ব্রেকিং নিউজ
২১শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৩:৩১

চুরির অপবাদ সইতে না পেরে বন্ধুকে খুন

ডেস্ক নিউজ : নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চাঞ্চল্যকর স্বাধীন হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে নিহতের বন্ধু অর্পন ইসলাম(২৪)। সোমবার বিকালে নীলফামারী সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক মোঃ সামিউল ইসলামের আদালতে অর্পন জবানবন্দি দেন। তিনি বলেন, টাকা চুরির অপবাদ সইতে না পেরে ক্ষোভে ঘুমের মধ্যে সবজি কাটার কাটারি দিয়ে গলা কেটে বন্ধু স্বাধীনকে হত্যা করে সে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ গোলাম মোস্তফা জানান, অর্পন তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, নেসকো বিদ্যুৎ ও বিতরণ ডোমার কেন্দ্রে আবু সাঈদ স্বাধীন নির্বাহী প্রকৌশলীর গাড়ি চালক। অর্পন ইসলাম মিটার রিডার। তাদের মধ্যে গড়ে উঠে বন্ধুত্বের সম্পর্ক। এ সুবাদে তারা দুইজন আড্ডা, খাওয়া-দাওয়াসহ একসঙ্গে সময় কাটাতো।

ঘটনার কয়েক দিন আগে স্বাধীনের চার হাজার টাকা হারিয়ে গেলে সে অর্পনকে ফোনে টাকা হারানো কথা বলে। অর্পন টাকা নেয়নি বলে স্বাধীনকে জানায়। কিন্তু স্বাধীন তা বিশ্বাস না করে কর্মস্থলের সবাইকে বিষয়টি জানায়। এতে অর্পন ক্ষিপ্ত হয় স্বাধীনের ওপর। কিন্তু স্বাধীনকে তা বুঝতে দেয়নি সে।

এরপর স্বাধীনের প্রতি ক্রমে ক্ষোভ বাড়তে থাকে অর্পনের। ঘটনার দিন গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ মাঠ সংলগ্ন একটি দ্বিতল ভবনের ওপর তলায় স্বাধীনের ভাড়া নেওয়া ঘরে যায় অর্পন। ওই ঘরে তারা দেড় ঘন্টা একসঙ্গে থাকার পর অর্পন চয়ে যায় উপজেলা মোড়ে। সেখান হতে আবার রাত ২.৩০ মিনিটে অর্পন আসে স্বাধীনের কাছে। স্বাধীন ঘুমিয়ে গেলে দরোজায় ধাক্কা দিয়ে তার ঘুম ভাঙায় অর্পন।

স্বাধীন দরজা খুলে দিয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়ে বিছানায়। অর্পনও তার সঙ্গে আধাঘন্টা ঘুমানোর ভান করে। স্বাধীন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হলে, অর্পন স্বাধীনের একটি শার্ট পরে। এরপর স্বাধীনের ঘরে রাখা সবজি কাটার কাটারী নিয়ে স্বাধীনকে জবাই করে অর্পন। স্বাধীন গভির ঘুমে আচ্ছন্ন থাকায় কাজটি তার একার পক্ষে করাটা অনেক সহজ হয়।

স্বাধীনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর অর্পন স্বাধীনের সেই শার্টটি খুলে ও একটি গামছা দিয়ে তার গলা ঢেকে দেয় এবং ঘরের বাইরে একটি তালা দিয়ে ও বাথরুমে গিয়ে পরিস্কার হয়ে অর্পন চলে যায় পাশ্ববর্তী ডাঙ্গাপাড়া এলাকার তার বাড়ি। নিজের শরীরে যাতে রক্ত না লাগে সেই জন্য সে স্বাধীনের শার্টটি পরেছিল বলে স্বীকারোক্তিতে জানায়। অর্পন আরো স্বীকার করে, বাড়ি গিয়ে তার কোনভাবেই ঘুম আসছিল না। সে সকালের অপেক্ষায় ছিল। পরদিন ১৮ সেপ্টম্বর সকাল, দুপুর ও বিকাল পেরিয়ে সন্ধ্যায় চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে স্বাধীনের মৃত্যুর খবর। 

এ ব্যপারে আবু সাঈদ স্বাধীনের মা সুলতানা রাজিয়া বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলা নং-১২, তারিখ-১৮.০৯.২০১৮ইং।

ডোমার থানার প্রধান কর্মকর্তা মোঃ মোকছেদ আলী জানান, জেলা পুলিশ সুপার আমাদের এ মামলা তদন্তের জন্য দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছিল। ডোমার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জয়ব্রত পালের নেতৃত্বে আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে হত্যার প্রকৃত ঘটনা সামনে এনেছি। এজন্য সন্দেহভাজন প্রায় আটজনকে জিজ্ঞাসা ও অর্পনকে চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

কিউএনবি/অনিমা/২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৭:২২