২২শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৭ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ১১:৩৯

ধরলেই কেন গলে যায়

 

ডেস্ক নিউজ : কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত তপসে মাছ নিয়ে কবিতা লিখেছেন- ‘কষিত-কনক-কান্তি কমনীয় কায়।’ তপসে মাছ নয়, সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এমন একটি মাছ আবিস্কার করেছেন; যা আক্ষরিক অর্থেই কমনীয় কায় বা সংবেদনশীল। মাছটির শরীর এতটাই স্বচ্ছ যে ভেতরের সবকিছুই দেখা যায়। এর কাঁটার সংখ্যাও খুবই সামান্য। এমনকি ধরলেই গলে যায়।আপাতত নাম রাখা হয়েছে আটাকামা স্নেইল ফিশ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৬ হাজার ফুট নিচে এদের বাস। গবেষকদের দাবি, এরা সমুদ্রের সবচেয়ে গভীরে বসবাসকারী মাছেদের অন্যতম। এদেরই গোত্রের আর এক ধরনের মাছ রয়েছে, যার নাম মেরিয়ানাস স্নেইল ফিশ। এরা বাস করে ২৬ হাজার ৬০০ ফুট নিচে।

সম্প্রতি নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি আয়োজিত চ্যালেঞ্জার কনফারেন্স নামের একটি সম্মেলনে এই মাছটির কথা সবাইকে জানানো হয়। সারা পৃথিবীতে চারশ’রও বেশি স্নেইল ফিশের প্রজাতি রয়েছে। কিন্তু এই আটাকামা স্নেইল ফিশ সত্যিই আলাদা। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক থমাস লিনলে জানিয়েছেন, এই মাছ খুবই নরম। দাঁত আর কানের ভেতরে থাকা হাড়, যার সাহায্যে এরা দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে সেই দুটি অংশ সবচেয়ে কঠিন।

পৃথিবীর গভীর তলদেশে বাস করা এই মাছেরা মোটামুটি তিন রঙের হয়- নীল, গোলাপি ও পার্পল। তাদের এই নরম শরীরই প্রতিবন্ধক হয়ে ওঠে সমুদ্রের ওপরে। দেখা গেছে, সমুদ্রপৃষ্ঠে আনা হলে সেখানকার তাপমাত্রায় এরা গলে যায়।আপাতত বিজ্ঞানীরা একটি মাছকে আলাদা করে সংরক্ষণ করেছেন। সেটিকে বাঁচানো না গেলেও তার শরীর গলে যাওয়া থেকে আটকানো হয়েছে। সেটিকে নিয়ে গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখছেন। এমন আশ্চর্য শারীরিক গঠনের প্রাণীকে ঘিরে তারা উত্তেজিত।

 

 

কিউএনবি/রেশমা/২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/দুপুর ১:২০