১০ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৭:১২

তুরস্কের এফ-৩৫ ও এস-৪০০ কেনা নিয়ে ওবামাকে দুষলেন ট্রাম্প

 

ডেস্কনিউজঃ রাশিয়া থেকে তুরস্কের এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ব্যাপারে নিজের পূর্বসূরি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে দায়ী করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর আনাদলুর।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ওবামা প্রশাসন তুরস্ককে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে আঙ্কারা রাশিয়া থেকে এস-৪০০ কিনতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, তুরস্ক ইতিমধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সই করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয় করতে রাশিয়াকে বিপুল অর্থ দিয়েছে। যেটা তারা আমাদের কাছ থেকে কিনতে পারেনি।

তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুসম্পর্ক রয়েছে জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ ও রাশিয়ার এস-৪০০ নিয়ে তুরস্কের পরিস্থিতি একটি জটিল পটভূমিতে রয়েছে। কিন্তু এই মতপার্থক্য সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ভালো রয়েছে।

দেশটি রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনতে বাধ্য হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এর আগে তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ জঙ্গিবিমান বিক্রি না করার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়া থেকে এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পরিপ্রেক্ষিতে এ ঘোষণা দেন তিনি।

তবে রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা গ্রহণ করলে এতদিন নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিলেও মঙ্গলবার তুরস্কের বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের আভাস দেন নি ট্রাম্প।

এদিকে সোমবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছেন, যারা আমাদের দেশে আক্রমণ করতে চায়, তাদের জন্যই এই এস-৪০০, যা এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

আমরা রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ হিসাবে এটি করছি এবং আমরা তা চালিয়ে যাব। ২০২০ সালের এপ্রিলের মধ্যে এস-৪০০ পুরোপুরিভাবে স্থাপনের আশা করেছেন তিনি।

তুরস্ক আড়াইশ কোটি ডলার ব্যয়ে রাশিয়ার অত্যাধুনিক এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা ছাড়াও এ ব্যবস্থার প্রশিক্ষণ নেয়ার জন্য নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ওই অঞ্চলে ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে না।

তারা বলছেন, এফ-৩৫ জঙ্গি বিমান এবং এস-৪০০ ব্যবস্থা কাছাকাছি থাকা ঠিক না। এতে রুশ টেকনিশিয়ানদের এফ-৩৫ এর দুর্বলতা খুঁজে বের করে ফেলতে পারার আশঙ্কা আছে।

তুরস্ক রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিলে তাদেরকে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বের করে দেয়াসহ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

 

কিউএনবি/বিপুল/১৮ই জুলাই, ২০১৯ ইং/রাত ১২:১৭

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন