরস্ককে। বিষয়টি নিয়ে যখন অনেক বিলম্ব ঘটছিল, যুক্তরাষ্ট্র তখন তুরস্ককে একটি ভালো বিকল্পের প্রস্তাব দিতে পারেনি। কিন্তু তুরস্কের সিদ্ধান্তে ব্যথিত হয়েছে ন্যাটো। এটা তাদের কলিজার ভেতর পেরেক ঢুকিয়ে দেয়ার মতো হয়েছে।

এরদোগানের বিরুদ্ধে ওই ব্যর্থ অভ্যুত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছিল তুরস্কের বিমান বাহিনী। তারা জঙ্গি বিমান ও হেলিকপ্টার দিয়ে পার্লামেন্ট ভবনে বোমা মেরেছে। এছাড়া এরদোগানকে বহন করা একটি সরকারি বিমানকে হুমকি দিয়েছে।  কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলেও ২৫১জন নিহত নিয়েছিল তখন। আহত হয়েছেন দেড় হাজারের বেশি।  অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার সন্দেহে গত জুনে তুর্কিশ বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান আকিন ওজটুরককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয়া হয়েছে।

চলতি মাসে নতুন করে ১৭৬ সামরিক কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে তুরস্কের আদালত।  যুক্তরাষ্টের আরেক কর্মকর্তা বলেন, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় নিয়ে আলোচনায় ২০১৮ সালে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে নিজেদের বাহিনীকে নিরাপত্তার বড় একটি হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেন তুর্কি কর্মকর্তারা।  ফেতুল্লাহ গুলেনকে প্রত্যর্পণে মার্কিন অস্বীকৃতি নিয়েও বিরক্ত তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান। পেছনে থেকে অভ্যুত্থানে ইন্ধন দেয়ার জন্য পেনসিলভানিয়াভিত্তিক ওই মুসলিম ধর্মীয় নেতাকে দায়ী করছে তুরস্ক। যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসি নামের একটি থিংকট্যাংকের তুরস্ক বিশেষজ্ঞ সোনার ক্যাগাপটেই বলেন, নিজের সুরক্ষার জন্যই এরদোগান এস-৪০০ ক্রয় করেছে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৮ই জুলাই, ২০১৯ ইং/বিকাল ৩:৫০