২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:৪১

মাদারীপুরে প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে পুরুষ শূণ্য একটি এলাকা

 

আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাদারীপুর প্রতিনিধি : মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের খাতিয়াল গ্রামে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এতে প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে ওই গ্রামের একটি বাড়ি পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়েছে। প্রভাবশালী মহলের চাপে মুখ খুলতেও ভয় পাচ্ছেন তারা। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, খাতিয়াল গ্রামে গত ৯ জুন বিকেলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় সাহাবুদ্দিন মোল্লার ঘরবাড়িসহ আশপাশের ১২টি ঘরবাড়ি কুপিয়ে ও লুট করে একই গ্রামের কতিপয় দুষ্কৃুতিকারী। ঘটনার দিন অতর্কিত হামলা চালিয়ে সাহাবুদ্দিন মোল্লা, খলিল মোল্লা, মোশারফ মোল্লা, গিয়াস উদ্দিন মোল্লা, সাহেব আলী চৌধুরী ও কালু মোল্লার ঘরসহ ১২টি ঘর বাড়ি ভাংচুর করে একই এলাকার প্রভাবশালী শাহ আলম মাতুব্বর, বিল্লাল জমাদ্দার, আনোয়ার জমাদ্দার, মোকসেদ সরদার ও ছিরুল মল্লিকের লোকজন।

এই ঘটনায় আহত হয় বিলকিস বেগম (৩০), আমিরুন বেগম (৫০), মামুন মোল্লা, দেলোয়ার ফকির (৫০) সহ অনেকে আহত হয়। পরে তাদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করতে গেলে বালিগ্রাম ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন হাংলাদার ক্ষমতা প্রয়োগ করে চিকিৎসা নিতে বাধা দেয়ার অভিযোগ আছে।ভুক্তভোগী বিককিস বেগম, ‘আমরা মহিলারা কি দোষ করছি, আমাদের ঘর-বাড়ী কি দোষ করছে, আমরা মহিলা বলেও আমাদের গায়ে হাত দেয়া বাদ দেয়নি, লজ্জার কথা কি বলবো।মোশারফ বলনে, আমি ভ্যান চালিয়ে খাই, হঠাৎ করে অনেকগুলো লোক এসে আমার ঘরসহ অন্য ঘরগুলো কুপাতে থাকে, আমি ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলে দরজা খুলতে না পেরে ঘরের বাহিরে কুপিয়ে অন্যদিকে চলে যায়।আমি এর বিচার চাই।’ বৃদ্ধ আবু হাওলাদার বলেন, আমি নিজের চোখে দেখছি আমার ছেলেকে কিভাবে মারধর করছে, আমি ভিক্ষা করে, পাচদুয়ারে চাইয়া খাই, আমার ঘর- দুয়ার কুপাইয়া শেষ কইরা ফেলছে। আমার ছেলেটা বদলা দিয়ে খায়, সেটাও বন্ধ করছে তাদের আত্মীয়দের দিয়ে। আমি এর বিচার চাই।

এ ব্যাপারে গিয়াস উদ্দিন হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ ঘটনা শুনেছি। আমি এর সাথে জড়িত না। আমি এখন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছি।’এ ব্যাপারে ডাসার থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া জানান, ‘দুই পক্ষেরই মামলা হয়েছে। পুলিশ মোতায়েন আছে। ঘটনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আছে।’এব্যাপারে সহকারি পুলিশ সুপার বদরুল মোল্লা বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আর যদি পুরুষ বা মহিলাদের কেউ হুমকি দিয়ে থাকে, আর যদি তা সত্য হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৪ই জুন, ২০১৯ ইং/রাত ৯:৫৫