১৭ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:২৫

গাইবান্ধায় আমন ক্ষেত ফেটে চৌচির

জাহিদুল ইসলাম, জেলা প্রতিনিধি:  অনাবৃষ্টি আর প্রচন্ড দাবদাহে পুড়ছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ সহ বিভিন্ন এলাকা। কড়া রোদে শুকে গেছে জলাশয়। পানির অভাবে রোপা আমন ক্ষেত ফেটে চৌচির হওয়ায় বিপাকে পড়েছে কৃষকরা।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের কৃষক চাঁদ মিয়া জানান, অত্র ইউনিয়নের বাহাদুরপুর, চাঁনপুর, দেবপুর, সিংহডাঙ্গা, চিয়ারগ্রাম, নারিচাগাড়ী, ছোট নারায়নপুর, ফুলবাড়ী ও বাসুদেবপুর গ্রামের কৃষকরা পানির অভাবে জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেনা।

চিয়ার গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, বৃষ্টির পানিতে আগাম লাগানো আমন ক্ষেতের ধান গাছ  পানির অভাবে শুকে মরে যাচ্ছে। ক্ষেতের মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের জঙ্গলমারা গ্রামের কৃষক জয়নুল আবেদিন জানান, উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের কৃষকরা বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন ও বৈদ্যুতিক মোটর চালিয়ে জমিতে পানি দিয়ে আমনের চারা রোপণ করছেন। ফলে ভয়াবহ সংকটে পড়েছে আমনের আবাদ। পানির অভাবে ধান ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। জমির ফসল নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে কৃষকরা।

উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের আলী গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান,বৃষ্টির পানির উপর নির্ভরশীল আমন চাষীরা বেশি বিপাকে পড়েছে। তারা কোথাও পানি পাচ্ছে না। একদিকে পানির অভাবে আগাম লাগানো আমন ক্ষেত ফেটে চৌচির হচ্ছে। অন্যদিকে ধান গাছ বিবর্ণ হয়ে যাওয়ায়  ফসল বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছেন।

জেলার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান জানান, ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে সাঘাটা উপজেলার গঠিত। এর মধ্যে সাঘাটা,ভরতখালী, হলদিয়া,জুমারবাড়ী ও ঘুড়িদহসহ ৫টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হলেও অপর ৫টি ইউনিয়নের বোনারপাড়া, তেলিয়ান, রাঘবপুর,হেলেঞ্চা, শিমুলতাইর, দলদলিয়া,কচুয়া, বুরুন্দী, উল্লাসোনাতলা ও পাঠানপাড়া সহ বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে প্রচন্ড খরা।

হেলেঞ্চা গ্রামের কৃষক আবু বক্কর জানান, তিনি আগাম বৃষ্টির পানিতে চার বিঘা জমিতে আমন চাষ করছেন। এর মধ্যে অতিকষ্টে মাত্র একবার দুই বিঘা জমিতে পানি সেচ দেন।পানি সঙ্কটের ফলে  আর সেচ দিতে না পারায় জমিতে ধানের গাছ বিবর্ন হয়েছে। রোপনের পর থেকে অপর দুই বিঘায় সেচ দিতে না পারায় আবাদী জমি ফেটে গেছে।

পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মিনাজ উদ্দিন জানান, শ্যালো মেশিন কিংবা বৈদ্যুতিক মোটর চালিয়ে রোপা আমন আবাদ উপযোগী নয়। বৃষ্টির পানিতে  রোপা আমন চাষ ভাল হয়।

একই গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, পানির অভাবে অনেক এলাকায় জমি খালি পড়ে আছে। অনেকে তাদের জমিতে সেচ দিয়ে আমনের চারা রোপণ করলেও নিম্ন আয়ের কৃষকরা তা করতে পারছেন না। সেচ দিয়ে আমন চাষ করায় উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। কারণ তেল ও বিদুতের দাম বেশি।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার ছাহেরা বানু বলেন, এখনো আমন আবাদের তেমন ক্ষতি হয়নি। এ অবস্থা আরো এক সপ্তাহ চললে ক্ষতির আশঙ্কা আছে। বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের সেচ পাম্প ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছি।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সমাপ্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রুহুল আমিন জানান, বৃষ্টি কম হওয়ায় এখনো পুরোপুরি আমন চাষ শুরু হয়নি, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৪ হাজার ৪৭১ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাসে গাইবান্ধায় যে পরিমান বৃষ্টি হয়েছে, তা আমন চাষের জন্য পর্যাপ্ত নয়। ফলে আমন আবাদ হুমকীর মুখে পড়েছে। তাছাড়া গত ৭ দিনে তাপমাত্রা বেড়েছে। এ সপ্তাহে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

কুইকনিউজবিডি.কম/এসসি /০৮.০৮.২০১৬/১১:০১