১৯শে ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ভোর ৫:২৫

বাসচাপায় রাজীব-দিয়ার মৃত্যু : আরো তিনজনের সাক্ষ্য

 

আইন আদালতঃ  বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন তিন পুলিশ। এ নিয়ে চার্জশিটের ৪১ জন সাক্ষির ২৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল রবিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েস সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরার পর মামলার কার্যক্রম রবিবার দুপুর পর্যন্ত মুলতবি করেন।

সাক্ষীরা হলেন- আসাদুজ্জামান, আবদুল খালেক ও আবদুস সালাম। সাক্ষ্য গ্রহণের আগে কারাগারে থাকা মামলার আসামি জাবালে নূর পরিবহনের মালিক শাহাদাত হোসেনসহ চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়।

গত ২৫ অক্টোবর জাবালে নুর পরিবহনের ঘাতক বাসের মালিক শাহাদাত হোসেননহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম দণ্ডবিধির ২৭৯/৩২৩/৩২৫/৩০৪/৩৪ ধারায় চার্জশিট দাখিল করেন।

এরা হলেন হলেন- জাবালে নূর পরিবহনের ঘাতক বাসের মালিক শাহাদাত হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম, দুই বাসচালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং তাদের দুই সহকারী এনায়েত হোসেন ও কাজী আসাদ। এদের মধ্যে কাজী আসাদ ও জাহাঙ্গীর আলম এখনো পলাতক।

চার্জশিটে বলা হয়, অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ২৯ জুলাই দুপুরে চালক ও তাদের সহকারীরা বেশি যাত্রী ওঠানোর লোভে যাত্রীদের কথা না শুনে, তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে জিল্লুর রহমান উড়াল সড়কের ঢালের সামনে রাস্তা বন্ধ করে দাঁড়ায়। এ সময় ঘাতক বাসটির চালক মাসুম বিল্লাহ বাসের জন্য অপেক্ষমান শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ১৪/১৫ জন শিক্ষার্থীর ওপর দিয়ে বাস উঠিয়ে দেন। ঘটনাস্থলেই ওই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব (১৭) ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৬)। দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। আহত হয় ৯ জন।

এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী দিয়া খানমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন।

জাবালে নূর পরিবহনের যে তিন বাসের রেষারেষিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে, ওইগুলোর নিবন্ধন নম্বর হলো ঢাকা মেট্রো ব-১১-৯২৯৭, ঢাকা মেট্রো ব-১১-৭৬৫৭ এবং ঢাকা মেট্রো ব-১১-৭৫৮০। এর মধ্যে ঢাকা মেট্রো ব-১১-৯২৯৭ নম্বর বাসের চাপায় মারা যান দুই শিক্ষার্থী। বাসটি চালাচ্ছিলেন মাসুম বিল্লাহ। ঢাকা মেট্রো ব-১১-৭৬৫৭ নম্বর বাসের চালক ছিলেন জুবায়ের এবং ঢাকা মেট্রো ব-১১-৭৫৮০ নম্বর বাসটির চালক ছিলেন সোহাগ।

এরপর মিরপুর ও বরগুনায় অভিযান চালিয়ে জাবালে নূরের তিন বাসের তিন চালক এবং তাদের দুই সহযোগী এনায়েত ও রিপনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১)। এরপর গত পহেলা আগস্ট সন্ধ্যায় ঘাতক বাসের মালিক শাহাদাত হোসেনকে (৬০) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্ত চলাকালীন গ্রেপ্তার আসামি ঘাতক বাসের মালিক শাহাদাত হোসেন, মাসুম বিল্লাহ ও জোবায়ের সুমন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

 কিউএনবি/অদ্রি আহমেদ/১৯.১১.২০১৮/ সকাল ১১.২২