১৯শে ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৬:০২

লালপুরের ২য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী তৃষাকে বাঁচাতে সাহয্যের আবেদন

 

মোঃ মাজহারুল ইসলাম লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি  : তৃষা খাতুন,বয়স মাত্র আট বছর, বর্তমানে সে ২য় শ্রেণীর ছাত্রী। অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মত সেও স্কুলে যায়। কিন্তু নিয়েমিত স্কুলে যেতে পারেনা। সে নিয়োমিত স্কুলে যেতে চায়, অন্যান্য শিশুদের মত হেসে খেলে দিন কটাতে চায়। কিন্তু বিধি বাম, জন্মের পরেই তার হর্টে ফুটো ধরা পড়ে। অল্প ছুটো ছুটিতেই সে হাফিয়ে পড়ে। প্রায়ই সে অসুস্থ থাকে, অসুস্থতার জন্য সে খেলা ধুলা করতে পারেনা,পারেনা নিয়োমিত স্কুলে যেতে! শুধু তাই নয় ছোট বেলায় তার মা রেনু বেগম চলে যায় না ফেরার দেশে।

তৃষা খাতুন উপজেলার ওয়ালিয়া কারিগরপাড়া গ্রামের আজিবুর রহমান লিটনের একমাত্র মেয়ে ও ওয়ালিয়া শহীদ স্মৃতি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২য় শ্রেণীর ছাত্রী। আজিবুর রহমান লিটন একজন ফেরিওয়ালা। গ্রামে গ্রামে ফেরি করে প্লাস্টিকের সামগ্রী বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে দুই ছেলে, একমাত্র অসুস্থ মেয়ে ও দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী নিয়ে কোন মতে দিনাতিপাত করেন। 

তৃষার বাবা আজিবুর রহমান এ প্রতিবেদককে জানান, তার দুই ছেলে আর একমাত্র মেয়ে তৃষা। বড় ছেলে রিপন (১৮) গার্মেন্টসে কাজ করে, মেজ ছেলে মামুন (১৩) ওয়ালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণীতে পড়ে আর তৃষা ২য় শ্রেণীতে পড়ে। জন্মের পরেই তৃষার হার্টে ফুটো ধরা পড়ে, তখন থেকেই তার চিকিৎসা চালাচ্ছি। আমার যা ছিল তার সবকিছু দিয়ে প্রায় সাত বছর ধরে তৃষার চিকিৎসা চালাচ্ছি। 

প্রথমে রাজশাহীতে তার পর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এবং বর্তমানে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিচার্স ইনস্টিটিউটে শিশু কার্ডিয়ার সার্জারীর সহযোগি অধ্যাপক শামসুদ্দিন আহমেদ এর অধিনে চিকিৎসা চলছে। কিন্তু চিকিৎসক তৃষার অপারেশনের কথা বলেছে। আর তার অপারেশন করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। কিন্তু তার অপারেশন করানোর মত অর্থ বা সামথ্য আমার নেই। 

তাই আমার মেয়ের চিকিৎসার জন্য সরকারী,বেসরকারী সংস্থা বা সমাজের বৃত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি। তৃষাকে সাহায্য পাঠাতে বা বিস্তারিত জানতে তৃষার পিতা আজিবুর রহমান লিটনের ০১৭৪০৮২০২২৫ (বিকাশ পার্সোনাল) নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

এছাড়া গ্রামীন ব্যাংক ওয়ালিয়া শাখার সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ১০১১৬৮ এ সাহায্য পাঠানো যাবে। ওয়ালিয়া শহীদ স্মৃতি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাপলা খাতুন এ প্রতিবেদককে জানান, তৃষা ছাত্রী হিসাবে বেশ ভালো, কিন্তু অসুস্থতার কারনে নিয়োমিত স্কুলে আসতে পারেনা। তিনি তৃষার চিকিৎসার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

 

 

কিউএনবি/সাজু/৪ঠা অক্টোবর, ২০১৮ ইং/বিকাল ৫:৫৭