ব্রেকিং নিউজ
১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:৫১

পা দিয়ে লিখে পিইসি পরীক্ষা দিচ্ছে সিয়াম

 

জাকারিয়া জাহাঙ্গীর,সরিষাবাড়ী : শুধু শারিরীক শক্তিই নয়, ইচ্ছা আর মনোবল থাকলে কোনো বাঁধাই পথ আটকে রাখতে পারে না। তার বাস্তব দৃষ্টান্ত দুই হাতবিহীন মেধাবী ছাত্র সিয়াম (১১)। জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার চাপারকোনা মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পা দিয়ে লিখে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা দিচ্ছে সে। সিয়াম ডোয়াইল ইউনিয়নের উদনাপাড়া গ্রামের দিনমজুর জিন্নাহ্ মিয়ার ছেলে। সে উদনাপাড়া ব্র্যাক শিশু নিকেতনের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার ‘সমাজ’ পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ১১৫নং কক্ষে একটি টেবিলের উপরে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে সিয়াম। দুটি হাত না থাকায় বাম পায়ের আঙ্গুলে কলম রেখে খাতায় মনোযোগ দিয়ে লিখে চলেছে সে। লেখার মানও দেখতে সুন্দর।পরীক্ষা শেষে কক্ষ থেকে বেরিয়ে সিয়াম এ প্রতিবেদককে জানায়, ‘আমার কোনো হাত নেই, তাতে কী? অধিকাংশ নিজের কাজ নিজেই করার চেষ্টা করি।হাত না থাকলেও পায়ে লিখে পরীক্ষা দিতে পারছি এটাই আমার আনন্দ।’সে দেশের সর্বোচ্চ লেখাপড়া শেষ করে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হয়ে দেশের সেবা করতে চায় বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে।

সিয়ামের মা জোসনা বেগম জানান, ‘তিন ভাইবোনের মধ্যে সিয়াম সবার ছোট। জন্ম থেকেই তার দুটি হাত নেই। প্রতিবন্ধী হলেও লেখাপড়ার প্রতি তার ঝোক অনেক। কখনো পড়তে বসতে বলতে হয় না। কিছু কিছু কাজ ছাড়া অধিকাংশ কাজও নিজেই করে। সাঁতার কাটা ও খেলাধুলাতেও পারদর্শী।’ তিনি আরো বলেন, ‘অর্থের অভাবে ছেলের চিকিৎসা, পুষ্টিকর খাবার বা ভালো পোষাকও দিতে পারি না।’ সরকারি-বেসরকারী বড় ধরণের কোনো সহযোগিতা পেলে ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তোলতে পারবেন বলে তাঁর বিশ্বাস।

উদনাপাড়া ব্র্যাক শিশু নিকেতনের প্রধান শিক্ষিকা জাকিয়া সুলতানা জানান, ‘সিয়াম প্রথম শ্রেণি থেকে এখানে পড়ালেখা শুরু করে। বাবার আর্থিক অস্বচ্ছলতার জন্য লেখাপড়া মাঝপথে থমকে যায়। পরে মাসিক বেতন মওকুফ করার পর পুণরায় সে লেখাপড়ায় মন দিয়েছে।’ পড়ালেখার পাশাপাশি সে সব ধরণের খেলাধুলাতেও পরিদর্শী বলে প্রধান শিক্ষিকা জানান।

চাপারকোনা মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলেটি খুব মেধাবী ও ভদ্র। প্রতিদিন সে মনোযোগ দিয়ে লিখে।’ প্রধান শিক্ষক আরো জানান, ‘সে পিইসি পরীক্ষায় উত্তির্ণের পর মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হলে এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত উপবৃত্তি প্রদানসহ লেখাপড়ায় সব ধরণের বেতন ও ফি মওকুফ করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ওই শিক্ষার্থীর পরিবার ও বিদ্যালয়ে কথা বলে তাকে সব ধরণের সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে।’

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং/বিকাল ৫:৪২