২৩শে মার্চ, ২০১৯ ইং | ৯ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১০:৫৩

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা: এখনো চলছে স্টল নির্মাণের কাজ

 

ডেস্ক নিউজ :  জমেনি বাণিজ্য মেলা। ৪ দিন পার হলেও মেলা মাঠে চলছে স্টল নির্মাণ কাজ, তেমনি ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতিও কম। প্রথম দুদিন লোকসমাগম কম হলেও শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় সপরিবারে মানুষজন ঘুরতে এসেছে। কেনাকাটা করছে কম। 

মেলা মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সব দিকেই স্টল নির্মাণের কাজ চলছে। মেলায় ঢুকলেই দর্শনার্থীদের কানে আসছে কাঠ, হাতুড়ি, পেরেকের ঠক ঠক আওয়াজ। কাজ শেষ না হওয়া স্টলের মধ্যে বিদেশি প্রতিষ্ঠান যেমন আছে, তেমনি আছে দেশীয় প্রতিষ্ঠানও।

দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সিংহভাগই ছোট প্রতিষ্ঠান। বড় প্রতিষ্ঠান দুই-একটি অসম্পূর্ণ থাকলেও বেশির ভাগই মেলার প্রথম দিন থেকেই বেচাবিক্রির শুরু করেছে। আবার কয়েকটি স্টলে সবেমাত্র পণ্য ওঠানো শুরু করেছে বিক্রয়কর্মীরা। ভিআইপি গেট থেকে সার্ভিস গেট পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় চলছে স্টল নির্মাণকাজ।

ভিআইপি গেট দিয়ে প্রবেশ করে পশ্চিম দিকে একটু আগালেই চোখে পড়বে থাইল্যান্ড, চীন ও ভারতীয় পণ্যের একটি প্যাভিলিয়ন। সেখানে এখনও স্টল গোছানোর কাজ শেষ হয়নি। এর দক্ষিণ দিকেও সারি সারি বেশ কয়েকটি স্টলের কাজ চলতে দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি অপ্রস্তুত স্টল দেখা গেছে সার্ভিস গেটের পাশে বা পশ্চিম দিকে। ওই অংশে বেশিরভাগ স্টলেরই কাজ শেষ হয়নি।

এবার বাণিজ্য মেলায় ৬০৫টি বিভিন্ন শ্রেণির প্যাভিলিয়ন ও স্টল রয়েছে। এর মধ্যে ৫৯টি প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, ১৯টি সাধারণ প্যাভিলিয়ন, ২৬টি বিদেশি প্যাভিলিয়ন, ৬টি সংরক্ষিত প্যাভিলিয়ন, ৩২টি সাধারণ মিনি প্যাভিলিয়ন, ৬৮টি প্রিমিয়ার স্টল, ১৭টি বিদেশি প্রিমিয়ার স্টল, ২৯৫টি সাধারণ স্টল, ৩০টি খাবারের দোকান রয়েছে। মেলা ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সব বয়সী মানুষ টিকিটের বিনিময়ে মেলায় প্রবেশ করতে পারবে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মেলায় প্রবেশ টিকিটের দাম ৩০ টাকা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা রাখা হয়েছে। তবে অনলাইনেও টিকিট কেনা যাবে।

অবশ্য দেশীয় বড় কোম্পানিগুলো আগেভাগেই স্টল-প্যাভিলিয়ন গুছিয়ে ব্যবসা শুরু করেছে। দেশীয় ইলেকট্রনিকসসামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আকর্ষণীয়ভাবে প্যাভিলিয়ন সাজিয়েছে। এসব প্যাভিলিয়নে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়ও বেশি। ক্রেতা-দর্শনার্থীরা দেশীয় ইলেকট্রনিকস পণ্যের প্যাভিলিয়নগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেছেন।

নতুন কোন মডেল- ডিজাইনের টিভি-ফ্রিজ বাজারে এসেছে, দাম কত, ছাড় ও কী গিফট দেয়া হচ্ছে এসবের খোঁজখবর নিতে দেখা গেছে। তরুণী-নারীরা বিদেশি প্যাভিলিয়নগুলোতে কসমেটিকস ও ক্রোকারিজ আইটেমের দরদাম করতে দেখা গেছে। যমুনা ইলেকট্রনিক্স প্যাভিলিয়েনের ইনচার্জ সত্যজিৎ রায় বলেন, প্রথম শুক্রবার হিসেবে মেলায় লোকসমাগম ভালো ছিল। সকালে কম থাকলে বিকালের পর ভিড় বাড়তে থাকে।

ক্রেতাদের সুবিধার্থে প্রতিবারের মতো এবারও যমুনা ইলেকট্রনিকস বাণিজ্য মেলায় বিশেষ ছাড় দিচ্ছে। সব ধরনের ইলেকট্রনিকস পণ্যে ৫-২২ শতাংশ ডিসকাউন্ট থাকছে। এছাড়া প্রতি ১০ হাজার টাকার কেনাকাটায় ১ হাজার টাকার ক্যাশ ভাউচার দেয়া হচ্ছে। এ ভাউচার ব্যবহার করে পরবর্তীতে যমুনা ইলেকট্রনিকসের পণ্য কিনলে ছাড় পাবেন ক্রেতারা। যমুনা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল কিনলে ক্রেতাদের রেজিস্ট্রেশন করে দেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশীয় ইলেকট্রনিকস ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে একমাত্র যমুনাই আন্তর্জাতিক মান বজার রেখে আধুনিক ডিজাইনের সামগ্রী উৎপাদন করে। এ কারণে যমুনা প্রতিটি পণ্য ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এ আস্থা ধরে রাখতে নিরলসভাবে দক্ষ ডিজাইনার ও প্রকৌশলীরা কাজ করছে। এবারও মেলায় ক্রেতাদের জন্য বাহারি ডিজাইন ও রঙের ফ্রিজ আনা হয়েছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, মেলায় মা ও শিশু কেন্দ্র, শিশুপার্ক, ই-পার্ক ও পর্যাপ্ত এটিএম বুথ রাখা হয়েছে। আছে রেডিমেড গার্মেন্টস পণ্য, হোমটেক্স, ফেব্রিক্স পণ্য, হস্তশিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহস্থালি ও উপহারসামগ্রী, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য।

এছাড়াও তৈজসপত্র, সিরামিক, প্লাস্টিক পলিমার পণ্য, কসমেটিকস হারবাল ও প্রসাধনী সামগ্রী, খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকসসামগ্রী, ইমিটেশন ও জুয়েলারি, নির্মাণসামগ্রী ও ফার্নিচারের স্টল-প্যাভিলিয়ন রয়েছে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১২ই জানুয়ারি, ২০১৯ ইং/রাত ১০:১৫