২১শে মে, ২০১৯ ইং | ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:৩৪

ঋণ খেলাপিদের তালিকা না দিলে পরিণতি ভোগ করতে হবে: হাইকোর্ট

 

ডেস্ক নিউজ : গত ২০ বছরে এক কোটি টাকার ওপরে ঋণ খেলাপিদের তালিকা, কী পরিমান ঋণের সুদ মওকুফ করা হয়েছে, ঋণের সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে যে অনিয়ম চলছে তা বন্ধে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- তার তথ্য আগামী ২৪ জুনের মধ্যে দাখিল করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই তথ্য দাখিল করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সময় চেয়ে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহষ্পতিবার এ আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ তালিকা দাখিল না করলে পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেই জানিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহষ্পতিবার এ আদেশ দেন। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা রিট আবেদনের ওপর শুনানির ধারাবাহিকতায় গতকাল এ আদেশ দেওয়া হয়। এইচআরপিবি’র করা এক রিট আবেদনে হাইকোর্ট গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে ঋণ খেলাপির তালিকা দাখিলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি নির্দেশ দেন।

একইসঙ্গে রুল জারি করেন। রুলে আর্থিক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন, ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম,  বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, সিটি ব্যাংকের সাবেক সিইও মামুন রশিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধির সমন্বয়ে কমিশন গঠনের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং এই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দুই সচিব, আইন সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। 

এই আদেশের পরও ঋণ খেলাপির তালিকা দাখিল না করায় গত ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ১৫ দিনের মধ্যে তালিকা দাখিল করার নির্দেশ দেন। এ অবস্থায় গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিরুজ্জামান আদালতকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী আইনগতভাবে তাদের এই তালিকা দাখিল করার এখতিয়ার নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান রিট আবেদনকারীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তিনি আদালতকে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী আদেশ দেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে হাইকোর্টের। এরপর আদালত অবকাশের পর আদালত খোলার এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৭ই মে, ২০১৯ ইং/ সন্ধ্যা ৭:৫৬