২২শে মার্চ, ২০১৯ ইং | ৮ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৮:৪০

যেসব কারণে বাড়ছে আপনার ভুঁড়ি

 

স্বাস্থ্য ডেস্ক : মানুষ এখন অনেক বেশি স্বাস্থ্য সচেতন। কিন্তু এরপরও কিছু বিষয় আছে যা আমাদেরকে প্রতিনিয়ত বিব্রত করে। তার মধ্যে অন্যতম হলো ভুঁড়ি বেড়ে যাওয়া। আমরা (পুষ্টিবিদ) মাঝে মধ্যে এমন অনেক রোগী পেয়ে থাকি যাদের শারীরিক উচ্চতার তুলনায় ওজন হয়তো ঠিক আছে কিন্তু ভুঁড়ি বেড়ে যাওয়ায় আছেন অস্বস্তিতে। আমরা সকলেই চাই ভুঁড়ি নিয়ন্ত্রণে থাকুক। কিন্তু অনেকেই জানেন না তার ভুঁড়ি কী কারণে বাড়ছে? কী করলে ভুঁড়ি নিয়ন্ত্রণে থাকবে?              

একুশে টেলিভিশন অনলাইনের পাঠকদের জন্য সেসব বিষয় তুলে ধরবো-         

ভুঁড়ি বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো অনিয়ম ও অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন। এর মধ্যে প্রধান কারণটি হলো রাতে ঘুম কম হওয়া। যারা রাত জাগেন, যাদের ঘুমের সমস্যা আছে- তাদের দেখবেন ভুঁড়ি দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। রাত জাগার কারণে আমাদের শরীরের ভেতরে অনেক ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। রাতে ঘুমের অনিয়ম হলে খাওয়া দাওয়ার অনিয়ম দেখা দেয়। যারা দেরিতে ঘুমান তারা সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারেন না। ফলে সকালের নাস্তাটা করা হয়না। আবার অনেকে রাতে মেরি করে খায়। এর ফলেও ঘুমের সমস্যা হয় এবং ভুঁড়ি বেড়ে যায়। রাতে দেরিতে খেলে সকালে নাস্তার খিদে থাকে না। এসব সমস্যার কারণে ভুঁড়ি বাড়বে।     

ভুঁড়ি বাড়ার অন্যতম আরেকটি কারণ হলো অতি ভোজ করা। সারাদিন হয়তো অল্প অল্প খাওয়া হলো বা হলো না। কিন্তু একবেলায় গিয়ে অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে গেল। এরফলে ভুঁড়ি বাড়বে। আবার অনেকে আছেন যারা খাওয়ার সময় পানি পান করেন বা খাওয়ার পরপর প্রচুর পানি খান। এটাও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। ফলে বাড়বে ভুঁড়ি। রাতে খাওয়ার পরপর শুয়ে গেলেও ভুঁড়ি বাড়বে। তাই রাতে শুতে যাওয়ার কিছু আগে খেয়ে নেওয়া ভাল। বসার সমস্যার কারণে বা হাঁটাচলা কম হলেও বাড়বে ভুঁড়ি।     

মানব শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভার। যদি লিভারে কোন ধরনের অসুখ বা সমস্যা থাকে তাহলেও বাড়বে ভুঁড়ি। যারা খুব বেশি পরিমাণে ভাত ও ভাজাপোড়া খাবার খায়, মিষ্টি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলেও ভুঁড়ি বাড়বে।   

এতোক্ষণ আমি যে ছোট ছোট কারণগুলো বললাম, এগুলোর ব্যাপারে একটু সচেতন হলেই ভুঁড়ি বাড়বে না। ফলে আপনি পাবেন একটি ঝরঝরে সুন্দর শরীর। সেজন্য আপনাকে পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। একেবারে বেশী না খেয়ে অল্প অল্প করে বারে বারে খেতে হবে। অল্প অল্প করে বারে বারে খেলে সেটা শরীরের কাজে লেগে যায়। হজম ভাল হয়। ফলে ভুঁড়ি বেড়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না।       

যারা রাতে দেরিতে খাবার খায় বা খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়ার অভ্যাস তাদেরকে বলবো, রাতের খাবারটা তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলা ভাল। খাবার পর একটু নড়াচড়া করা বা পায়চারি করা উচিত। চেষ্টা করবেন রাতে ঘুমানোর দুই ঘন্টা আগে খেয়ে নিতে। আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখবেন, খাওয়ার কমপক্ষে আধাঘন্টা পরে যেন পানি খাওয়া হয়। খাওয়ার মাঝখানে বা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি খাবেন না।     

প্রতিদিন ত্রিশ থেকে চল্লিশ মিনিট হাঁটা ভুঁড়ি কমাতে সাহায্য করে। অনেকে মনে করেন শুধুমাত্র ডায়েট করলে ভুঁড়ি কমে যাবে। তাদেরকে বলছি, শুধু ডায়েট করলেই ভুঁড়ি কমবে না। কেননা, ভুঁড়ি কমাতে পাশাপাশি পেটের কিছু ব্যায়ামও করতে হবে। অর্থাৎ ফিটনেসের জন্য ডায়েটের পাশাপাশি ব্যায়ামের দরকার রয়েছে। তাই শুধু ডায়েট করে শরীরকে পুষ্টিহীন না করে ব্যালেন্স ডায়েট করুন। পাশাপাশি মেনে চলুন নিয়ম কানুন। তাহলে পেতে পারেন একটি ঝরঝরে সুন্দর ভুঁড়িমুক্ত শরীর।  

লেখক: প্রধান পুষ্টিবিদ, এ্যাপোলো হসপিটাল, ঢাকা।

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১৪ই জানুয়ারি, ২০১৯ ইং/রাত ৮:২৩