১৭ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১:৫০

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের তারিখ জানা যাবে আজ

 

ডেস্ক নিউজ : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে নৃশংস গ্রেনেড হামলার ঘটনায় আনা দুই মামলার রায় ও আদেশের তারিখ আজ মঙ্গলবার জানা যাবে।সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক শেষ করেন। এরপর পাঁচজন আসামির পক্ষে আইনজীবী মাঈনুদ্দিন আইনি পয়েন্ট যুক্তিতর্ক পেশ করেন। অপর আসামিদের পক্ষে আইনি পয়েন্টে এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনি পয়েন্টের আলোকে সামগ্রিক যুক্তিতর্ক পেশ শুরু করেন আইনজীবী এসএম শাহজাহান। তিনি জানিয়েছেন, আজ আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক পেশ সমাপ্ত হবে। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আসামিপক্ষে পেশ করা আইনি পয়েন্টের আলোকে মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষে শেষ বারের মতো সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ও যুক্তি দেবেন। এ দিন মামলার বিচারকার্য শেষ হচ্ছে এবং রায় ও আদেশের দিন ধার্য হবে। রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় আনা পৃথক মামলায় একই সঙ্গে বিচার চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান আইনি পয়েন্টে গতকাল তার যুক্তি পেশ শেষ করেন। তিনি বলেন, ২১ আগস্ট হামলায় ১৫টি আর্জেস গ্রেনেড ব্যবহূত হয়েছে। এর মধ্যে অবিস্ফোরিত অবস্থায় উদ্ধারকৃত ৪টি গ্রেনেড উদ্ধার করা হলেও আদালতের অনুমতি ছাড়াই সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি, হেয়ারস এভিডেন্স বিষয়ে রেফারেন্স পেশ করেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্বলিত ২৫টি  পত্রিকা ফিরিস্তি করে আদালতে দাখিল করেন তিনি। এ মামলায় ৮ আসামি জামিনে রয়েছেন উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী মামলার রায় ও আদেশের আগ পর্যন্ত তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণের আবেদন দাখিল করেন।
মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে রাষ্ট্রপক্ষ এ দাবি করে আইন অনুযায়ী আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার আর্জি পেশ করা হয়। রেজাউর রহমান আদালত, সংশ্লিষ্ট আইনজীবী, গণমাধ্যম কর্মী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যগণসহ এ মামলার কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তার বক্তব্য সমাপ্ত করেন। ১১৮ কার্যদিবস শেষে মামলাটি এ পর্যায়ে এসেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ নিয়েছে ২৯ কার্যদিবস আর আসামিপক্ষ নিয়েছে ৮৯ কার্যদিবস।
এ হামলার ঘটনায় পৃথক মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৫২ জন। এর মধ্যে ৩ জন আসামির অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড  কার্যকর হওয়ায় তাদের মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এখন ৪৯ আসামির বিচার চলছে। এর মধ্যে এখনো ১৮ জন পলাতক। মামলার আসামি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান  বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, সেনা কর্মকর্তা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছেন।
কিউএনবি/রেশমা/১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/সকাল ৯:৪৯