১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:৫০

গৌরনদীতে সংখ্যালঘু কিশোরকে নির্মম নির্যাতন ও মাছের ঘেরের টং পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় পুলিশ তিন দিনেও মামলা নেয়নি

 

বিশ্বজিত সরকার বিপ্লব,গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা : বরিশালের গৌরনদীতে মিথ্যা অপবাদে এক সংখ্যালঘু কিশোরকে গভীর রাতে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতনসহ ও আগুন দিয়ে তাদের মাছের ঘেরের টং পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় গত তিন দিনেও থানা পুলিশ কোন মামলা নেয়নি।

এ ঘটনায় ওই এলাকার সংখ্যালঘুদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। উপজেলার কেফায়েত নগর গ্রামের সংখ্যালঘু রনজিত সরকারের স্ত্রী রেখা সরকার জানান, সংসারের প্রয়োজনে গত ১১ নভেম্বর রোববার সকালে তিনি তার ছেলে সাগর সরকার (১৬)কে দিয়ে নিজের পালিত ৪টি হাঁস বিক্রির উদ্দেশ্য পার্শ্ববর্তি সরিকল বাজারে পাঠান। ছেলে সাগর সরকার হাঁস নিয়ে বিক্রির জন্য বাজারে গেলে বাজারের ইজারাদার নাসির মোল্লার নেতৃত্বে ৩/৪জন যুবক মিয়ে চোরাই হাঁস বিক্রির অপবাদ দিয়ে ৪টি হাস ও সাগরের ব্যাবহৃত মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। একই সময় ওই গ্রামের তৈয়ব আলী রাঢ়ী’র স্ত্রী ময়না বেগমের ৩টি হাঁস হারিয়ে যায়।

ওই হাঁস ৩টি সাগর সরকার চুরি করেছে বলে অপবাদ দিয়ে ময়না বেগম তার প্রতিবেশী ভূলু সরদারের ছেলে রাসেল সরদার, এছাহাক সরদারের ছেলে সালাম সরদারসহ ৪/৫জন যুবককে নিয়ে গত ১৭ নভেম্বর শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সাগরের পিতার মাছের ঘেরে চড়াও হয়।এ সময় তারা ঘের পাহারা দিতে ঘেরের টং এর ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা সাগর সরকারকে ধরে ঘেরের অপর পাড়ের নির্জন যায়গায় নিয়ে যায়।

সেখানে বসে হাস চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ে তারা সাগরের ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়।এতে সাগর অচেতন হয়ে পড়লে সাগর মারা গেছে ভেবে তাকে ঘেরের আইলের ওপরে ফেলে রেখে তার টংটিতে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।ওই রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে এসে টং এ দাউ দাউ করে আগুন জলতে দেখে সাগরের বাবা, মা ডাক চিৎকার দিয়ে সেখানে গিয়ে সাগরকে না পেয়ে খোজাখুজি করেন।এক পর্যায়ে তারা ঘেরের আইলে অচেতন অবস্থায় সাগরকে পেয়ে দ্রুত তাকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

রেখা সরকার অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থানায় মামলা দায়েরের জন্য রোববার সকালে তিনি গৌরনদী মডেল থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।অভিযোগ পেয়ে থানার এসআই আবুল বাসার তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।কিন্তু আজ মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত পুলিশ আমার মামলাটি রেকর্ড করেনি।এ কারনে নির্যাতনকারীদের ধৃষ্টতা আরো বেরে গেছে।তারা যেখানেই আমাদেরকে দেখছে সেখানে বসেই আমাদেরকে হুমকি দিচ্ছে যে, এ নিয়ে বেশী বাড়াবাড়ি করলে আমাদেরকে মেরে ফেলবে।

ওদের ধৃষ্টতা এতই যে. গতকাল মঙ্গলবার ভোরে হামলাকারী প্রভাবশালীদের কয়েকজন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসকদের প্রভাবিত করে চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভর্তির তালিকা থেকে আমার ছেলের নাম কেটে দেয়।পরে স্থানীয় ২জন সাংবাদিকের হস্তক্ষেপে ডাক্তারগন পূনরায় ওকে ভর্তি করে।

রেখা সরকারের অভিযোগ অস্বীকার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাহাবুবুল আলম মির্জা বলেন, আমাদের চিকিৎসায় সাগরের স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হয়েছে।তবে সে পুরোপুরি সুস্থ্য নয়।সকাল বেলা ছেলেটি নিজেই আমার রুমে এসে তার নাম কেটে তাকে বিদায় দেয়ার অনুরোধ করে।এ কারনে আমরা তাকে ছেড়ে দেই।পরে তার মা এসে অনুরোধ করায় আবার তাকে ভর্তি করি।গৌরনদী মডেল থানার এসআই আবুল বাসার বলেন, বিষটি নিয়ে উভয় পক্ষ সালিশ মিমাংসা করবে বলায় এখনও মামলা রেকর্ড হয়নি।মিমাংশা না হলে যে কোন সময় মামলা হবে।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৭:২০