১৯শে ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৭:৩৮

খালেদা নির্বাচন করতে পারবেন আশা ফখরুলের

 

ডেস্ক নিউজঃ  বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া এখন পর্যন্ত নির্বাচন করার জন্য যোগ্য আছেন এবং নিঃসন্দেহে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।’ গতকাল সোমবার আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার এক ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে প্রার্থী করতে তাঁর পক্ষে ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ এবং জমা দেওয়া হয়েছে।

গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডে গতকাল মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দ্বিতীয় দিনের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। আগের দিনের মতো গতকালও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রতি নির্বাচনের মাঠে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এদিন বরিশাল ও খুলনা বিভাগে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গতকালও লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে প্রার্থীদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ২১টি সংসদীয় আসনে ১৭৮ জন এবং দুপুরের পর খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৩৬টি সংসদীয় আসনে ২৯০ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী সাক্ষাৎকার দেন।

জানা গেছে, মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা একই আসন থেকে একাধিক প্রার্থী থাকার বিষয়ে দল যাঁকে মনোনয়ন দেবে তাঁর পক্ষে কাজ করা, মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার ক্ষমতা ইত্যাদি নানা প্রশ্ন করেছেন। এমনকি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার মতো বিষয়েও প্রার্থীদের  অবস্থান জানতে চেয়েছেন।বরিশাল-১ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী আকন কুদ্দুসুর রহমান সাক্ষাৎকার শেষে তারেক রহমান ও মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা মনোযোগসহকারে আমাদের কথা শুনেছেন। তারেক রহমান বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন।’

বরিশাল-২ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী দুলাল হোসেন বলেন, ‘বরিশাল ১, ২ ও ৩ আসনের প্রার্থীদের একসঙ্গে ডাকা হয়েছে। আমরা কার্যালয়ের দোতলায় গিয়ে বসার পর প্রার্থীদের নাম পড়ে শোনান মহাসচিব মির্জা ফখরুল। এরপর তিনি জানান, তারেক রহমান স্কাইপে যুক্ত রয়েছেন। তিনি আপনাদের সঙ্গে কথা বলবেন। এরপর তারেক রহমান ১৫-২০ মিনিট সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকাসহ নানা দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।’ পরে অন্য নেতাদের বক্তব্য শেষে তাঁরা চলে আসেন। বরিশাল-৫ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহ বলেন, দলের দুর্দিনে সব ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছে হাইকমান্ড। পটুয়াখালী-২ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী মুনির হোসেন বলেন, তাঁদের জেলার চারটি আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের একসঙ্গে ডাকা হয়। বোর্ডে তাঁদের তেমন কিছু জিজ্ঞাসা করা হয়নি।

এদিকে সকাল সাড়ে ৯টায় সাক্ষাৎকার দিতে আসা সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত শহীদুল হক জামালকে নেতাকর্মীরা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। তিনি বরিশাল-২ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী। কয়েক দিন আগে তাঁকে দলে সক্রিয় করা হয়। সাক্ষাৎ শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময়ে শহীদুল হক ‘অতীতের ভুল’ স্বীকার করলে নেতাকর্মীরা তাঁর পথ ছেড়ে দাঁড়ায়। একইভাবে ঝালকাঠি জেলার সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো এবং বরিশালের সাবেক এমপি রশিদ হাওলাদারের বিরুদ্ধেও নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকে। তবে তাঁদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়নি।

মনোনয়ন বোর্ডে ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহাবুুবুর রহমান, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

খালেদা জিয়ার অংশ নেওয়ার আশাবাদ

বরিশাল বিভাগের সাক্ষাৎকারের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্বাচন করতে পারার বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন। এরপর তিনি বলেন, ‘আমরা আবারও বলছি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে রাজবন্দিদের মুক্তি দিতে হবে। গ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে আমরা মনে করি। গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার জন্য, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য এবং দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য যে গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যজোট শুরু করেছে, বিরোধী দলগুলো শুরু করেছে, তারই অংশ হিসেবে আমরা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। যদিও এখন পর্যন্ত নির্বাচনের জন্য একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা হয়নি, নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হয়নি, তারা সংসদ ভাঙেনি।’

মির্জ ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে কথা দিয়েছিলেন নতুন করে গ্রেপ্তার করা হবে না, মামলা দেওয়া হবে না তারও কোনো বাস্তবায়ন নেই। আমরা প্রায়ই দেখছি, আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে এবং কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে ক্ষোভের বিষয় হলো, আমাদের যারা ভালো প্রার্থী তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে, তাদের জামিন না দিয়ে জামিনের শুনানি বিলম্বিত করা হচ্ছে। শুনানির তারিখ নির্বাচনের পরে দেওয়া হচ্ছে, যেটা একটা নতুন কৌশল। তারা নিম্ন আদালতকে ব্যবহার করে এই নির্বাচনের ওপর প্রভার ফেলছে। আমরা এ বিষয়গুলো নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি।’

দলের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে কোন্দল আছে কি না প্রশ্ন করা হলে ফখরুল বলেন, ‘আমাদের প্রার্থিতা নিয়ে কোনো কোন্দল নেই। আমাদের প্রার্থীরা এখন ঐক্যবদ্ধ। যিনি মনোনয়ন পাবেন তাঁর পক্ষেই সবাই কাজ করবেন। কারণ এই নির্বাচনকে আমরা চূড়ান্ত আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিয়েছি।’

আজ যাঁরা সাক্ষাৎকার দেবেন : আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগ, দুপুর আড়াইটা থেকে কুমিল্লা ও সিলেট বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সাক্ষাৎকার দেবেন। কাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর বিভাগ, দুপুর আড়াইটা থেকে ঢাকা বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।

 

 

কিউএনবি/অদ্রি আহমেদ/২০.১১.২০১৮/ সকাল ৯.৩০