ব্রেকিং নিউজ
১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:৪৬

বাবুরহাটে সরকারি জমি লিজ নবায়ন না করেই বানিজ্য

সালাউদ্দিন, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি : সরকারি তরফে তিন বছর ধরে জমির লিজ নবায়ন বন্ধ রাখা হলেও নরসিংদীর মোশাররফ স্পিনিং মিলসের চেয়ারম্যান ও বাবুরহাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন সিআইপির বিরুদ্ধে সেই জমির অবৈধ স্থাপনা ব্যবহার করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দেশের অন্যতম পাইকারি কাপড়ের বাজার নরসিংদীর বাবুরহাটে এসব অবৈধ স্থাপনা অবস্থিত।জেলা প্রশাসন বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়নি। শিগগির এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময়ে বাবুরহাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন মোশাররফ হোসেন। ওই সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের ও স্ত্রী এবং নাবালক ছেলেমেয়ের নামে ৬টি খাসজমি বরাদ্দ নেন তিনি। ২০০২-২০০৩ অর্থবছরের লাইসেন্স নম্বর ৩৪ দিয়ে মোশাররফ হোসেন আধা শতাংশ (০.০০৫০) পরিমাণ খাসজমি বরাদ্দ নেন। এ ছাড়া ১৯৯৯ সালের লাইসেন্স দিয়ে ০.০০৪৮ একর পরিমাণ জমি বরাদ্দ নেন তিনি, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৬ সালে।

 

ক্ষমতার অপব্যবহার করে তৎকালীন সময়ে সরকারি খাসজমি বরাদ্দ নেওয়া অন্যরা হলেন মোশাররফ হোসেনের স্ত্রী জেসমিন দিলরুবা, তিন মেয়ে আফিয়া তাহিরা মিশু, আফ্র মিম, শাহারা খাতুন ও ছেলে মেহেদী হাসান। মোশাররফ তার মালিকানাধীন মার্কেটের পেছনের পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদের জমি বরাদ্দ নেন। তিনি সেখানে নদী ভরাট করে মার্কেট সম্প্রসারণ করেন এবং দোকান ভাড়া দেন, যা থেকে প্রতিবছর এক কোটি ২০ লাখ টাকা আয় করেন তিনি। ১৪২১ বাংলা সালে ওই জমি বরাদ্দের মেয়াদ শেষ হয়। এর পর আর বরাদ্দ নবায়ন করা হয়নি। শিলমান্দী ভূমি অফিস থেকে তাকে বারবার জমির দখল ছাড়ার চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু মোশাররফ জমির দখল ছাড়ছেন না।

শিলমান্দী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব আসাদুল হক জানান, মোশাররফ হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাজারের ভূমি একসনা বন্দোবস্ত নিয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী একটি পরিবারের একজনের অধিক কেউ সরকারি খাসজমি বরাদ্দ নিতে পারেন না। কিন্তু মোশাররফ তাই করেছেন। বিষয়টি নজরে আসার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে লিজ নবায়ন বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে বিধিমতে তার স্থাপনাগুলো অবৈধ। তিনি অবৈধভাবে এর ভোগদখল করছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

নরসিংদী সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, খাস জমি বরাদ্দ দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু একই পরিবারের সবাইকে জমি বরাদ্দ দেওয়া আইনে নেই। এক পরিবারে শুধু একজনকে দিতে হয়। বিষয়টি আমারও আগে জানা ছিল না। এবার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

বাবুরহাট বাজারের একজন ব্যবসায়ী  বলেন, তৎকালীন সময় সিআইপি মোশাররফ ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের নাবালক সন্তানদের নামে জমি বরাদ্দ নেন, এটাও আইনবহির্ভূত। বর্তমানে তিনি বাবুরহাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন নেতাকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে সরকারি ওই জমিগুলো ভোগদখল করছেন। বাবুরহাটে জমির মূল্য অনেক বেশি। তাই জমিটি হাতছাড়া করতে চাচ্ছেন না তিনি।

বিষয়টি দৃষ্টিগোচর করা হলে নরসিংদীর জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন বলেন, বিষয়টি আমারও জানা ছিল না। সরকারি জমি কেউ অবৈধভাবে দখল করে রাখতে পারবেন না। তিনি আরও জানান, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর সেকেরচর বাবুরহাট বাজারের চান্দিনা ভিটিসমূহের রেজিস্ট্রার তৈরি করা হয়েছে। বাজারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও বিধি মোতাবেক সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে মোশাররফ হোসেন বলেন, আমার পুরো পরিবারকে সরকার কীভাবে খাসজমি বরাদ্দ দিয়েছে সেটা তাদের জিজ্ঞাসা করুন। আমি পুনরায় বরাদ্দ নবায়নের জন্য আবেদন করেছি; কিন্তু এখনো চিঠি পাইনি। আর বাতিলের বিষয়টি আমারও জানা নেই। বাতিল হলেও আমাকে চিঠি দিত। সবাই যতটুকু দখল করেছে আমি ততটুকুই দখল করেছি। যদি সরকার চায়, আমি স্থাপনা সরিয়ে নেব। তারা আমার কাছে এসে বলুক। 

 

কিউএনবি/অনিমা/১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং/দুপুর ১২:৪৫