২১শে জুলাই, ২০১৯ ইং | ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | রাত ২:৪৬

লেবু আর সরুপথের আমালফি উপকূল

 

ডেস্ক নিউজ : ইতালির পশ্চিম উপকূলে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি অংশের নাম আমালফি কোস্ট। স্থানীয় নাম ‘কোস্তিয়েরা আমালফিতানা’। প্রতি গ্রীষ্মে এখানে টুরিস্ট আসেন পরিবেশ, আতিথেয়তা ও ‘লেমন লিকার’-এর স্বাদ নিতে। ১৬টি পৌর এলাকা মিলে এই আমালফি কোস্ট। এর মধ্যে পোসিতানো হল সবচেয়ে বিখ্যাত। সবচেয়ে সুন্দরও। ৪ হাজার মানুষের বাস এখানে। গ্রীষ্মে টুরিস্ট আসে তার দশগুণ।

পোসিতানোর একটি ছোট্ট সৈকতে আছে ‘দা আদলফো’ রেস্তোরাঁটি। প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ১৯৬৬ সালে। সমুদ্রসৈকতের একটি ছোট্ট বার থেকে আজ তা হয়ে উঠেছে সেলিব্রিটিদের প্রিয় এক রেস্তোরাঁ। টপ মডেল নাওমি ক্যাম্পবেলও অতিথি হয়েছেন এখানে। ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর পোসিতানো বিখ্যাত হয়ে ওঠে। এটা ছিল মিত্রশক্তির সৈন্যদের বিশ্রাম ও মনোরঞ্জনের জায়গা। জেলেদের গ্রাম থেকে রিসোর্ট হয়ে ওঠে পোসিতানো।

আমালফি উপকূলের নাম আমালফি পৌর এলাকার নাম থেকে। সেই আমালফির ইতিহাস নাকি খ্রিস্টজন্মের চার শতাব্দী আগে পর্যন্ত চলে গেছে। চাষের জমির অভাবে এখানকার মানুষ গোড়া থেকেই সমুদ্রযাত্রা আর ব্যবসা-বাণিজ্যের দিকে ঝুঁকেছিলেন। নবম শতাব্দীতে আমালফি একটি স্বতন্ত্র প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়।

সেখান থেকে প্রতীচ্য অবধি বাণিজ্য চলত। আরব প্রভাব আমালফির স্থাপত্যে আজও চোখে পড়ে। আমালফির সংকীর্ণ গলি দেখলে মদিনার কথা মনে পড়ে। বাণিজ্যের পথ ধরে হাজার বছর আগে লেবুগাছ এসেছিল আমালফি উপকূলে। আজ আমালফি উপকূলের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল ‘লিমনচেলো’- লেবু থেকে তৈরি লিকার। আমালফি শহরের আশপাশের পাহাড়িতে লেবুর চাষ হয়। এই বিশেষ ধরনের লেবুর বিশেষত্ব হল, এর খোসায় উচ্চমানের তেল পাওয়া যায়। লেবু সম্পর্কে স্থানীয় অনেকেই মনে করেন, তাদের পূর্বপুরুষরা বুঝতেন লেবুর উপকারিতা কী ও কতটা।

আগে তারা সব কিছুতে লেবু ব্যবহার করতেন। স্কার্ভি রোগ সারাতে, জ্বর সারাতে, কাপড় পরিষ্কার করতে, চুল ধুতে লেবুর ব্যবহার ছিল। আজও হাত কেটে গেলে তারা অ্যালকোহল না দিয়ে লেবুর রস দেন। কফিতে লেবুর খোসা দিলে মাথাব্যথা সারে। লেবু আসলে ওষুধ। লেবু হল সোনার মতো দামি। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো আমালফি উপকূলকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার বলে ঘোষণা করেছে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৯ই জুলাই, ২০১৯ ইং/রাত ৯:৫১