ব্রেকিং নিউজ
১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১:২৫

ভোটের লড়াই সেই নৌকা আর ধানের শীষেই

 

ডেস্ক নিউজঃ  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিলেও জাতীয় পার্টি শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গেই থাকছে। বিএনপি নির্বাচনে আসার ঘোষণা দেওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ‘মহাজোট’-এর ব্যানারেই নির্বাচনী লড়াইয়ে মাঠে থাকবে জাতীয় পার্টি। নিজস্ব প্রতীক লাঙল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জাপার প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগ ও জাপার উচ্চপর্যায়ের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।এদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার সভাপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটে যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

‘আন্দোলনের অংশ হিসেবে’ অবশেষে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একই সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। গতকাল রবিবার দুপুরে আলাদা সংবাদ সম্মেলনে ওই ঘোষণা দেওয়া হয়। ২০ দলীয় জোটের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে ২০ দলের সমঝোতা হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে গতকালই নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আটটি রাজনৈতিক দল যৌথভাবে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলগুলো হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), খেলাফত মজলিস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। এই আটটি দলই বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০  দলীয় জোটের শরিক। এর বাইরে আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ইসিকে জানিয়েছে, জেএসডি নির্বাচনে অংশ নিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক হিসেবে যৌথভাবে মনোনীত প্রার্থীরা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নেবেন আর জেএসডির দলীয়ভাবে মনোনীত প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক ‘তারা’ নিয়ে নির্বাচন করবেন। একইভাবে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের চিঠিতে বলা হয়েছে, তারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল হিসেবে নির্বাচন করবে। এ ক্ষেত্রে তারা দলীয় প্রতীক গামছা অথবা ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রতীক ব্যবহার করবে।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ১৪ দলের শরিক দলগুলোও মহাজোটের ব্যানারে নির্বাচন করবে। গতবারের মতো এবারো তাদের প্রতীক হবে নৌকা। বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মেরুকরণ চূড়ান্ত হলে আসন বণ্টনের বিষয়টি ফয়সালা করবে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের তারিখ অপরিবর্তিত থাকলে এ মাসের শেষ নাগাদ মহাজোটের শরিকদের সঙ্গে আসনবণ্টন চূড়ান্ত হতে পারে।

গতকাল ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মহাজোটগতভাবে নির্বাচন করার সম্ভাবনাই বেশি। এখনো মেরুকরণের পালা শেষ হয়নি। এটা শেষ হলে জোটের সমীকরণে যেতে পারি। তবে তারা কিছু বলেনি, তারা নিজেদের প্রতীকে নির্বাচন করবে ধরে নিচ্ছি। জোটগতভাবে হলে আসন ভাগাভাগি হবে। আমরা তো সব কিছু নিয়ে আলোচনায় আছি। রাত ১১-১২টা পর্যন্ত আলোচনায় আছি। সবটাই তো আর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো যায় না।’

নির্বাচনের আগে মহাজোটের পরিসর বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে একটা অ্যালায়েন্স হতে পারে। তবে তারা নৌকায় ভোট করবে নাকি নিজেদের প্রতীকে ভোট করবে, সে সিদ্ধান্ত হয়নি।’জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের  বলেন, ‘জাতীয় পার্টি মহাজোটের ব্যানারেই নির্বাচন করবে। তবে প্রতীক হবে লাঙল।’জানা গেছে, জাপা এখন আসন ভাগাভাগি নিয়ে দর-কষাকষিতে ব্যস্ত। জাপা ১০০ আসন চাইলেও ৪০-৪৫টি আসন দিয়ে দফারফা করা যাবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। বর্তমান সংসদে জাপার নির্বাচিত প্রতিনিধি ৩৪ জন। এই ৩৪ জনের মনোনয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি তারা আরো আসন বাড়াতে চায়। সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে ১৪ দলের শরিক দলগুলোর মধ্যে এখনো আসন বণ্টন চূড়ান্ত হয়নি। জোট নেতা শেখ হাসিনা ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে শরিকদের অনেকেই অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করেছেন। শরিকদের পক্ষ থেকে দ্রুত আসন বণ্টনের বিষয়টি ফয়সালা করার তাগিদ থাকলেও আওয়ামী লীগ চলছে ‘ধীরে চলো’ নীতিতে। নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিপক্ষ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মেরুকরণ চূড়ান্ত হলে আসন বণ্টন চূড়ান্ত করবে মহাজোট। তারা একেবারে শেষ মুহূর্তে আসন বণ্টনের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে চায়।

