২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:৫২

ভ্রমণের শেষ দিনে ভয়ঙ্কর স্মৃতি

 

ডেস্ক নিউজ : গিয়েছিলাম বেড়াতে সুইডেনের বাইরে। ছোট দুই ভাই বাংলাদেশ থেকে বেড়াতে এসেছে। তারা সেনজেন ভিসায় এসেছে। এদিকে সময় তাদের কম। এখন এই অল্প সময়ে তাদেরকে দেখাতে হবে ইস্ট এবং ওয়েস্টের মধ্যে পরিবর্তনের ছোঁয়া তাও দ্রুততার সঙ্গে। তাদের পছন্দের দেশগুলো ছিল ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস, জাহাজে বাল্টিক সাগর পাড়ি দিয়ে লাটভিয়ার রাজধানী রিগা ভ্রমণ, পথে এস্তেনিয়ার এক পলক দর্শন পরে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্ট এবং সবশেষে সুইডেনের বিভিন্ন জায়গাসহ রাজধানী স্টকহোম ভ্রমণ।

এবারের ভ্রমণে জড়িত রয়েছে নতুনের সঙ্গে পুরাতনের মিশ্রণ এবং সঙ্গে প্রযুক্তির বিবর্তন। আমাদের ভ্রমণের সময়টি ছিল আন্তরিকতায় ভরা। ভ্রমণে ঘটেছে অনেক কিছু। তবে সব কথা বলা হবে না কোনদিন। তবুও ঘটে যাওয়া ঘটনা থাকবে হৃদয়ে শিক্ষণীয় হয়ে। তুলে ধরব আজ ভ্রমণের শেষের দিনগুলোর কিছু অংশ।বুদাপেস্ট হাঙ্গেরির রাজধানী ও বৃহত্তম শহর দানিউব নদীর উভয় তীরে অবস্থিত। শহরটি পূর্ব-মধ্য ইউরোপের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। দানিউব নদী ইউরোপ মহাদেশের অন্যতম প্রধান পরিবহন পথ। ইউরোপের প্রধান নদীগুলোর মধ্যে কেবল দানিউবই পূর্ব-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়েছে।

আর উপভোগ করছে রাতের আঁধারে দানিউব নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা বুদাপেস্ট শহরকে। হঠাৎ একটি বোটের সঙ্গে লঞ্চের ধাক্কা লেগে পুরো লঞ্চ ক্ষণিকের মধ্যে ডুবে গেলো। রাত দশটা বাজে, বেশ অন্ধকার তারপর দানিউব নদীতে প্রচুর স্রোত এবং এর পানি ঘোলা। মূহুর্তের মধ্যে ডুবন্ত লঞ্চ স্রোতে কোথায় হারিয়ে গেলো।পরে সারা রাত নানা ধরনের তল্লাশির পর চারজনকে জীবন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকি পর্যটকদের মৃতদেহ দানিউব নদী থেকে উদ্ধার করতে কর্তৃপক্ষ সক্ষম হয়েছে বটে; তবে চারজনের খোঁজ এখনও মেলেনি। লঞ্চে সর্বমোট ৩১ জন পর্যটক ছিল। কী কারণে ধাক্কা লেগেছিল তা পুরোপুরি সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

আমাদের ভ্রমণের শেষের দিন আমরা লঞ্চে উঠে দানিউব নদীর দুই পাড়ে গড়ে ওঠা সৌন্দর্যকে উপভোগ করছি। ঠিক তেমন একটি সময় ঘটনাটির বর্ণনা দিলো একজন সহযাত্রী। সে প্রত্যক্ষভাবে ঘটনাটি দেখেছে। স্বল্প সময়ে অনেক কিছু দেখার সঙ্গে ঘটে যাওয়া এক করুন মর্মান্তিক ঘটনা যা সে বর্ণনা করল।শুনতেই গা শিউরে উঠলো। একই সঙ্গে মনটাও ভেঙ্গে গেলো। সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত হয়ে গেলো। আমাদের লঞ্চ ভ্রমণ শেষে নৈশভোজ সেরে হোটেলে এসে ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে বিমান বন্দরে এসে চেকিংয়ের পর্ব শেষ করে প্লেনে বসেছি। প্লেন ছাড়তেই যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে হঠাৎ থেমে গেলো প্লেন।

কী ব্যাপার? কিছুক্ষণ পর খবর পেলাম এই প্লেন বদলাতে হবে। তারপর অন্য একটি প্লেনে করে সুইডেনের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। ল্যান্ড করার বিশ মিনিট আগে হঠাৎ প্লেন ফল ডাইন করতে শুরু করল। পুরো প্লেন মনে হচ্ছিল অকস্মাৎ মাটিতে পড়ে যাচ্ছে। সে যে কি এক ভয়ংকর মুহূর্ত যা শুধু অনুভব করেছে তাঁরাই যারা প্লেনের মধ্যে ছিলো।পাইলট প্লেনটি তাঁর নিয়ন্ত্রণে এনে যাত্রীদের উদ্দেশ্যে ঘটনার বর্ণনা দিলেন। জীবনে প্লেনে চড়ে দেশ দেশান্তর ঘুরেছি, এমনটি ঘটেনি এর আগে কখনও। শেষ ভালো যার, সব ভালো তার- তাই ল্যান্ডিং শেষে মনে হলো এখনও দেহে প্রাণ আছে! পরম করুণাময় আল্লাহ রাব্বুল আলআমিন একটু জানিয়ে দিলেন তিনি যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন।

ফিরে এলাম বাড়িতে প্রিয়জনদের কাছে। সবাই একটু চিন্তিত ছিল দূর্ঘটনার জন্য। মনে হচ্ছে নতুন করে বেঁচে থাকার জন্য জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পেয়েছি।সবাই ফিরেছি শুধু ফেরেনি দক্ষিণ কোরিয়ার ২৭ জন পর্যটক; যারা প্রাণ হারিয়েছে দানিউব নদীতে। সোহেল (মিজানুর রহমান সোহেল, যুগান্তর অনলাইন বিভাগের প্রধান) কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশে চলে গেছে। আজ প্রদ্যুৎ (প্রদ্যুৎ বরণ চৌধুরী, অ্যাডল কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) চলে গেলো। দেখে গেলো অনেক কিছু আর রেখে গেলো কিছু স্মৃতি। রাত বেশ হয়েছে। কাল সকালে যেতে হবে আন্তালিয়ায়। আন্তালিয়া তুরস্কের ভুমধ্যসাগরীয় পর্যটন এলাকা।

রহমান মৃধা, দূরপরবাস তুরস্কের পথে, rahman.mridha@gmail.com

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৬ই জুন, ২০১৯ ইং/সন্ধ্যা ৬:০৫