২৬শে মে, ২০১৯ ইং | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:০৯

সমুদ্রই ভবিষ্যৎ উন্নয়নের প্রধান আশ্রয়

 

ডেস্ক নিউজ : সমুদ্রভিত্তিক নীল অর্থনীতি বিষয়ে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, সমুদ্রসম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব।এর জন্য দরকার অংশীদারিত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা। জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি এবং ভূমিভিত্তিক সম্পদ হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রই হয়ে উঠেছে ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান আশ্রয়।

‘টেকসই উন্নয়নের জন্য সমুদ্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা’ শীর্ষক এ সেমিনার আয়োজন করে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিমরাড)। ঢাকার হোটেল রেডিসন ব্ল–’তে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ। প্রধান অতিথি বলেন, গোটা গ্রহের ৭১ শতাংশই সমুদ্র। সাম্প্রতিক প্রবণতা হচ্ছে বৃহৎ শক্তি এবং বড় দেশগুলো তাদের অধীন সামুদ্রিক এলাকার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এ সমুদ্রের ওপর যদি কর্তৃত্বের কথা আসে; তাহলে বলব, কর্তৃত্বের নামে সমুদ্র দূষণ বা নীল সমুদ্রকে ধূসরে পরিণত করব না।

যদি সমুদ্র নিরাপদ রাখি, তাহলেই আমরা নিরাপদ থাকতে পারব।দিনব্যাপী এ সেমিনারে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা এবং বাংলাদেশের মেরিটাইম বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব রিয়ার এডমিরাল (অব.) খুরশিদ আলম, নৌ-কর্মকর্তা রিয়ার এডমিরাল এএসএমএ আওয়াল, সাবেক ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল আরকে ধোওয়ান, যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন (অব.) রিচার্ড ফ্রেন্সিস সিয়ার্স, মালয়েশিয়ার মেরিটাইম ইন্সটিটিউটের শেরাইল রিতা কাউর, শ্রীলংকার পাথফাইন্ডার ফাউন্ডেশনের পরিচালক এডমিরাল (অব.) প্রফেসর ড. জয়ানাথ কলোমবাগে মেরিটাইম বিষয়ে বিভিন্ন প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউট (বিইআই)-এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও ফারুক সোবহান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ সঞ্চালক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে মেরিটাইম ক্ষেত্রে পারস্পরিক তথ্য বিনিময়, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার উদ্দেশ্যে বিমরাডের সঙ্গে ভারতের ন্যাশনাল মেরিটাইম ফাউন্ডেশন, যুক্তরাষ্ট্রের ডানিয়েল কে আইনোইয়ি এশিয়া-প্যাসিফিক সেন্টার ফর সিকিউরিটি স্টাডিজ, এবং শ্রীলংকার দ্য পাথফাইন্ডার ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

সেমিনারে সমুদ্রসম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণ এবং এর সঠিক ব্যবহার, সমুদ্রদূষণ প্রতিরোধ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সমুদ্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বলা হয়, পৃথিবীর ৭১ শতাংশ দ্বারা আচ্ছাদিত সমুদ্র যুগে যুগে মানবসভ্যতা, সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য, অবসর যাপনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।

এটি ইকো সিস্টেম ও জীবমণ্ডলের ভারসাম্য রক্ষা করে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং আমাদের অক্সিজেন, খাদ্য, পানীয়, শক্তি, কাঁচামাল ওষুধ এমনকি বিনোদন ও সংস্কৃতির জোগান দেয়। অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী বলেন, বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক আগ্রহে বাংলাদেশ অর্জন করেছে ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটারের এক বিশাল সমুদ্র এলাকা।

এই সমুদ্র মৎস্য ও খনিজসহ বিভিন্ন সম্পদে পরিপূর্ণ। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে এ সম্পদকে কাজে লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিমরাড) বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় একটি সেবাধর্মী ও অলাভজনক সামুদ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ৩ জুলাই যাত্রা শুরু করেছে।

 

 

কিউএনবি/অায়শা/২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং/বিকাল ৫:৪৮

Please follow and like us:
0
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial