২২শে মার্চ, ২০১৯ ইং | ৮ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৯:০৮

ভূই শসা চাষ করে ভাগ্যের পরিবর্তন কৃষক ফখরুল

মোঃ রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি : জৈন্তাপুর উপজেলার কেন্দ্রি মৌজা গ্রামের ফখরুল ইসলাম। অন্যের জমি বর্গা চাষ নিয়ে নেমে পড়েন ভূই শষা চাষে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ছাড়াই স্বপ্ন পূরণ হয় ফখরুলের। প্রতি বছর তিনি অন্যের জমি বর্গা নিয়ে পুরো বছরের অর্থ সঞ্চয় করেন৷ ৪ সন্তানকে পড়াচ্ছেন স্কুলে।সরেজমিনে জৈন্তাপুর ইউনিয়নের কেন্দ্রি মৌজার ভূই শষা ক্ষেত্রের মাঠ ঘুরে ফখরুল ইসলামের সাথে আলাপ করে জানা যায়- কৃষি বিভাগের পরমর্শ ছাড়াই প্রায় তিন একর জায়গায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে গড়ে তুলেছেন ভূই শসার মাঠ। বর্তমানে প্রতিদিন হাজার ১২শত টাকার শসা বিক্রয় করেন তার ভূই শষার মাঠ হতে।তিনি জানান- এরই মধ্যে তিনি প্রায় ১০-১২ হাজার টাকার শসা বিক্রয় করেছেন।
যেভাবে ফলন এসেছে সঠিক ভাবে উত্তোলন করতে পারলে তিনি ৩ লক্ষাধিক টাকার ফলন পেতে পারেন বলে তার আশা৷ ফখরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন- সরকারি সুযোগ-সুবিধা তিনি কখনো পাননি। ৭ বছর পূর্বে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে কৃষি কার্ড করেছিলেন। কিন্তু কোন সুফল পাওয়া তো দূরের কথা, কেউই তার সাথে যোগাযোগ পর্যন্ত করেনি। কার্ডের মাধ্যমে কৃষক হয়েছি কিন্তু সুবিধা পাই না, তাই তিনি মনে করেন কার্ডটি রাখার প্রয়োজন নেই। তাই তিনি ২ বছর পূর্বে কৃষিকার্ড জমা দিয়েছেন। তিনি চলতি বছরে প্রায় ১০ বিঘা জায়গায় ইরি ধান রোপণ করছেন। তাছাড়া কেন্দ্রি মৌজার বিভিন্ন প্রান্তিক কৃষকরা ও বিভিন্ন প্রকারের সবজি এবং ইরি ধান চাষ করছেন।
ফখরুল আরও বলেন- যদি কৃষকরা হালের গরু এবং নিজের মেধা কাজে লাগিয়ে ২০-৩০ হাজার টাকা ব্যয় করে পতিত ভূমিতে খন্ড কালীন চাষাবাদ করে তাহলে ৩-৪ লক্ষ টাকা খরচ করে বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে ভাল রোজগার করা সম্ভব হবে এবং অভাব-অনটন থাকবে না।জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান বলেন- তার ইউনিয়নে ব্যাপক হারে কৃষি সবজি চাষ হয়েছে। তবে বিশেষ করে সরকারি ভাবে অনেক প্রান্তিক কৃষকরা সুবিধা পাচ্ছে না। অামি উপজেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানাই আমার ইউনিয়নে বেশির ভাগ কৃষক সুবিধা বঞ্চিত রয়েছে তাদেরকে বিনামূল্যে সার বীজ ক্রীট নাশক সরবরাহ করার৷ সরকারি সম্পদ সীমিত কিন্তু কৃষি অফিসাররা কৃষকদের মধ্যে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সাধারণ পরিচর্যা রোগ-বালাই ইত্যাদি সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা দিতেন তাহলে আমার ইউনিয়ন উপজেলার মধ্যে সেরা কৃষি নির্ভর ইউনিয়ন হিসাবে গণ্য হত৷ অামার ইউনিয়নে আগত কৃষকদেরকে সব সময় কৃষি বিপ্লবের জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকি। এক কথায় আমার ইউনিয়ন উপজেলার মধ্যে কৃষি বিপ্লবে এগিয়ে রয়েছে।
কিউএনবি/সাজু/৩রা জানুয়ারি, ২০১৯ ইং/বিকাল ৫:০৫