২১শে জুলাই, ২০১৯ ইং | ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | রাত ২:০১

মুন্সীগঞ্জে সাত বছরের শিশুর গায়ে সিগারেটের ছ্যাঁকা!

 

শেখ মোহাম্মদ রতন, মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় সিয়াম নামের সাত বছর বয়সী এক শিশুকে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগে মনির নামের এক যুবককে সালিশ বৈঠকে একই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।গত মঙ্গলবার (২ জুলাই) উপজেলার কবুতরখোলা গ্রামে ঘটা এ ঘটনার ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।সিয়াম লৌহজং উপজেলার যশলদিয়া গ্রামের অজিত শেখের ছেলে এবং নূরবাগ ইসলামিয়া মাদ্রাসার ছাত্র। আর মনির একই গ্রামের আমির ঢালীর ছেলে।পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকালে নিজ বাড়ির আঙিনায় খেলা করছিল সিয়াম। এর কিছুক্ষণ পর তার আর কোনও খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। পরে বাড়ির পাশের জঙ্গলে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া গেলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিয়ামের পরিবারের অভিযোগ, আইসক্রিম কিনে দেওয়ার কথা বলে সিয়ামকে ডেকে নিয়ে যায় মনির ও হান্নান। পরে তারা তাকে সিগারেটের আগুনের ছ্যাঁকা দেয়।এতে সিয়াম অজ্ঞান হয়ে যায়।

পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় গত বুধবার (৩ জুলাই) রাতে সিয়ামের মা রহিমা বেগম বাদী হয়ে লৌহজং থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। পরে মনিরকে গ্রেফতার করা হয়। গত শুক্রবার (৫ জুলাই) দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।সিয়ামের পরিবার জানায়, আইসক্রিম দেওয়ার কথা বলে সিয়ামকে ডেকে নিয়ে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়েছে মনির। এ ঘটনায় মামলা করলে পুলিশ মনিরকে গ্রেফতার করে।পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারেও পাঠানো হয়।

এদিকে, মনিরের ভাই মো. আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, এক শিশুকে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগে কালাম মেম্বারের (মেদেনীম-ল ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার) নেতৃত্বে সালিশে আমার ভাইকে অভিযুক্ত করে ২০টি বেতের বাড়ি মারা হয় এবং ছয়বার সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, সালিশে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও তিনদিনের মধ্যে গ্রাম ছাড়তে বলা হয়। তিনি আরও বলেন, আমরা এই বিচার মেনে নিয়ে চলে আসার পর আবার মামলা দিয়ে আমার ভাইকে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।’

তিনি বলেন, যারা সালিশে এ শাস্তি দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার মতো অবস্থা আমাদের নেই। তবে যেহেতু একবার মনিরকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, এবার তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করলে আমরা খুবই উপকৃত হই।ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সালিশে কালাম মেম্বারের নির্দেশে এক ব্যক্তি একটি সিগারেট জ্বালান। এরপর তা কালাম মেম্বারের হাতে দেওয়া হয়।কালাম মেম্বার সেই সিগারেট অন্য একজনের হাতে দিয়ে এর আগুনে মনিরের পিঠে ছ্যাঁকা দিতে বলেন।

এরপর সবার সামনেই মনিরের পিঠে সিগারেটের আগুনে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য কালাম মেম্বারের মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল দেওয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।এ ব্যাপারে লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) জাহাঙ্গীর হোসেন খান বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে মনিরকে গ্রেফতার করে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে সালিশের ব্যাপার আমাদের জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিউএনবি/রেশমা/১০ই জুলাই, ২০১৯ ইং/রাত ৮:২২