জানা গেছে, নিজ দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থাকলেও ১৪ দলের শরিকরা আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। গতকাল এ বিষয়ে শরিক দলগুলো নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে।আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম কালের কণ্ঠকে বলেন, শরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।এরই মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টি তাদের দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে। এখন তারা অপেক্ষায় আছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বসে জোটের মনোনয়ন নিশ্চিত করার। দলটির পক্ষ থেকে অন্তত সাতটি আসন চূড়ান্ত করার জোরালো চেষ্টা চালানো হবে।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসন বণ্টনের বিষয়টি এখনো কোনো রূপ লাভ করেনি। আমাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে আমরা এরই মধ্যে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছি।’নির্বাচন সামনে রেখে মহাজোটের কলেবর বৃদ্ধির প্রসঙ্গে মেনন আরো বলেন, ‘ছোট ছোট কয়েকটি দলের সঙ্গে কথা হয়েছে। এর বাইরে আর জোটের কলেবর বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই।’শনিবার জাসদের মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হয়। দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এ মনোনয়ন বিতরণ উদ্বোধন করেন। আজ এ ফরম বিতরণ ও জমা দেওয়ার সময় শেষ হবে। এরই মধ্যে দলটির শতাধিক প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার  বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপের সময়ে কথা হয়েছিল আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করব। সেভাবেই আমরা এগোচ্ছি। নির্বাচনের আগে দলগুলোর মেরুকরণ স্পষ্ট হওয়ার পরে ১৪ দলের মধ্যে আসন বণ্টন চূড়ান্ত হবে। মহাজোটের সঙ্গে ছোট ছোট দল নিজেদের অবস্থানে থেকে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসন বণ্টনের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো কথাবার্তা হয়নি। তবে বেশ কিছুদিন আগেই আমাদের দলের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের একটি তালিকা আওয়ামী লীগকে দিয়েছি। আসন বণ্টনসহ জোটের মধ্যে অন্য যেসব জটিলতা আছে, সেগুলো নিয়ে ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে বসে মোটামুটি একটা সমাধান করা হবে। এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।’

জাতীয় পার্টি-জেপির মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম  বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে এখনো আমাদের কোনো কথা হয়নি। নিজ নিজ দলের মনোনয়ন চূড়ান্ত করার কাজ করছি। এই তালিকা নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে বসব।’অভিন্ন প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য নির্বাচনী জোট গঠনের শেষ দিন ছিল গতকাল। কোনো দলই এ বিষয়ে সময় বাড়ানোর জন্য ইসিতে আবেদন করেনি।

নৌকা নিয়ে লড়তে পারে ১৫টি দল : নৌকা প্রতীকে যেসব দল এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তার তালিকা গতকাল বিকেলে আওয়ামী লীগ ইসিতে জমা দিলেও সাংবাদিকদের কাছে তা প্রকাশ করেনি। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা যায়, তালিকায় আওয়ামী লীগসহ ১১টি দলের নাম রয়েছে। অন্য দলগুলো হলো—বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, গণতন্ত্রী পার্টি, সাম্যবাদী দল, জাতীয় পার্টি  (জেপি), কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণআজাদী লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (মোজাফফর), গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি ও বাসদ (রেজা)। এর বাইরে তরীকত ফেডারেশনসহ কয়েকটি দল নৌকা প্রতীক পেতে আগ্রহী।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদের কাছে ওই তালিকাসংবলিত চিঠি জমা দেয়। নির্বাচন ভবন ছাড়ার আগে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘নৌকা প্রতীকে কারা ভোট করবে আমরা সে তথ্য কমিশনে দিয়েছি। তবে দলগুলোর নাম বলার  অথরিটি আমি নই।’

ধানের শীষ চায় ১০টি দল : এর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সই করা এসংক্রান্ত একটি চিঠি ইসিতে জমা দেওয়া হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বিজয় কান্তি সরকারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ওই চিঠি নির্বাচন ভবনে পৌঁছে দেয়। চিঠিতে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিম্নলিখিত রাজনৈতিক দলগুলো যৌথভাবে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। দলগুলো হলো—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), খেলাফত মজলিস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।

