২২শে মার্চ, ২০১৯ ইং | ৮ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৯:২০

থমকে উন্নয়ন প্রকল্প হতাশা নীলফামারীবাসী

 

হিমেল চন্দ্র রায়,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি : উত্তরের অবহেলিত জনপদ নীলফামারী জেলায় বিগত সরকারের আমলের বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ থমকে রয়েছে। সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুরের সময়ে এসব প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি এসব প্রকল্প। নীলফামারী-২ আসন থেকে টানা চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নুর বর্তমান সরকারের মন্ত্রী সভায় ঠাই পাননি। এতে হাতে নেয়া প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কিত অবহেলিত এ জনপদের মানুষ।নীলফামারী সদর উপজেলার রামনগর ডাঙ্গা পাড়ার আসাদুজ্জামান আশা বলেন, আমরা নীলফামারী-২ আসনের মানুষ টানা চারবার জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আসাদুজ্জামান নুরকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করি।

তার বদান্যতায় অভাবী এ জনপদে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উত্তরা ইপিজেড। এখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৪০হাজার যুবক। টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার ও যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রশিক্ষণ নিয়ে বেকার যুবকরা দক্ষতা অর্জন করে তাদের দু’টো হাতকে রুপান্তর করছে কর্মীর হাতে। সেবা ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ নিয়ে তৈরি হচ্ছে নার্স। স্থাপন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ক্যাম্প। কিন্তু নীলফামারীর বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে বিগত সরকারের আমলে নেয়া অনেক প্রকল্প এখনও হয়নি বাস্তবায়ন। যেহেতু বর্তমান সরকারে নীলফামারী থেকে মন্ত্রী সভায় আসাদুজ্জামান নুর স্থান পেলেন না সেহেতু হাতে নেয়া প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন নিয়ে আমরা শঙ্কিত।

নীলফামারী শহরতলীর মার্কাস মসজিদ পাড়ার কামরুল হক জানান, বিগত সরকারের আমলে নীলফামারী মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ভর্তি করা হয়েছে ৫০ জন শিক্ষার্থী। তারা ক্লাস করছেন পলাশবাড়ী ডায়াবেটিক হাসপাতালে। কিন্তু মেডিকেল কলেজের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। দারোয়ানী টেক্সটাইল্স মিলের পাশে নির্মাণ করা হবে হাইটেক পার্ক। যার কাজ শুরু হয়নি এখনও। উত্তরা ইপিজেড’র পাশে অর্থনৈতিক জোন স্থাপন কাজ এখনও শুরু হয়নি। চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবাড়ি পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার রেলপথ হয়নি নির্মিত। অথচ ভারত সরকার তাদের অংশে বাংলাদেশের সীমানা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করেছেন। এটি নির্মিত হলে নীলফামারীসহ আশপাশের জেলাগুলোর লাখো মানুষ অনায়াসে রেলপথে ভারত যাতায়াত করতে পারবে। এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি চিলাহাটিতে স্থলবন্দর নির্মাণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান ২০১০ সালের দিকে চিলাহাটি এসে স্থলবন্দরের সম্ভাবতা যাছাই করে তা দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে সময় নীলফামারীর মানুষ আশায় বুক বেধেছিল যে স্থলবন্দর বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। কিন্তু সে ঘোষণা আজও বাস্তবায়ন হয়নি।এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নীলফামারীর অর্থনীতিতে হবে নতুন মেরুকরণ।

ঘুচবে বেকারত্ব। বেকার জনগোষ্ঠীর হবে কর্মসংস্থানের সুযোগ। বাড়বে অর্থনীতির তারল্য।নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি বলেন, অমায়িক ব্যবহার, সহনীয় রাজনৈতিক-সব শ্রেণীর মানুষের সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব সুলভ আচরণ, দলমত নির্বিশেষে সমান দৃষ্টিভঙ্গি, জিঘাংসাকে ঘৃণা, দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানো সব মিলিয়ে ইতিবাচক চিন্তা-চেতনা লালন করেন আসাদুজ্জামান নুর। টানা তিনবার ক্ষমতায় থেকে তিনি সারাক্ষণ নীলফামারীর উন্নয়ন নিয়ে ভেবেছেন। গত ১৫ বছরে উন্নয়ন তথা বেকারত্ব দূরীকরণে রেখেছেন ঈর্শনীয় অবদান।

তবে যেখানে আলো সেখানে আধার। আবার বাতির নিচেও কিছুটা জায়গা জুড়েও থাকে অন্ধকার। দীর্ঘ সময়ে ক্ষমতায় থাকার কারণে তার অজান্তে হাতে গোনা ক’জন চাটুকার আঙ্গুল ফুলে বনে গেছেন শাখা, প্রশাখা মিলে বিশাল বটগাছ। তারা আজ বিত্ত বৈভবে একাকার। এসব কারণে তাকে এবারের নির্বাচনে ঝড়াতে হয়েছে অনেক ঘাম। তাদের ময়লার কিছুটা হলেও লেগেছে এই পরিচ্ছন্ন মানুষটির গায়ে। নীলফামারীর অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে এবারের তাকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত করেছেন এই আসনের মানুষ।আগামী দিনগুলো চলতে হবে চোখ কান খোলা রেখে। আবারও যাতে ওই চাটুকাররা তার স্বচ্ছ রাজনৈতিক জীবনে প্রতিবিন্ধকতা হয়ে না দাঁড়ায়।

 

 

কিউএনবি/রেশমা/১০ই জানুয়ারি, ২০১৯ ইং/দুপুর ১২:০৩