ব্রেকিং নিউজ
২৬শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং | ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:০৩

সপ্তাহখানেক ধরে বাসায় পানি নাই

 

ডেস্ক নিউজ : আজিমপুর। ভাবির বড় বোনের বাসা।  সকালে ঘুম ভাঙে শাওয়ারের পানিতে। দেখি ভাবির দুলাভাই আমাকে পাজা কোলে নিয়ে শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে। দ্রুম করে বাথরুমে নামিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত গোসল করতে হবে; আর মিনিট দশেক পানি থাকবে।

রুমের দিকে তাকিয়ে দেখি বড় বিয়াইন বালতি, পাতিল, কলস, মগ সব কিছুতে পানি ভরছেন।  ওই এলাকায় তখন পানির খুব আকাল; দিনে-রাতে শুধু একবারই পানি পাওয়া যেত! রামপুরা, টিউলিপের গলি। ফুপাতো ভাইয়ের বাসা।  ভোরের দিকে টয়লেটে গিয়ে দেখি পানি নাই। লাইনেও নাই; বালতিতেও নাই! বসে আছি তো আছিই! বাইরে থেকে কেউ নক করলে বলবো পানি দিতে। কিন্তু কেউ নকও করছে না।

এমন মসিবত! যে ওই টয়লেটে টিস্যুও ছিলো না।  ঘণ্টা তিনেক পর ফুপাতো ভাই এর কণ্ঠ শুনতে পাই। তিনি ঘুম কণ্ঠে বলছেন, টিস্যু আর এক বালতি পানি রেখে গেলাম বাইরে।   কালশি, মিরপুর। সহপাঠীদের মেস।  ভোরে প্রচণ্ড পানি পিপাসা পেয়েছে। সহপাঠীর কাছে পানি চাইলাম; বাসায় কোনো পানি নেই। না বাথরুমে যাওয়ার না খাওয়ার।

পাঁচতলা থেকে নিচে নেমে দোকান খুঁজি; ওই টাইমে কোনো দোকানও খোলা নাই।  আবারও বাসায় উঠি। পাশের ফ্ল্যাটে নক করি, এক ভদ্র মহিলা দরজা খুলেন।  হাপাতে হাপাতে বলি, আন্টি এক বোতল খাওয়ার পানি দিবেন? ঘটনাগুলো প্রায় ১৮ বছর আগের।

এখন হয়তো আজিমপুরের কেউ কাউকে ঘুম থেকে উঠে দেখতে হয় না; সে দাঁড়িয়ে আছে শাওয়ারের নিচে! এখন হয়তো রামপুরায় বাথরুমে গিয়ে পানি না থাকার জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতিতে কেউ পড়ে না। এখন হয়তো মিরপুরের কেউ খাওয়ার পানির জন্য পাশের বাসায় নক করে না!

কিন্তু আজ সপ্তাহখানেক যাবত আমার বাসায় পানি নাই। আরও-ইউভি ফিল্টার, ওয়াশিং মেশিন বন্ধ। পানি কিনে খাচ্ছি; ওয়াশ রুমের পানি টেনে আনছি।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৬ই এপ্রিল, ২০১৯ ইং /সন্ধ্যা ৭:১৬