এ তালিকায় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত নিবিন্ধত দল গণফোরাম, জেএসডি ও কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের নাম নেই। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতীক  গতকাল ইসিতে এক চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল হিসেবে নির্বাচন করবেন। এ ক্ষেত্রে তাঁরা দলীয় প্রতীক গামছা অথবা ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রতীক ব্যবহার করবেন। ঐক্যফ্রন্টের শরিক জেএসডি চিঠি দিয়ে বলেছে, জেএসডি যদি নির্বাচনে অংশ নেয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক হিসেবে যৌথভাবে মনোনীত প্রার্থীরা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নেবেন আর জেএসডির দলীয়ভাবে মনোনীত প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক ‘তারা’ নিয়ে নির্বাচন করবেন।

জাপার চিঠি : ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় পার্টি জানিয়েছে, তাদের জাতীয় জোট ইসলামী ফ্রন্ট আর খোলাফত মজলিসকে নিয়ে। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ইসিকে জানায়, তারা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ‘সম্মিলিত জাতীয় জোট’-এর প্রধান শরিক হিসেবে মোমবাতি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে।

নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো ছাড়াও বাংলাদেশ কৃষক পার্টি নামে একটি অনিবন্ধিত দল ইসিকে চিঠি দিয়ে জানায়, তারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের মনোনয়ন ফরম কিনেছে এবং পিরোজপুর-১ ও ২ আসন থেকে তারা নির্বাচন করতে চায়। বাংলাদেশ জাতীয় ইসলামী জোট ও বাংলাদেশ দেশপ্রেমিক পার্টির চেয়ারম্যান পরিচয়ে গোলাম মোর্শেদ হাওলাদার চিঠি দিয়ে জানান, তাঁরা গত ৬ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের নিবন্ধন নেই। এ অবস্থায় তাঁদের ১৩ দলীয় জোটকে কলম প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হোক। এ ধরনের আরো কয়েকটি অনিবন্ধিত দল গতকাল নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে।

ভোট পেছানোর দাবি : এদিকে গতকাল বিকেলে ইসি সচিবের দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সই করা আরেক চিঠিতে নির্বাচন এক মাস পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল-বিএনপি, ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গণতন্ত্র উদ্ধারের অংশ হিসেবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের মতামতকে উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি করে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী যে তফসিল ঘোষণা করেছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সকল রাজনৈতিক দলের পক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়; যা ইতিমধ্যে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে। অতএব সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচনী শিডিউল এক মাস পিছিয়ে দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এর আগে সিইসি কে এম নুরুল হুদার কাছে অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সই করা একটি চিঠিতে নির্বাচন সাত দিন পেছানোর দাবি জানায় যুক্তফ্রন্ট।

ভোট পেছানো নিয়ে সিদ্ধান্ত আজ  : বিভিন্ন দল ও জোটের দাবি-অনুরোধ সম্পর্কে সিইসি কে এম নুরুল হুদা গতকাল সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন পেছানোর দাবির বিষয়টি এখনো আমি জানি না। চিঠি আমার কাছে পৌঁছায়নি। এ ক্ষেত্রে ভোটের তারিখ পেছাবে কি না তা সোমবার (আজ) বলা যাবে।’

নির্বাচন এক মাস পেছানো সম্ভব কি না জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘এখন তো বলতে পারব না। যেহেতু আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি।  আমাদের  মধ্যে এগুলো নিয়ে কথাই হয়নি।’ সরকারি দলও নির্বাচন পেছানো যেতে পারে বলে জানিয়েছে—বিষয়টি সিইসির নজরে আনা হলে তিনি বলেন, ‘এ খবরটিও আমরা পাইনি।’

এদিকে সব রাজনৈতিক দল চাইলে ভোট পেছানো হবে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ। বেসরকারি সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) একটি প্রতিনিধিদলকে তিনি জানান, সব দল চাইলে নির্বাচন পেছানো হতে পারে।

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এ বিষয়ে বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমরা কিছু কাজ করে থাকি। সে বিষয়টি অবহিত করতে সচিবের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আমরা আমাদের কাজে কমিশনের সহযোগিতা চেয়েছি। সচিব বলেছেন নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন পেছানো হবে কি না তা জানতে চেয়েছিলাম। তিনি বলেছেন সব দল যদি চায় তখন কমিশন সেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।’

 

কিউএনবি/অদ্রি আহমেদ/১২.১১.২০১৮/সকাল ১১.৩০