২২শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৭ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ১১:৩৬

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদে অবস্থানের কোনো সুযোগ নেই সংসদে প্রধানমন্ত্রী

 

ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, তিন দফা চুক্তি এবং আশ্বাসের পরও মিয়ানমার সরকার তাদের নাগরিক রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে তেমন উদ্যোগী হচ্ছে না। কিন্তু সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য হচ্ছে আমরা রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বজনমত সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছি। সারাবিশ্বের নেতারাই একমত পোষণ করে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ওপর অন্যায় করা হয়েছে এবং মিয়ানমার সরকারকে তাদের ফেরত নিতেই হবে। তাই আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আন্তর্জাতিক চাপের মুখেই মিয়ানমার তাদের নাগরিক রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাধ্য হবে।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ত্রিশ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য এডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

জাতীয় পার্টির (এ) নুরুল ইসলাম মিলনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বিপুল রোহিঙ্গা জনসে াতের নজিরবিহীন এক মানবিক সংকটে বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে সাড়া দিয়ে সীমান্ত উন্মুক্ত রেখে তাদের প্রবেশ করতে দিয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদে অবস্থানের কোন সুযোগ নেই। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে চাই। রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসন সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, চীন, রাশিয়া ও ভারতও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বলেছে মিয়ানমারের উচিত রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া। চীন ও ভারত রোহিঙ্গাদের জন্য ঘর-বাড়ি নির্মাণেও সাহায্য দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক আদালতও মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরা ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের রাখার জন্য ঘর-বাড়ি নির্মাণ করছি। বিমসটেক সম্মেলনে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনার সময়ও তিনি রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবেন বলে জানিয়েছেন।

রাজনীতিতে মান-অভিমানের কিছু নেই জাপা সদস্য ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মান-অভিমান ভাঙ্গাতে কোন উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে মান-অভিমানের কিছু নেই। এটা হচ্ছে নীতির প্রশ্ন, আইনের প্রশ্ন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। কেউ যদি দুর্নীতি করে, এতিমের টাকা চুরি করে, মানুষ খুন করে, গ্রেনেড মারে, বোমা মারে তার বিচার হবে- এটাইতো স্বাভাবিক। রাজনীতি সবাই করে যার যার আদর্শ নিয়ে। এখানে কে মান-অভিমান করলো, কার মান ভাঙ্গাতে যাব- সেটা আমি জানি না। তবে সহানুভূতি দেখাতে যেয়ে যদি অপমানিত হয়ে ফিরে আসতে হয়, সেখানে আর যাবার কোন ইচ্ছা আমার নেই।
সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল হবে –সরকার দলীয় সদস্য মামুনুর রশীদ কিরনের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, বিভ্রান্তিমূলক বা উস্কানিমূলক পোস্ট ও ভিডিও প্রচারকারীকে শনাক্ত করার মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল গঠনসহ প্রয়োজনী কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী, দল যাতে গুজব বা বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে না পারে সে বিষয়েও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুনের প্রশ্নের জবাবে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনরুল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত আছে। আমরা আশা করব দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম ও যুব সমাজকে রক্ষায় সরকারের সঙ্গে একযোগে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচার হবেন এবং মাদক নির্মূল করতে সহযোগিতা করবেন।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এম এ মালেকের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে সংসদ নেতা বলেন, বর্তমানে আমরা সব মহাসড়কই ৪-লেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে চারপাশে এলিভেটেড রিং রোড করা হবে। এছাড়া পাতাল রেল নির্মাণের জন্য সমীক্ষা চলছে। তিনি বলেন, আকাশ পথেও ৬টি নতুন বিমান কিনেছি। আরও একটা আসবে। অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রুটে চলাচলের জন্য আরও কয়েকটি ছোট বিমান ক্রয় করা হবে। তিনি আরও বলেন, মাত্র সাড়ে ৯ বছরে আমরা দেশের যত উন্নয়ন করেছি, তা বলতে গিয়ে টানা কয়েকদিন সময় লাগবে। একদিনে বলে শেষ করা যাবে না।

বেসরকারি কর্মজীবীদের পেনশন ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে সরকারি দলের সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মজীবীদের জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় অংশগ্রহণমূলক সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি কাঠামো চূড়ান্ত করণের পর সংশ্লিষ্ট সাবসিডিয়ারি অফিস স্থাপনসহ পেনশন কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।
 কিউএনবি/আয়শা/ ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/দুপুর ১:৪৯