১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৭:৩০

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু নিয়ে অনিশ্চয়তা

 

ডেস্ক নিউজ : সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করা নিয়ে শেষ মুহূর্তে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে দিনে ১৫০ জন করে রোহিঙ্গার মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরুর কথা ছিল। গত ৩০ অক্টোবর ঢাকায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে গঠিত বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) তৃতীয় বৈঠকে প্রত্যাবাসন শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। এরপর গত সোমবার মিয়ানমারের পক্ষ থেকে একটি নোট ভার্বালের মাধ্যমে এ বিষয়ে সম্মতি জানানো হয়। সম্মতিপত্র অনুযায়ী প্রথম ব্যাচে ৪৮৫ পরিবারের ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার।

তবে শেষ মুহূর্তে এসে প্রত্যাবাসন শুরু নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং পুনর্বাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম গতকাল বুধবার গণমাধ্যমকে বলেন, এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এ সময় কার্যালয়ে সরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা এবং অন্যান্য স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছিলেন তিনি। জানা যায়, এই বৈঠকগুলো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কর্মসূচি শুরু হওয়ার প্রস্তুতি হিসেবেই হচ্ছিল।

মোহাম্মদ আবুল কালাম জানান, তার দফতর ১৫০ জন শরণার্থীর চূড়ান্ত তালিকা জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর হাতে তুলে দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, এই তালিকার প্রত্যেক সদস্যের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলে জানার কথা যে, তারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে রাজি কি না। ইউএনএইচসিআর এর কক্সবাজারের কর্মকর্তারা জানান যে, তারা মঙ্গলবার থেকে তালিকাভুক্ত শরণার্থীদের সাক্ষাত্কার নিতে শুরু করেছে, যা গতকালও চলেছে। এক কর্মকর্তা জানান, তারা এই সাক্ষাত্কার গ্রহণ শেষে শরণার্থী পুনর্বাসন ও প্রত্যাবাসন কমিশনের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন হস্তান্তর করবে এবং নিয়ম অনুযায়ী এর পরেই প্রত্যাবাসন কর্মসূচি শুরু করা যাবে। তবে গতকাল পর্যন্ত সেই প্রতিবেদন জমা দিতে পারবে কি না ইউএনএইচসিআর তা নিশ্চিত করতে পারেনি।

টেকনাফের কেরানতলীর নাফ নদীর তীরে এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী স্থান ঘুনধুমে দুইটি প্রত্যাবাসন কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে রোহিঙ্গাদের অবস্থানের জন্য ৩৩টি করে আধপাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের মতো মিয়ানমারও একই ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা যায়। কক্সবাজারে নিযুক্ত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি’র এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, প্রত্যাবাসন কর্মসূচিটি টেকনাফের ঘুমধুম সীমান্ত দিয়েই শুরু হতে পারে। ইতিমধ্যে সেখানে প্রত্যাবাসন কর্মসূচি শুরুর সকল প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। সেখানে ট্রানজিট ক্যাম্প স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এই ট্রানজিট ক্যাম্পেই তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করার জন্য প্রাথমিকভাবে নিয়ে যাওয়ার কথা কথা রয়েছে। এই ট্রানজিট ক্যাম্পটি ঘুমধুম সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে রাবার বাগান নামক একটি স্থানে স্থাপন করা হয়েছে। ট্রানজিট ক্যাম্পটিতে ৬০টি কামরা রয়েছে এবং কর্মকর্তারা জানান সেখানে তিনশ জনের রাতে থাকার ব্যবস্থা আছে।

এদিকে এই প্রত্যাবাসন শুরু নিয়ে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে নানা ধরনের গুজব ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত যে ১৫০ জন রোহিঙ্গা রয়েছে, তাদের অনেকেই ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে অপরিণত ও বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছে। তারা প্রত্যাবাসনকে স্বেচ্ছায় ও নিরাপদ করার আহ্বান জানিয়েছে।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, রাখাইনে এখনো রোহিঙ্গাদের ফেরার মতো অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। তাদের নাগরিকত্বের প্রশ্নে ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি মিয়ানমার সরকার। সেখানে তাদের চলাফেরার স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পরিকল্পিত সহিংসতা ও নিধনযজ্ঞ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। সে সময়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে মিয়ানমার। চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারির মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করে। এই গ্রুপের তৃতীয় বৈঠকে গত মাসে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর সিদ্ধান্ত হয়।

কিউএনবি/অনিমা/১৫ নভেম্বর, ২০১৮/দুপুর ২.৫৪