ব্রেকিং নিউজ
২৬শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং | ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:০১

রংপুরে ধানের দরপতন কৃষকের আনন্দ ম্লান

ডেস্ক নিউজ : রংপুর অঞ্চলে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ৭৪২ টন বেশি আমন ধান উৎপাদিত হয়েছে। এরপরও হতাশা কাটেনি কৃষকের। হাটবাজারে ধানের দরপতনে কৃষকের মুখে হাসি নেই। 

এবার গত বছরের তুলনায় ধানের দাম কমেছে মণপ্রতি ২০০ টাকা। নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে উত্তরের জেলাগুলোয় গত বছরের তুলনায় এবার অধিক ফলন ঘরে তুলেন কৃষক। কিন্তু ধানের বর্তমান যে বাজারদর তাতে কৃষকের উৎপাদন খরচ তোলা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বেশি ফলন পাওয়ার আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে।

অন্যদিকে কৃষকদের কাছ থেকে রাইস মিল মালিকরা ধান না কেনায় আরও দরপতনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে সরকারিভাবে ৩৬ টাকা কেজি দর নির্ধারণ করে চাল ক্রয় করা হলেও এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক। লাভবান হচ্ছেন ফড়িয়া দালাল, রাইস মিল মালিক ও চাল ব্যবসায়ীরা। দেখা গেছে, অনেক রাইস মিল মালিকের চাতাল ও মিল বন্ধ থাকলেও তারা সরকারি খাদ্য গুদামগুলোয় চাল সরবরাহ করে আসছেন। এমন অভিযোগ রয়েছে ধান চাল ক্রয় কর্তৃপক্ষ জেলা ও উপজেলা খাদ্য বিভাগের বিরুদ্ধে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে রংপুর কৃষি অঞ্চলের রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় ৬ লাখ ৩ হাজার ৪৭৬ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। এ থেকে চালের উৎপাদন হয়েছে ১৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮৭৪ টন। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১৮৪ হেক্টর জমি। গত বছর রংপুর অঞ্চলে ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৬ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করে চালের উৎপাদন হয়েছিল ১৭ লাখ ২৪ হাজার ৬৯ টন। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে ৪৫ হাজার ৮০৫ টন।

দেউতি পারুল এলাকার কৃষক হবিবর মিয়া ও নুর আলম জানান, ৫০ শতক জমিতে ১৯ মণ ধানের ফলন পেয়েছেন। খরচ হয়েছে প্রায় ৮ হাজার টাকা। বর্তমান বাজারমূল্যে বিক্রি করলে ১১ হাজার টাকা পাবেন। খরচ বাদ দিলে লাভ হবে মাত্র ৩ হাজার টাকা, যা টাকার অঙ্কে সামান্য। এর প্রভাব পড়বে বোরো মৌসুমে। কৃষকের হাতে টাকা না থাকলে তারা বোরো ধান উৎপাদনে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। রংপুর মহানগরীর তামপাট, মাহিগঞ্জ এলাকার কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতি মণ ধান ৫০০ টাকায় বিক্রি করলেও উৎপাদন খরচ ওঠবে না। ধানের আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছি।

ধান ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন ও নুরুজ্জামান নুরু বলেন, আমরা ধান ক্রয় করে অটোরাইস মিলগুলোয় বিক্রি করি। এখন রাইস মিলগুলো ধান কিনছে না। এ কারণে বাজারে ধানের দরপতন ঘটতে পারে। কৃষি বিপণন অধিদফতরের রংপুর জেলা বিপণন কর্মকর্তা এসএএম হাসান সরোয়ার বলেন, সরকার নির্ধারিত দামে ধান বিক্রি করতে পারলে কৃষক লাভবান হবেন। কিন্তু তার আশঙ্কা, অধিকাংশ মিলার বিশেষ করে অটো রাইস মিল মালিকদের প্রচুর ধান মজুদ থাকে। ফলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা ধানের প্রকৃত দাম পাচ্ছেন না।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হাইব্রিড জাতের ধানের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে গত বছরের চেয়ে ৬ হাজার ৮৩২ হেক্টর বেশি। পাশাপাশি স্থানীয় জাতের চাষ কমেছে গত বছরের চেয়ে ৩ হাজার ৩২১ হেক্টর জমি।

 

কিউএনবি/আয়শা/১৪ই জানুয়ারি,০১৯ ইং/বিকাল ৫:১১