ব্রেকিং নিউজ
১৭ই জানুয়ারি, ২০১৯ ইং | ৪ঠা মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৭:২৪

বগুড়ার শেরপুরে শীতকালীন সবজির পাইকাড়ি বাজারে ধস!

 

বাদশা আলম, শেরপুর(বগুড়া) : উত্তরাঞ্চলের সবজি খ্যাত বগুড়ার শেরপুরে এ বছর শীতকালীন সবজির বাজারে ধস নেমেছে। প্রায় প্রতিদিনই কমছে সবজির দাম। এক্ষেত্রে বাজার থেকে পাইকাড়রা সস্তায় কিনে বেশী দামে বিক্রি করলেও উৎপাদন খরচও উঠছে না কৃষকের ঘরে। অতি কষ্টে উৎপাদন করা এসব সবজির দাম কৃষকরা ভোগ করতে না পেলেও কয়েক হাত বদলের মাধ্যমে এই সবজি সাধারণ মানুষকে কিনতে হচ্ছে তিন গুণ দামে।

বগুড়ার সবজির বৃহৎ মোকামখ্যাত বগুড়ার শেরপুরের ফুলবাড়ী সবজি বাজার ও বারোদুয়াড়ী হাট ঘুরে শীতকালীন সবজির বর্তমান বাজারমূল্য সম্পর্কে এমন তথ্য জানা যায়। রাজধানীসহ চট্টগ্রাম, সিলেট, টাঙ্গাইল, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা ও বিভিন্ন বিভাগীয় শহর ছাড়াও জেলা এবং উপজেলা শহর থেকে ব্যাপারীরা আসেন এ হাটে। কিনে নেন বছরের শীতকালিন সব ধরনের সবজি।

এছাড়া বগুড়া জেলার ১২টি উপজেলায় ১২ মাসই বিভিন্ন জাতের সবজি উৎপাদন করে থাকেন এখানকার কৃষকরা। তবে একটু বেশি লাভের আশায় কৃষকরা শীতকালীন সবজি চাষকে তুলনামূলক অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।সরেজমিনে গত রোববার (৬ জানুয়ারি) শেরপুরের সবচেয়ে বড় সবজি বাজার ফুলবাড়ি হাট ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়। জমিতে চাষ করা টাটকা সবজি বিক্রি করতে এসে অনেকটা বাধ্য হয়ে সস্তায় বিক্রি করে যাচ্ছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা।ফুলবাড়ি দাখিল মাদ্রাসার বিশাল মাঠ জুড়ে দেখা যায় বিভিন্ন প্রকারের শাবজি আর শবজি।

দূর-দুরান্ত থেকে আসা ব্যাপারীরা ছোট-বড় ট্রাক নিয়ে এসেছেন এ হাটে। আবার অনেকেই প্রয়োজনীয় সবজি কেনার পর এখান থেকেই ট্রাক ভাড়া করে সেই সবজি নির্ধারিত গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছেন।এই হাটে সবজি বিক্রি করতে আসা ছোট ফুলবাড়ি গ্রামের কৃষক মমিনুল ইসলাম, আব্দুল মালেক ও ছফের জানান, ফুলকপি ৮ টাকা, সিম ও বেগুন ৮ টাকা, কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এই দামে সবজি বিক্রি করে হাটে আনতে ভ্যান ভাড়া এবং জমি থেকে ফসল উঠানোর খরচ হচ্ছে না। বারোদুয়াড়ী হাট ঘুরে দেখা গেছে বাধা কপি প্রতি পিছ ৪ টাকা, গাজর ১৪ টাকা কেজি, টমেটো ১৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও বরবটি ৭ টাকা, আলু ১৭ টাকা, মুলা ৬ টাকা, কাচা মরিচ ২০ টাকা এবং পিয়াজ ১৮ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। কৃষক তাদের সবজির ন্যায্য দাম না পেলেও খুচরা বাজারে দুই থেকে তিনগুন বেশী দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে। তবে পাইকাড়রা সস্তায় কিনে বেশী দামে বিক্রি করে পোয়াবারোতে পরিণত হলেও কৃষকদের মাথায় হাত পড়ছে বলে সচেতনমহলেরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

খুচরা সবজি বিক্রেতারা দ্বিগুন মুল্যে সবজি বিক্রির কারণ হিসেবে বলেন, পরিবহন খরচ ছাড়াও পাইকারী হাটে সবজি কিনতে এবং খুচরা বাজারে সবজি বিক্রি করতে দুইবার খাজনা দিতে হয়। এছাড়াও কাচা সবজি পচনশীল হওয়ায় তাদের অনেক সবজি ঘাটতি হয়ে থাকে।

মহাস্থান সবজি হাটের ফড়িয়া ব্যাবসায়ী আমিরুল ও আব্দুল খালেক জানান, তারা কৃষকের কাছ থেকে কম দামে সবজি কিনলেও অতিরিক্ত খাজনা, পরিবহন খাতে অধিক ব্যয় ছাড়াও তাদের লাভ্যাংশ রাখার কারনে খুচরা বাজারে দুই থেকে তিন গুন দামে সবজি বিক্রি করতে হয়।এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শারমিন আকতার বলেন, কৃষকরা কঠিন পরিশ্রম করে এসব সবজি উৎপাদন করে থাকেন। বাজার কমে গেলে তারা সবজি চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। তাই বাজার মনিটরিংকারীদের এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো। যাতে করে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পায়।

 

কিউএনবি/রেশমা/৬ই জানুয়ারি, ২০১৯ ইং/দুপুর ২:৩৭