ব্রেকিং নিউজ
১৭ই জানুয়ারি, ২০১৯ ইং | ৪ঠা মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৬:৪৫

বার্মিজ সেনাদের প্রত্যক্ষ মদদে পাহাড়ের মারমা তরুন নিয়ে এএলপি‘র বিশেষ হত্যার মিশন

 

আলমগীর মানিক,রাঙামাটি প্রতিনিধি : বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে একের পর এক ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড চালাচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ মায়ানমার। ইয়াবা, রোহিঙ্গার পর এবার বাংলাদেশের উঠতি বয়সী মারমা তরুনদের নিয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠি তৈরি করছে। পার্বত্যাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত মারমা জনগোষ্ঠির উঠতি বয়সী যুবকদের প্রচুর অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে আরাকান লিভারেশন পার্টি এএলপি’তে যোগদান করাচ্ছে মায়ানমারের সেনাবাহিনী।

এই বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী সংগঠনটির নতুন সদস্যদেরকে সশস্ত্রসহ সার্বিক সার্পোট দিয়ে ভারতের মিজোরাম রাজ্যে ৩৫ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স করিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি ও বান্দরবানের কয়েকটি স্থানে অস্থায়ী ক্যাম্পে রাখতে রসদ যোগাচ্ছে মায়ানমারের সেনা কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্রে এই তথ্য জানাগেছে।বাংলাদেশের ভূখন্ডকে ব্যবহার করে অবৈধ সশস্ত্র তৎপরতায় লিপ্ত এএলপি নামক সশস্ত্র সংগঠনটির পক্ষ থেকে মারমা যুবকদের ভূল বুঝিয়ে ছায়া সংগঠন হিসেবে মারমা লিভারেশন পার্টি এবং মারমা হাই ল্যান্ডার্স প্রোগ্রেসিভ পার্টি নামক নতুন সংগঠন তৈরি করছে। ইতিমধ্যেই পাহাড়ের অন্তত শতাধিক তরুনকে তাদের দলে ভিড়িয়েছে বলে সামরিকবাহিনীসহ বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে।

ইতিমধ্যেই এই সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজিসহ সশস্ত্র মহড়াসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে রাঙামাটির কাপ্তাই, চন্দ্রঘোণা, কাউখালী, রাজস্থলীসহ বান্দরবানের কয়েকটি এলাকার স্থানীয় পাহাড়ি জনসাধারণ। অত্যাচার নিপিড়নে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধানে নামে রাঙামাটির নিরাপত্তা বাহিনী।

বৃদ্ধি করা হয় গোয়েন্দা তৎপরতা। অবশেষে নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (৯ই জানুয়ারী) ভোররাতে জেলার রাজস্থলী উপজেলাধীন গবাছড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আরাকান লিবারেশন পার্টির দুই সদস্যকে ভারী অস্ত্র-গুলিসহ হাতেনাতে আটক করেছে রাঙামাটি সেনা রিজিয়নের নেতৃত্বাধীন সেনা-পুলিশের যৌথ টিমের সদস্যরা।

মেজর পদ মর্যাদার উদ্বর্তন এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ কর্তৃক পরিচালিত এই অভিযানে আটককৃত এএলপি পার্টির দুই সদস্য হলো-চাচিং মারমা (২৯), পিতা: সুইচিং মং মারমা, সাং-মাঝাপাড়া, বেতবুনিয়া, থানা: কাউখালী। অপরজন হলো-উংসিংনু মারমা (৩২), পিতা, মংরাই মারমা, সাং-কাকড়াছড়ি পাড়া, বাঙ্গালহালিয়া, থানা: চন্দ্রঘোনা।

চন্দ্রঘোনা থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আটককৃতদের কাছ থেকে একটি ভারী জি থ্রী রাইফেল, ২৪ রাউন্ড তাজা গুলি, দু’টি ম্যাগজিনসহ কমব্যাট পোশাক উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা উভয়েই এএলপির প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিরাপত্তা বাহিনীকে জানিয়েছে। ওসি জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, মায়ানমারের আরাকান রাজ্যে স্বাধীনতাকামী আরাকান আর্মি নামক সংগঠনটি সেদেশের জন্য ব্যাপক হুমকি হয়ে দাঁিড়য়েছে। ইতিমধ্যেই আরাকান আর্মির সাংগঠনিক ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের দমাতে বেশ হিমশীম খাচ্ছে বার্মিজ সেনারা। মূলতঃ আরাকান আর্মিকে ধ্বংস করতেই বার্মিজ সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ মদদে প্রক্সি বাহিনী হিসেবে বাংলাদেশের ভূখন্ডে বিচ্ছন্নতাবাদী সশস্ত্র এএলপি, মারমা লিবারেশন পার্টি ও মারমা হাই ল্যান্ডার্স প্রোগ্রেসিভ নামক সংগঠনগুলো তৈরি করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, এই সংগঠনগুলোকে অত্যাধুনিক ভারী অস্ত্র সরবরাহসহ যাবতীয় সামরিক রসদ সার্পোট দিয়ে সহযোগিতা করছে মায়ানমারের সেনাবাহিনী। সংশ্লিষ্ট্য উচ্চ পর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, এএলপিকে ব্যবহারের মাধ্যমে রাঙামাটির রাজস্থলীতে অবস্থান করা আরাকান রাজ্যের স্বাধীনতার আন্দোলনের অন্যতম নেতা ডাঃ রেনিন সো’কে হত্যার চেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছে মায়ানমারের সেনাবাহিনী।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৯ই জানুয়ারি, ২০১৯ ইং/সন্ধ্যা ৭:৩০