ব্রেকিং নিউজ
১৭ই জানুয়ারি, ২০১৯ ইং | ৪ঠা মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৬:৪০

সরিষার বাম্পার ফলনের আশা নীলফামারীর কৃষকদের

হিমেল চন্দ্র রায়,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি : নীলফামারীতে মাঠে মাঠে ফুটে আছে হলুদ সরিষা ফুল। যত দূর চোখ যায় হলুদের সমারোহ। এ মৌসুমে জেলার কৃষকেরা সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন। কৃষকদের ধারণা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও সময়মতো সরিষা ঘরে তুলতে পারলে বিক্রি করে বাড়তি কিছু টাকা তারা হাতে পাবেন।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় চার হাজার ১৩৬ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে চার হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে।

তিনশ’ ৫৪ হেক্টরেরও বেশি জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এবার টরি-৭ ও সম্পদ জাতের সরিষার ফলন ভাল হয়েছে।রামনগর ইউনিয়নের বিশমুড়ি গ্রামের কৃষক জয়নাল মিয়া বলেন, ‘কয়েক দফা বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে জমিতে আগাম জাতের সরিষার চাষ করা হয়েছে। ধানের দামের দরপতনের কারণেই প্রতি বছরই কৃষকদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। তাই বিকল্প হিসেবে অন্য ফসলের পাশাপাশি সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকেরা।

বাহালী গ্রামের বুলবুল হোসেন বলেন ‘চলতি মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। টরি-৭ ও সম্পদ জাতের সরিষা বিঘা প্রতি ৬-৭ মণ হয়। বাজারে প্রতি মণ সরিষা এখন ১৭০০-১৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বিঘা জমি চাষ করতে খরচ হয় ৩ হাজার টাকা। এতে প্রায় বিঘা প্রতি লাভ হয় প্রায় ৯ হাজার ৬০০ টাকা। সরিষার ফসল থেকে উপার্জিত আয় বোরো ধান উৎপাদনে সহায়ক হবে।’উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া গ্রামের আবুল কাশেম বলেন, ‘এবার দুই বিঘা জমিতে আগাম জাতের সরিষা লাগিয়েছি।

সরিষা চাষে সার কম দিতে হয়। এ ছাড়া, সেচ, কীটনাশক ও নিড়ানি লাগে না। একেবারই খরচ কম ও স্বল্প সময়ে এ ফসল ঘরে তোলা যায়। বর্তমান বাজারে দামও ভালো। সরিষা বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে বোরো ধানের খরচ চালানো সহজ হবে।’জেলা শহরের বড় বাজারের সরিষা ব্যবসায়ী মো. আসাদুল হক মিলন ও নিউবাবু পাড়ার শাহ আলম জানান, বর্তমানে জাত ভেদে সাড়ে ১৭০০-১৯০০ টাকা দামে বেচাকেনা হচ্ছে।  কৃষকেরা ভাল দাম পাচ্ছেন। কারণ এবারে রোগবালাই ছাড়া অল্প খরচে সরিষার ভালো ফলন হয়েছে। গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে এবার স্বস্তির শ্বাস ফেলছে কৃষকেরা।

এ ছাড়া, এখনও কৃষকেরা পুরোপুরি ক্ষেত থেকে সরিষা উত্তোলন শুরু করেননি। আগাম জাতের কিছু সরিষা ঘরে তুলছেন তারা। আর মাসখানেক পরে পুরোদমে সরিষা কেটে মাড়াই শুরু হবে।সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। দেশে কয়েক দফা বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকরা সরিষা চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। এ ছাড়া, সরিষা চাষে রোগবালাই ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না।’জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আবুল কাসেম আযাদ বলেন, ‘এবারে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে  তিনশ’ ৫৪ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষা চাষ করা  হয়েছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষা চাষে কৃষকরা বাড়তি আয় করতে পারবেন। চলতি বছর প্রতিবিঘা সরিষার পরিমাণ ধরা হয়েছে ছয় থেকে সাত মণ। বাজারে দামও ভাল রয়েছে ও চাহিদাও ভালো। অন্যদিকে, মাঠপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের রোগবালাই দমনে নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।’

কিউএনবি/সাজু/১০ই জানুয়ারি, ২০১৯ ইং/রাত ১০:০০

Attachments area