২১শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং | ৮ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৪:২০

ক্যাপসিকাম চাষে ভাগ্য ফিরাতে চান জৈন্তাপুরের হাবিজুর 

মোঃ রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি : জৈন্তাপুরে উন্নত হাইব্রীড জাতের ক্যাপসিকাম বাম্পার ফলন। বাজার না পাওয়ায় হতাসায় কৃষক৷ জৈন্তাপুরে উন্নত হাইব্রীড জাতের ক্যাপসিকাম (মরিচ জাতীয় সবজি / বেলপিপার / শিমলা) বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর দামও ভালো না পাওয়ায় হতাসা কৃষকের মুখে। গেল বৎসর ভাল ফলন ও লাভ দেখে অনেকে ক্যাপসিকাম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠলে সফল হননি তারা৷ ক্যাপসীকাম চাষে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর কৃষকের মাঝে উপযুক্ত প্রশিক্ষন দিয়ে ভাল বীজ সরবরাহ করলে হয়তবা এলাকার অনেক কৃষক উপকৃত হতে পারত৷ ফলে একদিকে যেমন বেকারত্ব দূর হত, অন্যদিকে আর্থিক ভাবে লাভবান হতে পারে কৃষকরা। অন্য ফসলের তুলনায় কম ব্যয়ে বেশি লাভ ক্যাপসীকাম চাষে। কিন্তু উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর এ বিষয়ে কোন ভূমিকা গ্রহন করছে না৷ গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ক্যাপসিকাম কম হয়েছে৷ 

কৃষক মোঃ হাবিজুর রহমান শুকুর বলেন- উপজেলা কৃষি অফিসের অনাগ্রহ, মাঠ পর্যায় কৃষি কর্মকর্তা কিংবা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা পরিদর্শন না করা, রোগের আক্রমন এবং প্রতিকার না পাওয়া, কৃষি অফিসের পরামর্শ না পাওয়ায় এবছর তিনি সফল নন৷ তার পরও নিজ চেষ্টায় এক বিঘা জমিতে ক্যাপসীকাম চাষ করেছেন৷ ১বিঘা বা ৩৩ শতাংশ জমিতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার৷ স্থানীয় বাজারে তেমন বিক্রয় হয় না এই সবজি৷ সিলেট শহরে নিয়ে বিক্রয় করতে হয়৷ গত বৎসরের তুলনায় দাম কম পাচ্ছেন৷ এবৎসর লাভ কম হবে, তবে বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া যাবে বলে আশাবাদি কৃষক৷
তিনি আরও জানান- শুনেছি সরকার কৃষকদের ভর্তুকির মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রান্তিক কৃষকদের বিনা মূল্যে সার বীজ কিটনাশক দেওয়া হয় কিন্তু আমরা (প্রকৃত) কৃষকরা তা পাই না৷ গত বৎসর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিনে আমার মাঠের ফলন দেখেন, তখন মনে করেছিলাম এবার হয়ত সরকারের তরফ হতে সাহায্য সহযোগিতা পাব৷ কিন্তু আমার আশা আশাই থেকে গেল কোন লাভ হল না৷ 
কৃষক আশ্বিন মাসে ক্যাপসিকাম আবাদ শুরু করে বর্তমানে ফলন পাচ্ছেন৷ মাঘ মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ফসল তোলা শেষ হবে। বাজারে প্রতি কেজি ক্যাপসিকাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় করছি৷ চাষাবাদ পদ্ধতি অন্যান্য জাতের মরিচের মতোই। সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে ক্যাপসিকাম’র কদর বাড়ছে দিন দিন। তবে সরকারি কৃষি অফিসের রোগ প্রতিরোধ ভাল বীজ সম্পর্কে সহযোগিতা পেলে অনেক কৃষক তাদের পরিত্যাক্ত বা অনাবাদি জমিতে ফসলটি চাষ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন৷এবিষয়ে জানতে জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারুক হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই৷

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২রা জানুয়ারি, ২০১৯ ইং/সন্ধ্যা ৭:১৯