২৭শে জুন, ২০১৯ ইং | ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১২:২১

লাঙ্গল না নৌকা? একাট্টা আওয়ামী লীগ

সারাদেশঃ মানিকগঞ্জ-২ সিঙ্গাইর হরিরামপুর আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। ২০০৮ সালে নবম সংসদে এই আসনের এমপি ছিলেন মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা কমিটির সভাপতি সৈয়দ আব্দুল মান্নান। গত ২০১৪ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ভোটে অংশ না নিলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। নির্বাচন জোটগতভাবে হলে কোন দল পাবে এই আসনের মনোনয়ন। আওয়ামী লীগ না জাতীয় পার্টি? তবে এবার আসনটি ছাড় না দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানামুখী আলোচনা।

মানিকগঞ্জ-২ আসনটি জেলার সিঙ্গাইর, হরিরামপুর ও সদর উপজেলার তিন ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আসনটি বিএনপির দখলে ছিল। ২০১৪ সালের বিএনপি-জামায়াত জোট বর্জিত নির্বাচনে সৈয়দ আব্দুল মান্নান দলীয় মনোনয়ন পেয়েও ভোটে অংশ নেননি। ওই সংসদে আওয়ামী লীগ থেকে বিনাভোটে এমপি হন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম।

আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমসহ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে ৬ জন। তাঁরা হলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুল, সাবেক এমপি সামসুদ্দিন আহম্মেদ, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান মমো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিল্পপতি গোলাম মনির হোসেন, জেলা পরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সালাম চৌধুরী, ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তারিকুর রহমান উইলটন।

অপরদিকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- নবম সংসদের এমপি ও পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আব্দুল মান্নান ও কেন্দ্রীয় জাতীয় ছাত্র সমাজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান জাতীয় পার্টির ছাত্র বিষয়ক যুগ্ম-সম্পাদক মিজানুর রহমান মিরু।এসব প্রার্থী ছাড়াও জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী গোলাম ছারোয়ার মিলন মহাজোটের যেকোনো দলের মনোনয়নে নির্বাচন করার জন্য দৌড়ঝাঁপ পাড়ছেন। সম্প্রতি তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারায় আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন।

তাঁরা সবাই মহাজোটের মনোয়নের জন্য জোড় তৎপরতা চালানোর পাশাপাশি নির্বাচনী এলকায় সভা সমাবেশ ও উঠান বৈঠক করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।সিঙ্গাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান ও সায়েদুল ইসলামসহ একাধিক নেতা জানান, এই আসনে জাতীয় পার্টি অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। এখানে দলটির কোনো জনসমর্থন নেই। ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। গত নির্বাচনে কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম সরাসরি এমপি হওয়ার পর আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি উঠান বৈঠক করে গ্রামগঞ্জে নারী জাগরণ সৃষ্টি ও তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছেন। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আওয়ামী লীগ এখন শক্তিশালী। গত ৫ বছরে দক্ষিণ মানিকগঞ্জে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে গত ৪ যুগেও তা হয়নি। আসনটি ধরে রাখতে হলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কোনো বিকল্প নেই। জাতীয় পার্টি বা মহাজোটের অন্য কোনো দলের কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে নিশ্চিত আসনটি হাত ছাড়া হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

সিঙ্গাইর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি খলিলুর রহমান ও সাারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বলেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আব্দুল মান্নান ২০০৮ সালে মহাজোটের এমপি ছিলেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তেই সরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এবার পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নির্দেশে নির্বাচনের জন্য মাঠে কাজ করছেন তিনি। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত। তাঁরা কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে এমপি হওয়া কঠিন। আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হলে বিজয় সহজ হবে।

 

কিউএনবি/এস.আর/২৯.১০.২০১৮/সকাল ৯.২৫

Please follow and like us:
0
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial