১৭ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ২:৫০

যমজ মেয়ের বাল্য বিয়ে, বাবা ও বরের কারাদণ্ড

ডেস্ক নিউজ : বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একই সঙ্গে দু’টি বাল্য বিয়ের অপরাধে কনের বাবা ও বরকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। এদিকে ভুয়া জন্ম নিবন্ধনে একাধিক বাল্য বিয়ে পড়ানোর অভিযোগে ওই বিয়ের কাজীকে খুঁজছে প্রশাসন।

থানা সূত্রে জানা গেছে,  উপজেলার বারপাইকা গ্রামের আমীর আলী শাহ’র যমজ মেয়ে সেখানকার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী রুনু ও রানু’র বিয়ের আয়োজন করে তার পরিবার। শুক্রবার ও শনিবার বিয়ের দিন ঠিক করেন তারা। 

রত্নপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার বিষয়টি জেনে বিয়ে বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে উপজেলা প্রশাসনকে জানান। ইউএনও বাল্য বিয়ে বন্ধের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশ অমান্য করে বরিশালের রহমতপুরের শাহ আলম সরদারের ছেলে আবুল কাশেমের সঙ্গে শুক্রবার বড় মেয়ে রুনুর বিয়ে দেয়। 

শনিবার আমীর আলীর অপর মেয়ে রানুকে একই উপজেলার ফুল্লশ্রী গ্রামের মোতালেব সরদারের ছেলে রমজান সরদারের (২৪) সঙ্গে বিয়ে হয়। জাল জন্ম সনদে উভয় ছাত্রীর বয়স বাড়িয়ে ওই বাল্য বিয়ে পড়ায় বাকাল ইউনিয়নের কাজী মনিরুজ্জামান। 

বাল্য বিয়ের বিষয়টি জেনে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুশান্ত বালা ও এসআই মোশারফ হোসেন শনিবার বিকেলে বারপাইকা গ্রামে আমীর আলীর বাড়িতে হাজির হন। এর আগে কাজী মনিরুজ্জামান বাল্য বিয়ে পড়িয়ে পালিয়ে যান। বিয়ে বাড়ি থেকে কনের বাবা আমীর আলী শাহ ও নব বিবাহিত রমজানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এদিকে প্রশাসন জানায়, কাজী মনিরুজ্জানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বাল্য বিয়ে পড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। 

শনিবার সন্ধ্যায় বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস এর আদালতে আটককৃতরা তাদের দোষ স্বীকার করে। বর রমজানকে ৭ দিন ও কনের বাবা আমীর আলীকে ১০ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। তদেরকে রবিবার বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

কিউএনবি/অনিমা/২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/বিকাল ৩:৫৫