১৭ই জুলাই, ২০১৯ ইং | ২রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৭:১৩

পাথরঘাটায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ধর্ষণে থানায় মামলা

 

ডেস্ক নিউজ : বরগুনার পাথরঘাটায় অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল ওই শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে পাথরঘাটা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।  গত বৃহস্পতিবার উপজেলার পশ্চিম বাদুরতলা গ্রামের জলিল প্যাদা নামে এক যুবক পার্শ্ববর্তী দক্ষিন হাড়িটানা গ্রামের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে হরিনঘাটা বনে ঘুরতে নিয়ে যায়। এ সময় গহীণ বনে শিক্ষার্থীকে নিয়ে ধর্ষণ করে জলিল প্যাদা।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পুলিশের সহায়তায় হাসপাতালে নিয়ে আসে। এ সময় ধর্ষণের শিকার মেয়েটি পুলিশকে জানায় বেলাল নামে এক ছেলে তাকে ধর্ষণ করেছে। পুলিশ দিনভর অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ বেলাল নামে কাউকে পায়নি। পরে পুলিশ ওই এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারে বেলালের আসল নাম জলিল।  জানা গেছে, এক মাস আগে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের শাহজাহান প্যাদার ছেলে জলিল প্যাদার সঙ্গে ওই ছাত্রীর মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়। জলিল তার পরিচয় গোপন করে বেলাল পরিচয় দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। ঘটনার দিন হরিণঘাটা বনে ঘুরতে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এ অবস্থায় ঘটনাটি দেখে ফেলে ওই এলাকার ট্রলার চালক আলতাফ হোসেন। তখন আলতাফ হোসেনও তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।

এ সময় ধর্ষণের শিকার মেয়েটি তাদের কাছ থেকে পালিয়ে জঙ্গল থেকে গ্রামের দিকে আসে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ধর্ষণের শিকার মেয়েটি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।  ভুক্তভোগী মেয়েটি কিংবা তার পরিবারের কোন সদস্য মামলা করতে আসেনি। পুলিশ তাদের মামলা করতে বলে এবং আইনি সহয়তার আশ্বাস দেয়। এক পর্যায় মেয়ের মা বাদী হয়ে পাথরঘাটা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর মা জয়নব জানান, ‘আমার মেয়ে ধর্ষিতা হয়েছে। আমি বিচার পাব না বলে কোন মামলা করতে রাজি ছিলাম না। পরে পাথরঘাটা থানার ওসি জোর করে আমাকে মামলা করাতে বাধ্য করেন।’ এ ব্যাপারে পাথরঘাটা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. হানিফ সিকদার বলেন, ‘এ ঘটনায় আসামি গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে। ভিকটিমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর চিকিৎসা ও খাওয়াসহ যাবতীয় আর্থিক ব্যয় আমি বহন করেছি। ধর্ষিত শিক্ষার্থীর পক্ষে কেহ থানায় মামলা দিতে রাজি ছিল না। পরে বারবার চেষ্টা করে শিক্ষার্থীর মাকে রাজি করিয়ে ১২ এপ্রিল দুপুর ২.৩০ মিনিটের সময় মামলা গ্রহণ করি।’

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৪ই এপ্রিল, ২০১৯ ইং /বিকাল ৪:২৫