১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৪:১৪

শরীয়তপুরে নিরাপদ সড়ক দিবস পালন

 

শরীয়তপুর প্রতিনিধি : “আইন মেনে চলব, নিরাপদ সড়ক গড়ব” প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে ধরে শরীয়তপুরে জাতীয় নিরাপদ দিবস-২০১৮ পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের এর নেতৃত্বে সকাল সারে ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীগণ বাইসাইকেলে ফেস্টুন ঝুলিয়ে র‌্যালিতে অংশগ্রহন করে। জেলা প্রশাসন, সড়ক বিভাগ, বিআরটিএ, নিরাপদ সড়ক চাই, সড়ক পরিবহন মালিক  গ্রুপ, শ্রমিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন নিজ নিজ ব্যানাওে র‌্যালিতে অংশগ্রহন করেন। র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে শেষ হয়।

সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাজির হোসেন এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নিরাপদ সড়ক চাই শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট মুরাদ মুন্সী। তিনি বক্তব্যে বলেন, সড়কে যে সকল চালকগণ ছোটবড় সকল ধরনের গাড়ি চালায় তাদের বেশীরভাগ চালকের গুরুবিদ্যা ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক কোন প্রশিক্ষণ নাই। চালকদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা সহ সড়ক মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষকে আহবান জানান তিনি।

 ট্রাক শ্রমিক সভাপতি হায়দার শিকদার বক্তব্যে বলেন, সড়ক-মহাসড়ক অবৈধ দখলদারদের দখলে চলেগেছে। সড়ক দখলমুক্ত করে সড়ক দূর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব। সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলী আজ্জম মাদবর বলেন, মনহর বাজার থেকে মাঝির ঘাট পর্যন্ত যাত্রীবাহি বাস বেশী চলে। এ সড়ক থেকে অটোবাইক, নছিমন, ভটভটি সরিয়ে নিলে দূর্ঘটনা অনেক কমে যাবে। এ সময় রুদ্রবার্তা সম্পাদক শহিদুল ইসলাম পাইলট, বাস মালিক গ্রুপের সহসভাপতি বারেক মুন্সী, শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এলিম পাহাড় বক্তব্য রাখেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো, মাহবুব রহমান শেখ বহির্বিশ্বের উন্নত দেশের উদাহরণ দিয়ে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে দেখেছি রাস্তা ফাঁকা। দুদিক থেকেই কোন গাড়ি আসছে না। তবুও কোন পথচারী রাস্তা পাড়াপাড় হয় না। সকলেই জেব্রা ক্রোচিং ব্যবহার করে। আমরা আইন মেনে চলব, যত্রতত্র রাস্তা পাড় হব না, ফুট ওভার ব্রীজ ব্যবহার করব। তাহলেই দূর্ঘটনা কম হবে।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল মামুন শিকদার বলেন, যে প্রাইভেট কারে চড়ে সে বলে অতিরিক্ত রিক্সার কারনে রাস্তায় জ্যাম হয়। এ রিক্সা মধ্যযোগীয় পরিবহন এগুলোকে অপসারণ করা দরকার। যে রিক্সায় চড়ে সে বলে রাস্তায় প্রাইভেট কার অতিরিক্ত। আর যেন প্রাইভেটকার অনুমোদন দেয়া না হয়। আসলে রাস্তায় সকল প্রকার যানবাহনই চলবে। তবে আমাদের নিয়ম মেনে চলতে হবে। তাহলে দূর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব।

প্রধান অতিথি কাজী আবু তাহের তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের সিস্টেম ডেভেলপ করতে হবে। তাহলেই অপরাধ কমে আসবে। আপনি একজন চালক কিন্তু আপনার পরিবারের অন্য সদস্যরা চালক না। সে যখন রাস্তায় চলবে তখন যদি কোন দূর্ঘটনার শিকার হয় তাহলে আপনার কাছে কেমন লাগবে। রাস্তাল চলতে ও গাড়ি চালাতে প্রতিটি মানুষ আইন মানলে দূর্ঘটনা কমে আসবে। দেশে আর কোন অপরাধ হবে না।

 

 

কিউএনবি/অায়শা/২২শে অক্টোবর,২০১৮ ইং/রাত ৮:৪৫