২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১:৫২

পদত্যাগ করেছেন সাবেক সাংসদ কাজী কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক:  বিএনপির রাজনীতিতে একজন পরিচ্ছন্ন, সজ্জন নেতা হিসেবে পরিচিত কাজী কামাল।

কাজী কামাল বা ‘ইকোনো কামাল’ খ্যাত বিএনপি’র এই নেতা মাগুরা জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে অসম্ভব জনপ্রিয়। বিশেষ করে শালিখা-মোহাম্মদপুর উপজেলায় তার সরব পদচারনা প্রতিটি ঘরে ঘরে।

দেশের বিশিষ্ট এই ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ কাজী কামালের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যে কোন ধরনের সহযোগিতা পেয়েছেন মাগুরা জেলার তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

বিএনপির যে কোন কর্মসূচীতে কেন্দ্র ও মাগুরায় তার সার্বিক সহযোগিতাসহ সরব পদচারনা সব সময়। এর পরেও মূল্যায়ন হয়নি সদ্যঘোষিত বিএনপির এ বিশাল কমিটিতে কাজী কামাল এর।

এই নিয়ে সমগ্র মাগুরা জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অনুসন্ধান করে জানা গেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণায় সারাদেশের ন্যায় মাগুরাতেও অযোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন এবং তাদের অপচেষ্টার কারণে যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতাদেরকে কমিটিতে প্রবেশ ঠেকানো হয়েছে। এরই শিকার হয়েছেন কাজী কামাল।

মাগুরা জেলা বিএনপিতে তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি গঠনের নামে যারা পদ বাণিজ্য করেছেন তারা হয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা।

দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজী কামালও জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলার আসামি। বিতর্কিত লোকদের স্থায়ী কমিটি ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে স্থান দেওয়ার অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে স্থান পাওয়া এই ‘ইকোনো কামাল’। তিনি জিকিউ গ্রুপের কর্ণধার।
বেগম জিয়ার কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রের কপি গতকাল মাগুরায় কর্মরত সাংবাদিকদের কাছে পাঠান জেলা বিএনপির সাবেক এই সভাপতি।

পদত্যাগ পত্রে কাজী কামাল মাগুরা জেলা বিএনপি’র বর্তমান আহবায়ক নিতাই রায় চৌধুরীর নাম উল্লেখ না করে লিখেছেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় ‘বিতর্কিত’ ব্যক্তিকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে। যিনি মাগুরা জেলা আহবায়ক হওয়ার পর ত্যাগি নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে আনকোরা লোকদের দিয়ে জেলা কমিটি করেছেন। বিগত ৩৫ টি ইউপি নির্বাচনে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ত্যাগীদের বাদ দিয়ে তার পছন্দের লোকদের মনোনয়ন দিয়েছেন। যার মধ্যে কেউ নির্বাচিত হতে পারেনি। জেলা বিএনপির আহবায়ক হওয়ার পর দলের ভেতর অভ্যন্তরিণ কোন্দল লেগেই আছে।

তিনি বলেছেন, স্থায়ী কমিটিতে এমন ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে, যাদের সঙ্গে নিজের ‘মানসম্মান ক্ষুণ্ন’ করে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। তাই তিনি কমিটি থেকে পদত্যাগ করে সরে দাঁড়াচ্ছেন।

উল্লেখ্য, কমিটি ঘোষণার পরপরই উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী ফালু এবং সহ প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম পদত‌্যাগের ঘোষণা দেন। আরও অনেক নেতা নিজেদের অসন্তোষের কথা জানিয়ে গণমাধ‌্যমে মুখ খুলেছেন। সর্বশেষ মুখ খুললেন ও পদত্যাগ করলেন কাজী কামাল।
কুইকনিউজবিডি.কম/নহ/১১.০৮.২০১৬/১০:০০