১৯শে ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৬:১২

দেশের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে

 

অর্থনীতি ডেস্কঃ  টেকসই লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি উন্নয়নে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে দেশের কম উন্নত অঞ্চলগুলোর সড়ক, জ্বালানিসহ অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে দেশজ উৎপাদন কয়েক গুণ সমৃদ্ধ হতো বলে মনে করেন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-এডিবির এ দেশীয় পরিচালক মনমোহন প্রকাশ।তিনি বলেন, বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ব্যয় হয় ঢাকা ও চট্টগ্রামে। অথচ দেশের উত্তর-দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রচুর সম্ভাবনা থাকার পরও সেখানে এখনো দারিদ্র্যের মাত্রা বেশি।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) মাসিক মধ্যাহ্নভোজসভায় মনমোহন প্রকাশ এসব কথা বলেন। অ্যামচেম সভাপতি নুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন সাবেক অর্থসচিব ড. মোহাম্মদ তারেক, অ্যামচেমের সাবেক সভাপতি আফতাব-উল-ইসলাম প্রমুখ।মনমোহন প্রকাশ বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে এডিবি গুণগত অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মমুখী শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়। এ পর্যন্ত অবকাঠামো উন্নয়নে দুই-তৃতীয়াংশ বিনিয়োগ করেছে। কারণ এখানে যত বেশি উন্নয়ন হবে তত বেশি মানসম্পন্ন বিনিয়োগ নিশ্চিত হবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, বিশ্ব প্রেক্ষাপট দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটের ব্যবহার এগুলো নতুন দিনের জন্য চ্যলেঞ্জ। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত এগিয়ে যেতে বাংলাদেশকে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।বাংলাদেশ আঞ্চলিক বাণিজ্যের হাব হতে পারে উল্লেখ করে মনমোহন প্রকাশ বলেন, আসিয়ান দেশগুলোর মধ্যে চীন ও ভারতের পরই বাংলাদেশ আঞ্চলিক বাণিজ্যর হাব হতে পারে। তবে এ জন্য যোগাযোগ উন্নয়ন ও জ্বালানি প্রকল্পগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশের ব্যবসা সহজীকরণে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) তেমন ভূমিকা রাখতে পারছে না উল্লেখ করে অ্যামচেমের সাবেক সভাপতি আফতাব-উল-ইসলাম বলেন, আফ্রিকার দেশগুলো বাদে বিশ্বের অন্য সব দেশের চেয়ে বাংলাদেশের করের হার অনেক বেশি। বিশ্বব্যাংকের ডুইং বিজনেস সূচকে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে মিয়ানমার ও আফগানিস্তানের মতো দেশ।

তিনি বলেন, এ দেশে বিনিয়োগ আসবে কিভাবে, যেখানে করপোরেট করহার প্রতিবেশী সব দেশের চেয়ে বেশি? এটি বিয়োগকারীদের জন্য একধরনের শাস্তি কি না—সে প্রশ্ন করেন তিনি।দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারি খাতের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, এ দেশের ৮৫ শতাংশ কর্মসংস্থানের চাহিদা মেটায় বেসরকারি খাত। এ ছাড়া বিনিয়োগের ৭৫ শতাংশও আসে বেসরকারি খাত থেকে।

সাবেক অর্থসচিব ড. মোহাম্মদ তারেক বলেন, আগামী ২০-৩০ বছর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এ সময় বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট যুগে বাস করবে। এ জন্য কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদরূপে তৈরি করাসহ সরকারের নীতি সহায়তা বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ২০ বছর বাংলাদেশ অর্থনীতি অপ্রতিরোধ্যভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭৩ সালের পর এ দেশের জনপ্রতি আয় ২০ গুণ বেড়েছে। বর্তমানে একজনের গড় আয় এক হাজার ৭৫১ ডলার। গড় আয়ু হয়েছে ৪৫ থেকে ৭৩ বছরে।

 কিউএনবি/অদ্রি আহমেদ/১৫.১১.২০১৮/সকাল ১১.৪৮