১৬ই জুলাই, ২০১৯ ইং | ১লা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১২:২৫

চৌগাছায় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশ ছোঁয়া

 

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোর চৌগাছায় মাছ মাংস তরিতরকারিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশ ছোঁয়া। উপজেলা পর্যায়ে টিসিবির মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য বিক্রি করার পরিকল্পনা খাতা কলমে থাকলেও বাজারে দেখা নেই।চিত্র মাহে রমজানে দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

উপজেলা প্রশাসন ও পৌর সভার পক্ষ থেকে বাজারে-বাজারে মাইকিং করে ব্যবসায়ীদেরকে দ্রব্যমূল্যের তালিকা তৈরী করে দোকানে ঝুলিয়ে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাতেগুনা কয়েক জন ছাড়া তা মানছেন না ব্যবসায়ীরা। আবার কোন-কোন ব্যবসায়ী মূল্য তালিকা বোর্ড ঝুলিয়ে রাখলেও তাতে দ্রব্যের সঠিক মূল্য লেখা নেই।

এদিকে গরীব-দুস্থদের ১০ টাকা কেজি চালসহ সরকারের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে গরীব-দুস্থসহ সাধারণ মানুষদের সংসার চালাতে দারুণ ভাবে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পবিত্র মাহে রমজান মাসে চৌগাছা বাজারের দৃশ্যপট রাতারাতি পাল্টে গেছে।রাতারাতি বেড়ে গেছে রমজানের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দাম।কয়েকদিনের ব্যবধানে মাছ, মাংস ডিম,ডাল, ছোলা, মুড়ি, ময়দা, বেশম কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। পাশাপাশী ভোজ্যতেল, রসুন, বেগুন, কাঁচা মরিচসহ তরিতরকারির দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক।

মঙ্গলবার সরজমিনে উপজেলার চৌগাছাসদর, সলুয়া, পুড়াপাড়া, ধুলিয়ানী, সিংহঝুলী, হাকিমপুর, পাতিবিলা বাজারসহ অন্যান্য বাজার ঘুরে জানা গেছে, বাজার গুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম রাতারাতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এলসি চিনি ৫২ টাকা থেকে বৃদ্ধি হয়ে এখন ৫৬ টাকা। ময়দা ও বেশমের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে অনেকটাই। এছাড়া মুরগী, গরুও ছাগলের মাংস এবং মাছের দাম সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।

এ সময় চৌগাছা বাজারে বাজার করতে আসা একাধিক ব্যাক্তির সাথে কথা বললে তারা জানান, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বাজারে এসেছিলাম ইফতারীর উপকরণ ছোলা, চিড়া, মুড়ী, সেমাই, চিনি, বেশম ও ফলফলাদী সদায় করতে।কিন্তু বাড়ি থেকে যে পরিমান টাকা এনেছিলাম তাতে বাজারের অর্ধেকও হয়নি।উপজেলার পেটভরা গ্রামের ভ্যান চালক কমেদ আলী বলেন মাছ, মাংস তরিতরকারির যে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।

অন্যদিকে সব্জির বাজারেও কয়েক দিনের ব্যবধানে বেগুন, শশা পটল কেজিপ্রতি ১০/১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। লাউ প্রতিপিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০/৪০ টাকায়। প্রতি কেজি বেগুন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫৫/৬০ টাকায়। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৯০/১০০ টাকা। এদিকে গরু মাংস ৫শ ৪০ টাকা, খাসি ৭শ ৩০, দেশি মুগরী ৪শ ৮০ টাকা, সোনালী মুরগী ২শ ৯০ টাকা, পোল্ট্রি ১শ ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে এ সমস্ত মাংস কেজিতে ৮শ থেকে ৯ গ্রাম ওজনে পাওয়া যায়। প্রতিকেজিতে ১শ থেকে দেড়শ গ্রাম কমদিয়ে থাকেন দোকানিরা।

এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফুল আলম জানান আমাদের এখানে টিসিবি কোন পণ্য বিক্রি হচ্ছে না।অতিসম্প্রতি আমি নিজে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য বিক্রি, খোলা বাজারে ইফতারি সামগ্রী বিক্রি ও মূল্য তালিকা না টাঙানোর অপরাধে চার ব্যবসায়ীকে ১২ হাজার ৫শ টাকা জরিমানা আদায় করেছি।

 

 

কিউএনবি/রেশমা/১৫ই মে, ২০১৯ ইং/বিকাল ৩:৫৫