২২শে আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৭ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | রাত ৩:৫৪

অসুস্থ রিজভী বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ

 

ডেস্ক নিউজ : নয়া পল্টনের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রধান ফটকে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা তালা লাগিয়ে দেয়ায় অবরুদ্ধ হয়ে আছেন গুরুতর অসুস্থ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয় বিক্ষুব্ধরা।

ফলে কার্যালয়ের ভেতরে আটকিয়ে পড়া নেতা-কর্মীরা এক অসহনীয় অবস্থায় আছেন। বিকাল ৬টার পর কিছুক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে অবশ্য মাগরিবের নামাজের সময়ে বিদ্যুৎ চালু করা হয়।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় দফতরের একটি ছোট কক্ষে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বিছানায় শুয়ে আছেন। তার ডান হাত দিয়ে স্যালাইন লাগানো হয়েছে।

অবরুদ্ধ অবস্থায় মোবাইলে রিজভী বলেন, আমার কথা বলতে অসুবিধা হচ্ছে। আমি অসুস্থ। মুখে খেতে পারছি না। বমি হচ্ছে। এখন স্যালাইনে সব কিছু হচ্ছে। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা আমাকে দেখতে আসতে পারছেনা। আমি খুব কষ্টে আছি। কারণ আমার ছোট ভাইদের কারণে অফিসে তারা (ডাক্তররা) ঢুকতে পারছেন না। এখানে থেকে টেলিফোনে ডাক্তারের সাথে কথা বললে সবকিছু করা হচ্ছে।

যে চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম রাতে অনেকক্ষণ থাকার পর ভোরে বাসায় চলে যান। একজন স্বাস্থ্য কর্মী এখন কার্যালয়ে আছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় দফায় রুহুল কবির রিজভী দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। এখানে তিনি দুই বেলা খাবার রান্না করে খান। রাতে ঘুমও সেই জরাজীর্ণ একেবারে ছোট একটি কক্ষে। বিগত বছরের রোজা ও কুরবানী এবং এবছর রোজার ঈদও করেছেন রিজভী এই অফিসেই। তার স্ত্রী আনজুমান আরা লাইলি ঈদের দিন খাবার রান্না করে স্বামীর জন্য নিয়ে আসেন।

কেনো দলীয় কার্যালয়ে তাকে থাকতে হয়? এরকম প্রশ্নের খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশেই রিজভীকে দলীয় কার্যালয়ে থাকতে হচ্ছে। একবছর আগে ব্যাপক হারে নেতাদের গ্রেফতারের পরিপ্রেক্ষিতে রিজভীকে দলীয় কার্যালয়ে থাকার জন্য বলা হয়। প্রতি সপ্তাহে এক-দুইদিন স্ত্রী খাবার রান্না করে নিয়ে আসেন অথবা বাসার কাউকে দিয়ে পাঠিয়ে দেন।

এই একবছরের মধ্যে অনেক সময়ে প্রয়োজনে দলের বক্তব্য দিতে রিজভীকেই সংবাদ সম্মেলনে দেখা গেছে। সেটা সকালেই হোক অথবা রাতে হোক। দলের অনেক প্রেস রিলিজও রিজভীর স্বাক্ষরে যায়।

রিজভী আক্ষেপের সুরে বলেন, আমি খুব অসুস্থ। কথা বলতে পারি না। উঠেও দাঁড়াতে পারছি না। আমি যা কিছুই এখানে থেকে করতে হচ্ছে তা দলের সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশে হচ্ছে। আমার ব্যক্তিগত কোনোকিছু এখানে নেই। সিনিয়র নেতারা যেসব সিদ্ধান্ত নেন সেটা যদি সিদ্ধান্ত হয় তা নির্দেশ পেলেই আমি আপনাদের (গণমাধ্যমকে) বলি। এখন আপনার অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বুঝতেই পারছেন আমি কথা বলার মতো শক্তি পাচ্ছি না। গতকাল থেকে খাবার পেটে থাকে না। স্যালাইনে এই তরল খাবারে তো শক্তি আসে না, প্রাণের স্পন্দনটা শুধু সচল থাকে মাত্র।

স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গুলিতে রিজভী পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। সেই আহতের ক্ষত এখনো বহন করে চলেছেন তিনি। তার পায়ে হাড় ভাঙা থাকার কারণে তিনি লাঠি ছাড়াও হাঁটতে পারেন না।

গত ৩ জুন মেয়াদোত্তীর্ণ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি বাতিলের ঘোষণা দিয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। এতে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ একটি অংশ মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। তারা অফিসের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। বিক্ষুব্ধরা ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার এবং বিজ্ঞপ্তির স্বাক্ষরকারী রিজভীর বিরুদ্ধে নানারকম বিদ্রুপাত্মক স্লোগান দেয়।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে রিজভী বলেন, আমি দলের নেতার নির্দেশে কাজ করি। এখানে আমার তো কি করার আছে? দলের সর্বোচ্চ লেভেল যেসব সিদ্ধান্ত হয় যা জানাতে বলা হয়, আমি আদেশ মান্য করি। এখানে আমার আর কিছু বলার নেই।

প্রসঙ্গত, ১/১১’র সময়ে দলের মহাসচিব আবদুল মান্নান ভুঁইয়ার নেতৃত্বে যখন সংস্কারপন্থিরা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তখন রুহুল কবির রিজভী মূলদলের পক্ষে কাজ করেন। এখনো প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছেন রিজভী। সেখানে থেকেই দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে অসংখ্য বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন তিনি। রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে দলীয় প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে।

 

 

 

কিউএনবি/রেশমা/১১ই জুন, ২০১৯ ইং/রাত ৯:৩৯