১৬ই জুলাই, ২০১৯ ইং | ১লা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:০০

কষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি হত্যাকান্ডকে ঘিরে অর্ধশত বিঘা জমির কলাক্ষেত কর্তন : বাড়ি-ঘর ভাংচুর

 

সাইদুল আনাম,কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি হত্যাকান্ডকে ঘিরে অর্ধশত বিঘা জমির কলাক্ষেত ও মেহগনি বাগান কেটে প্রায় অর্ধকোটি টাকার সম্পদ ভূমিষ্মাত করা হয়েছে।বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়েছে।পুলিশের নীরব ভূমিকার কারনে হত্যাকান্ড পরবর্তী এ তান্ডবলীলা চলেছে। এদিকে গ্রেপ্তার আতংক ও পুলিশি নির্যাতনের ভয়ে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে একটি গ্রাম। উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের বিসিকে গ্রামে ও ছাতারিপাড়া মাঠে এ তান্ডবলীলা চালানো হয়।

ভূক্তভোগিদের অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, বুধবার (৮মে) বিকেলে কলাগাছ কাটা নিয়ে মরিচা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ আলমগীরের বাড়িতে দুই পক্ষ শালিসে বসেন। এর একপর্যায়ে একপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে শালিসে থাকা মহিবুল মন্ডল (৩০) নামে এক যুবককে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুষ্টিয়া হাসপাতালে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়।ঢাকায় নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে মহিবুল মন্ডল মারা যায়।

মহিবুল মন্ডলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ছাতারিপাড়া মাঠে কৃষক জাহাঙ্গীর আলম, পল্টু, শামীম হোসেন ও জাকিরুল ইসলমসহ ১০-১২ জন কৃষকের ৫০ বিঘারও বেশী জমির কলার কাদিসহ কলাক্ষেত কেটে ও মেহগনি বাগানের মেহগনি গাছ কেটে ভূমিষ্মাত করে নিহতের পক্ষের লোকজন।তৎক্ষনাত ফসল কর্তনের বিষয়টি দৌলতপুর থানা পুলিশকে জানানো হলেও উল্টো দৌলতপুর থানা পুলিশ ওইসকল ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুরের তান্ডবলীলা চালিয়ে সব ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। ফলে পুলিশি আতংকে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়ে গ্রাম। সোমবার সকালে বিসিকে গ্রামে সরোজমিনে গিয়ে পুরুষ শূন্য অবস্থা ও বাড়ি-ঘর ভাংচুরের দৃশ্য চোখে পড়ে।

আতংকগ্রস্থ দুই একজন নারীকে এলাকায় দেখা গেলেও তাদের চোখে মুখে আতংক ও উৎকন্ঠার ছাপ লক্ষ্য করা যায়। রমেলা খাতুন ও মর্জিনা বেগম নামে দু’জন নারীর সাথে কথা বলে জানাযায়, মহিবুল নিহত হওয়ার পর দৌলতপুর থানা পুলিশ তাদের বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে এবং ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। বর্তমানে তারা বাড়ি-ঘর ছাড়া অবস্থায় রয়েছে। পরে ছাতারিপাড়া মাঠে গিয়ে দেখা যায় কেটে ভূমিষ্মাত করা প্রায় পুরো মাঠ জুড়ে কলা ক্ষেত কর্তনের দৃশ্য।

তবে কলা ক্ষেত কর্তনের বিষয়ে নিহত মহিবুলের ফুপাত ভাই সিরাজুল ইসলাম বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য নিজেরা নিজেদের কলাবাগান কেটে আমাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।মহিবুল হত্যাকান্ড পরবর্তী সহিংসতা ও ফসল কর্তনের বিষয়ে মরিচা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলমগীর বলেন, আমরা হত্যাকান্ডের বিচার চাই। প্রকৃত যারা দোষী তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক এবং হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক।

পাশাপাশি হত্যাকান্ড পরবর্তী ফসলহানি বা ফসল কর্তন যারা করেছে তাদের চিহ্নিত করে বিচার করা হোক।এদিকে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় মহিবুল হত্যাকান্ড ও ফসল হানির বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।হত্যাকান্ডের মামলার তদন্তকারী কর্তকর্তা দৌলতপুর থানার উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানান, হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দুইজন এজাহার নামীয় আসামী গ্রেপ্তার হয়েছে।বাঁকী আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলামান রয়েছে। কলাক্ষেত কর্তন ও বাড়ি-ঘর ভাংচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, হত্যাকান্ড সংঘঠিত হওয়ার পর কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছিল।ক্ষেতের কলা উদ্ধার করে মালিকপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।

কিউএনবি/রেশমা/১৩ই মে, ২০১৯ ইং/বিকাল ৫:৩৯