২০শে মার্চ, ২০১৯ ইং | ৬ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৭:১৫

ভিক্ষা করা কখন জায়েজ ?

 

ডেস্ক নিউজ : ‘নবীর শিক্ষা করো না ভিক্ষা’ বিখ্যাত প্রবাদটি সবারই জানা। দেশে দিন দিন ভিক্ষুকের সংখ্যা বেড়েই চলছে। বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহল উদ্বিগ্ন। ইতিমধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ভিআইপি এলাকাগুলোকে ‘ভিক্ষুকমুক্ত’ ঘোষণা করেছে।ভিক্ষা একটি সামাজিক সমস্যা ও অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও দিন দিন পেশাদার ভিক্ষুকের সংখ্যা বাড়ছে। সামাজিকভাবেও ভিক্ষা একটি নিচু পেশা।মানবতার ধর্ম ইসলাম সবসময় ভিক্ষাবৃত্তিকে নিরুৎসাহিত করেছে।অসহায় বিপন্ন মানুষের সহায়তা এবং অনগ্রসর মানুষের টিকে থাকার কৌশল হিসেবে ধনীদের দান-সাদকা ও জাকাত আবশ্যক করেছে।রাসূল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালার কাছে হালাল কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বা রাগের উদ্রেক সৃষ্টিকারী কাজ হলো স্ত্রীকে তালাক দেয়া ও ভিক্ষা করা।

বিষয়টি জানার আগে বুঝতে হবে ধনী কাকে বলে? ইসলামের দৃষ্টিতে ধনী ৩ প্রকার।

(১) যার কাছে নেসাব পরিমাণ বর্ধনশীল সম্পদ রয়েছে।

তার ওপর জাকাত এবং সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। আর তার জন্য সদকা খাওয়া নাজায়েজ।

(২) যে বর্ধনশীল নয় এমন সম্পদের নেসাব পরিমাণ মালিক। তার ওপর জাকাত ওয়াজিব নয়। কিন্তু সদকায়ে ফিতর ও কোরবানি ওয়াজিব। তার জন্যও সদকা খাওয়া নাজায়েজ।

(৩) যে বর্ধনশীল-অবর্ধনশীল কোনটার নেসাবের মালিক নয়, কিন্তু তার প্রয়োজন অনুযায়ী মাল আছে। তাহলে সে জাকাতও খেতে পারবে, সদকাও খেতে পারবে।

এই তিন প্রকারের কারোর জন্য ভিক্ষা করা জায়েজ নেই।

তবে হ্যাঁ, যার কাছে একদিন চলার মতো খাদ্য সংরক্ষিত নেই, তার জন্য ভিক্ষা করা জায়েজ আছে।

দুঃখের বিষয় হলো, যদি আমরা বর্তমানের ভিক্ষুকদের প্রতি লক্ষ করি তাহলে দেখতে পাব যে, তাদের অধিকাংশই ভিক্ষা করে মাল বৃদ্ধির জন্য। খাদ্যসংকটে পতিত হয়ে প্রয়োজন পূরণের জন্য নয়।

অথচ এ সম্পর্কে রাসূলের এরশাদ হলো- যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ বাড়ানোর জন্য লোকজনের কাছে মাল প্রার্থনা করে, নিশ্চয় সে যেন আগুনের অঙ্গার প্রার্থনা করল। কম প্রার্থনা করুক বা বেশি প্রার্থনা করুক (মুসলিম শরিফ)।

সুতরাং, সম্পদ বৃদ্ধির জন্য যারা ভিক্ষা করে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করে প্রকৃত ভিক্ষুকদের জীবনমান উন্নয়নের ব্যবস্থা করা সরকার ও জনপ্রশাসনের দায়িত্ব।

কিউএনবি/অনিমা/৮ই মার্চ, ২০১৯ ইং/সন্ধ্যা ৬:৫৫