২৪শে জুন, ২০১৯ ইং | ১০ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:৪৪

বগুড়ার শেরপুরে ভূতের বাড়ির সন্ধান : জনমনে কৌতুহল!

 

বাদশা আলম,শেরপুর (বগুড়া)প্রতিনিধি : একবিংশ শতাব্দির এ যুগে পৃথিবী যখন এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে, বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের সাথে তাল মিলিয়ে সমান তালে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। প্রবেশ করেছে ডিজিটাল যুগে, যেখানে বিশ্ব মানুয়ের হাতের মুঠোয়। এই ডিজিটাল যুগে ভুতপ্রেত বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব কল্পনাও করা যায়না।অথচ বর্তমান সময়ে এমন একটি ভৌতিক বাড়ীর সন্ধান মিলেছে বগুড়ার শেরপুরে।ওই এলাকার জনসাধারনের মাঝে কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শেরপুর-নন্দীগ্রাম আঞ্চলিক সড়ক ধরে কিছুদুর এগিয়ে গেলে উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের বানিয়া গোন্দাইল গ্রাম।এই গ্রামের শুরুতেই রাস্তার ডান পাশে চোখে পড়ে টিনসেড একটি সেমি পাকা বাড়ি।বাড়িটির দরজা জানালা সম্প্রতি খুলে ফেলা হয়েছে। লোকমুখে এই বাড়িটি স্থানীয় লোকজনের কাছে ভুতের বাড়ি নামে পরিচিত। ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি এলাকার সিরাজ আকন্দ প্রায় ৬-৭ বছর আগে ৮ কক্ষ বিশিষ্ট এই বাড়িটি নির্মাণ করেন।

বাড়িটি নির্মাণের পর থেকেই সিরাজ আকন্দ পরিবার নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করা শুরু করেন। কিন্তু ২-৩ দিন থাকার পর রাতে বিছানায় ঘুমাতে গেলে অদৃশ্যভাবে বিছানাসহ খাট উল্টে যায় এবং পানি ঝড়তে থাকে।এভাবে কয়দিন দেখার পর ভীত হয়ে তারা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করায় বর্তমানে এই বাড়িটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বাড়িটির আশে পাশে বসবাসরত লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, বেশ কিছুদিন যাবৎ ওই বাড়ির ভিতর থেকে অদ্ভুদ কিছু শব্দ শুনা যায়,গভীর রাতে ওই পথ দিয়ে চলাচলরত লোকজন প্রায়ই বিভিন্ন পশু দেখতে পায় এবং তা মুহুর্তেই অদৃশ্য হয়ে যায়।এছাড়াও উক্ত বাড়ীর ভেতর এক ঘরের জিনিসপত্র অন্যঘরে কে বা কারা নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অনেকেই বলেছেন।

বর্তমান বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে।এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী ও মো. সামছুল আলমসহ অনেকের সাথে কথা বললে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম হোসেন জানান, ধুনটের গোসাইবাড়ী এলাকা থেকে এসে সিরাজ আকন্দ নামের এক ব্যাক্তি বাড়িটি নির্মাণ করার পর বসবাস শুরু করলেও তিনি কথিত ভুতের উপদ্রপে বাড়িটিতে থাকতে পারেননি।পরে সেখানে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা করলেও ছাত্ররা ভুতের উপদ্রপে থাকতে পারেনি।তাই এখন বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।এ ব্যাপারে বাড়ির মালিক সিরাজ আকন্দ বলেন- ওখানে বাড়ি করে বসবাস করতে চেয়েছিলাম কিন্তু রাতের বেলায় মনে হয় খাট বিছানা উল্টে যায়। ভয়ে আমার পরিবার নিয়ে চলে এসেছি।পরে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা করেও তারা থাকতে পারেনি।

 

কিউএনবি/রেশমা/১০ই জানুয়ারি, ২০১৯ ইং/দুপুর ১:৫২

Please follow and like us:
0
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial