১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:৪৭

উত্তম অরণের কবিতাঃ নগ্ন ঠৌঁট

 

নগ্ন ঠৌঁট

————————————————

সময়ের হাত ধরে নির্স্তব্দ ক্ষুধার্ত রাজপথ,
ক্ষুদার্তের আত্বচিৎকার দেখি চোখ খুলে,
কর্মহীনের দু’পায়ে সেন্ডেলের হুমকার,
একটি কাজের আশায়,
রাত তিনটে, শাহবাগের নিথর রাজপথ,
ল্যাম্পপোষ্টের আলো আঁধারের খেলা,
দু’চারটে চুনোপুঁটির দৌড় ঝাপ।

ভবঘুরে শুয়োপোকার উরুর দৃষ্টি আকর্ষণ,
ছেঁড়া শরীরে আতরের গন্ধর উটকো নির্শ্বাস,
ঘাম ঝরা গন্ধ শুকতে চায় এক দল উদ্ভ্রান্ত,
বুকের হুক খুলতে মরিয়া হিংস্র হায়না
ইট পাথরের রাজপথ যেন পরিপাটি বিছানা।

আমিও দেখতে চাই, আগাছা ছেটে দেবার দৃশ্য,
আকাশ থেকে ঘামের জোয়ার বইবে অন্ধ গলিতে,
মাটির বুক চিটচিটে কাঁদার জোয়ারে হোক কর্দমাক্ত,
আমিও ঈশ্বর ডুবার দৃশ্যের অবতারণা উস্কানি দেবো,
ঠোঁট কামড়ে খিস্তিতে জল ছেড়ে দাও ধরনী,
ভেসে যাক, হয়ে যাক দূসর রাজপথ রক্তাক্ত,
চৌচির হয়ে যাক ঈশ্বরের অদম্য শাসন তন্ত্র।

আঠারো বছর বয়সি পুকুরে ফেনা তুলে দাও,
ডুবে মরুক খিস্তির জোর,
কাঁপিয়ে দাও পুজিবাদের সাত আসমান,
শুয়োরের বাচ্চারা ধর্মান্ধের বীজ ঢেলে-
সরাবের গ্লাসে ডুবাচ্ছে নগ্ন ঠৌঁট,
অথচ ভাতে বন্দী আমার প্রিয়ার যৌবন,
ভেঙে দাও বিভেদের দেয়াল,
ভাসিয়ে নিয়ে যাক ষড়সীর ঋতুস্রাব।

দেখিয়ে দাও, ক্ষুদার্তের খাই খাই ভাব,
বুঝুক, নিরুর চোখের নিরুপায় আর্তনাদ,
নিরুর উদরে শকুনের হাত- পা ছুড়ে মারুক,
জ্বিভে জল আনুক, গিলুক আস্ত কবিতার স্তবক,
কবি ভেসে যাক-
কাগজ কলমের রক্তাক্ত অর্তনাদের চিৎকার।

 

কিউএনবি/অনিমা/২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/বিকাল ৫:১৭