২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৭:২৮

পুলিশ ও রাবি ছাত্রলীগ নেতার সহায়তায় কর্মসংস্থান পেল ভিক্ষুক

 

ডেস্ক নিউজ : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে ভিক্ষা করেই সংসার চলত হনুফা বেগমের।বড় পরিবারের ভরনপোষণ, দুই নাতি-নাতনির পড়াশোনার খরচ, অসুস্থ ছেলের চিকিৎসা ব্যয় সবকিছুর জন্য লজ্জা-সংকোচ চেপে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কাছে হাত পাততে হতো।যে যা পারতেন তাই দিয়ে সাহায্য করতেন ক্যাম্পাসের পরিচিত ভিক্ষুক হনুফা খালাকে।দীর্ঘদিন ধরেই ইচ্ছে ছিল নিজের একটি কর্মসংস্থানের। 

অবশেষে তার সেই ইচ্ছা পূরণ হল।রাবি ছাত্রলীগ নেতার উদ্যোগ ও সাবেক শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বুধবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের সামনে দোকান পেলেন হুনফা বেগম।

স্থানীয় একটি গণমাধ্যমে হনুফা বেগমের ইচ্ছের কথা জানিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে তা রাবি ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান এহসানের নজরে আসে।পরে তাকে সাহায্য করতে উদ্যোগ নেন তিনি।রাবির সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে হনুফা বেগমকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন সিনিয়র এএসপি কাজী শাহনেওয়াজ টোকন, ডিবি পুলিশের উপ-কমিশনার গোলাম সাকলায়েন শিথিল এবং নগরীর বোয়ালিয়া থানার এসি একরামুল হক।

আজ বুধবার তাদের সহযোগিতায় রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ফটকের সামনে হনুফা বেগমকে একটি অস্থায়ী দোকান করে দেন ছাত্রলীগ নেতা এহসান। 

হনুফা বেগম জানান, ছেলে অসুস্থ হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণসহ নাতি-নাতনির পড়াশোনার খরচ, ছেলের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হতো তাকে। এর জন্য রাবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে হাত পাততেন।

দোকান পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আমার ভিক্ষা করতে ইচ্ছে হয় না, নিরুপায় হয়ে করতাম।এখন ক্যাম্পাসের ছাত্ররা আমাকে একটি দোকান করে দিয়েছে। তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

এ বিষয়ে রাবি ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান এহসান বলেন, মানুষ মানুষের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসবে এটাই স্বাভাবিক।আমাদের সামান্য উদ্যোগই কিন্তু একটি মানুষ বা একটি পরিবারের জীবনই বদলে দিতে পারে।হনুফা খালা একটা দোকান চেয়েছেন।আমরা প্রাথমিকভাবে একটি দোকান করে দিয়েছি, ভবিষ্যতে আরও বড় দোকান করে দেয়ার ইচ্ছে আছে।হনুফা খালার প্রয়োজনে আমরা এগিয়ে এসেছি, এতে তার যদি উপকার হয় তাতেই আমাদের সার্থকতা।

তিনি আরও বলেন, হনুফা বেগমকে নিয়ে রিপোর্ট করে বিষয়টি তুলে আনার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংবাদিকদের ধন্যবাদ।এই কাজের জন্য আমাদের ক্যাম্পাসের তিন বড়ভাই এগিয়ে এসেছেন।তাদের সহযোগিতায় এটা সম্ভব হয়েছে।তাই তাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১২ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ই/রাত ৯:০১

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১২ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ই/রাত ৮:৫৯