২২শে মার্চ, ২০১৯ ইং | ৮ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৪:১৬

কুড়িগ্রামে প্রকাশ্যে সাংবাদিককে পেটালেন সেই এনামুল চেয়ারম্যান

 

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ তুচ্ছ ঘটনার জেরে এবার সাংবাদিককে পেটালেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনামুল হক। এর আগেও নারী ও পুরুষ ইউপি সদস্যসহ ইউএনও অফিসের কম্পিউটার অপারেটরকে পেটানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একের পর এক অন্যায় কর্ম করেও কোনো প্রতিকার না হওয়ায় এবার প্রকাশ্যে সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করেন তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

অভিযুক্ত এনামুল হক কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।

আহত সাংবাদিক আল্লামা ইকবাল বাংলা রিপোর্টের স্টাফ রিপোর্টার। তিনি এর আগে মাছরাঙা টিভিতে কর্মরত ছিলেন।

শুক্রবার সকাল ১১টায় উপজেলার কফি হাউসের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সাংবাদিক অনিকের বাবা আউয়াল মিয়া চেয়ারম্যানের কাছে সরকারের বিনামূল্যে সার-বীজ প্রণোদনার বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান তার ছেলেকে অর্থ দিয়েছেন বলে মিথ্যা অভিযোগ করেন।

বিষয়টি জানার পর শুক্রবার সকালে রাজারহাট কফি হাউসে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে যান সাংবাদিক আল্লামা ইকবাল অনিক। এ সময় চেয়ারম্যান জানান রশিকতা করে তিনি এ কথা বলেছেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে অনিককে কফি হাউসের বাইরে নিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় কোমড়ের বেল্ট খুলে বেধড়কভাবে পেটান চেয়ারম্যান এনামুল হক। হামলায় মাথায় আঘাত পেয়ে মাথা ফেটে যায় সাংবাদিক অনিকের।

তাকে বাড়ি নিয়ে আসা হলে সেখানেও চেয়ারম্যানের লোকজন সাংবাদিক অনিক ও তার পরিবারের লোকজনকে বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়। ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করতে না পেরে রাজারহাট থানায় সহযোগিতার জন্য ফোন করা হলে পুলিশ আসার আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে সাংবাদিক অনিককে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এর আগেও রাজারহাট সদর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে চেয়ারম্যান এনামুল হক সংরক্ষিত নারী সদস্য জাহানারা বেগম, পুরুষ সদস্য বিপ্লব এবং রাজারহাট উপজেলা অফিসের কম্পিউটার অপারেটর মিলনকে মারধর করেন। এর বাইরেও সাধারণ মানুষদের গায়েও হাত তোলার অভিযোগ রয়েছে এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

কেউ প্রতিবাদ না করায় আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চেয়ারম্যান এনামুল হকের কর্মকাণ্ড। প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধাচরণ করার সাহস পায় না কেউ। ফলে একের পর এক অন্যায় কাজ করেও পার পেয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা।

সাংবাদিক অনিক ডেফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা শেষে সর্বশেষ মাছরাঙা টেলিভিশনে কর্মরত ছিলেন।

অনিকের বাবা আউয়াল হোসেন জানান, আমি বৃহস্পতিবার রাতে গম বীজ চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, আপনার ছেলেকে টাকা দিয়েছি; সেখান থেকে গম বীজ কিনে নেন। আজ সকালে ছেলেকে ঘটনাটি জানাই। পরে সে এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যান তাকে পিটিয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে অনিকের বাবা ঠাট্টা করে আমার কাছে গম বীজ চান। তাই আমিও তার বাবার সঙ্গে ঠাট্টা করি। সকালে আমি কফি হাউসে গেলে তার ছেলে অনিক আমার সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। আমার সঙ্গে উদ্ধত আচরণ করায় আমি রাগ সামলাতে না পেরে তার গায়ে হাত তুলি।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শাহিনুর রহমান সরদার শিপন জানান, রোগী দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাথায় যখম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তার মাথায় তিনটি সেলাই লেগেছে। সেগুলো এক ইঞ্চি থেকে দেড় ইঞ্চি লম্বা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজারহাট থানার ওসি কৃঞ্চ কুমার সরকার জানান, ফোন পেয়ে সেখানে ফোর্স পাঠাই। তিনি বাড়িতেই ছিলেন। সেখানে কোনো লোকজন ছিল না। পরে পরিবারের লোকজন তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।

 

কিউএনবি/আয়শা/৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং/রাত ১২:৫৮