ব্রেকিং নিউজ
১৭ই জানুয়ারি, ২০১৯ ইং | ৪ঠা মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৬:৪৫

৩ চিকিৎসক দিয়েই চলছে ৩ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা

আবদুল্লাহ রিয়েল,ফেনী প্রতিনিধি : ফেনীর উপকূলীয় সোনাগাজী উপজেলার সাড়ে ৩ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক-কর্মচারী ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংকটে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি যেন নিজেই রোগাক্রান্ত। ফলে উপকূলীয় উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বাসিন্দারা কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠছে -কিন্তু মিলছে না প্রতীকার।

সরেজমিনে দেখা যায়,অব্যবস্থাপনায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগীরা। তখন বেলা সাড়ে ১২টা। পুরো হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিতৎসক মাত্র ১ জন।রোগীরা জানান, নার্সদের ডাকলেও তারা আসতে বিলম্ব করেন।উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোনাগাজী উপজেলায় চিকিৎসকের মোট ২১টি পদ থাকলেও বর্তমানে উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩ জন চিকিৎসক। অফিস সহকারীর ৫টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ২ জন।

চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের পাঁচটি পদের মধ্যে আছেন মাত্র একজন। সুইপারদের ৫টি পদের মধ্যে ৪টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। টেকনিশিয়ান থাকলেও দীর্ঘদিন এক্সরে মেশিনটি বিকল। গত প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় জেনারেটরটি নষ্ট অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এছাড়া আসবাবপত্র ও বিভিন্ন বিভাগে যন্ত্রপাতির সংকটও রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ আরো জানায়, বর্তমানে হাসপাতালে যে তিনজন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন-তাদের মধ্যে একজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। তাকেও দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি রোগী দেখতে হয়। দু’জন নারী মেডিকেল অফিসার (চিকিৎসক) দিয়ে চরম সংকটে চলছে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কাগজে কলমে ৫০ শয্যার বলা হলেও ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে। প্রতিদিন গড়ে ৭৫/৮০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগে গড়ে দূর দূরান্ত থেকে সাড়ে তিনশ’ থেকে চারশ’ রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন।

কিন্তু প্রয়োজনীয় ও বিভাগীয় চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগীকে সেবা না নিয়েই বাড়ি ফিরে যেতে হয়। অথবা জেলা শহরে বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হয়।উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছাড়াইতকান্দি গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা নূর হোসেন নামে একজন রোগী জানান, তিনি দাঁতের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে দাঁতের চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

চরখোয়াজ গ্রামের হাড় ভাঙ্গা রোগী শাহানা আক্তার চিকিৎসা সেবার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জানতে পারেন, হাসপাতালের এক্সরে মেশিনটি নষ্ট। সোনাগাজী উপজেলা সদরে ভাল কোনো এক্স-রে মেশিন না থাকায় বাধ্য হয়ে তাকে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়।সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুরুল আলম, চিকিৎসক-কর্মচারী ও যন্ত্রপাতি সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, চিকিৎসক সংকট এবং এক্স-রে মেশিনসহ বিভিন্ন বিভাগের যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকার বিষয়ে একাধিক বার চিঠি দিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।তিনি আরো জানান, ২১ জন ডাক্তারের মধ্যে মাত্র ৩ জন ডাক্তার দিয়ে চরম সংকটের মধ্যেও রোগীদের সেবা দিতে সাধ্যমতো চেষ্টা চলছে।

কিউএনবি/রেশমা/৩রা ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং/দুপুর ২:৫৮