১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৪:৪০

সুস্থ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশ; ডাক্তারের বিরুদ্ধে ফের কমিটি গঠন

 

ডেস্ক নিউজ :  হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে সুস্থ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশের ঘটনায় আবারও নতুন ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পূর্বের কমিটি বাতিল করে সিভিল সার্জন ডা. সুচিন্ত চৌধুরী বুধবার এ কমিটি গঠন করেন। উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দিয়ে গঠিত এ কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। নতুন এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. আশরাফ উদ্দিনকে। কমিটির সদস্যরা হলেন বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবুল হাদী শাহ পরান ও নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা।

সিভিল সার্জন ডা. সুচিন্ত চৌধুরী জানান, অভিযুক্ত ডা. এএইচএম খায়রুল বাশার সিনিয়র হওয়ায় জুনিয়র দিয়ে তদন্ত না করার বিধান রয়েছে। তাই পূর্বের কমিটি বাতিল করে নতুন করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদেরকে ৭ কার্যদিবসের মাঝে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ওই উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের ফুলতলী বাজার এলাকার বাসিন্দা শ্রমিক রুবেল মিয়া ও শিরিনা আক্তারের ৪০ দিন বয়সী শিশু ইসমত নাহার জিবা ঘনঘন হেঁচকি দিচ্ছিল। তাদের মনের সন্দেহ দূর করতে গত ৩১ আগস্ট সকালে জিবাকে নিয়ে স্থানীয় আউশকান্দি বাজারের অরবিট হসপিটালের নবজাতক ও শিশু রোগ চিকিৎসক ডা. এএইচএম খায়রুল বাশারের শরণাপন্ন হন তার মা শিরিন আক্তার। ডাক্তার ৫শ’ টাকা ভিজিট রেখে কিছু ঔষধ লিখে দেন এবং পরদিন শিশুর অবস্থা জানানোর জন্য পরামর্শ দেন। পরের দিন শিশুটি আগের মতোই রয়েছে একথা জানালে ডা. খায়রুল বাশার তার অবস্থা আশংকাজনক বলে উল্লেখ করেন। তিনি দ্রুত মৌলভীবাজারের মামুন হসপিটালে ভর্তি করে সেখানে ডা. বিশ্বজিতের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তাদের। 

সেখানে গিয়ে ডা. বিশ্বজিতের সাথে ফোনে কথা বলিয়ে দেয়ার জন্যও ওই শিশুর মাকে বলেন। আর্থিক সঙ্গতি না থাকলেও শিশুর প্রাণ রক্ষার্থে দ্রুত মৌলভীবাজার ছুটে যান শিশুর মা শিরিনা আক্তার। সেখানে যাওয়ার পর খুঁজে বের করেন ডা. বিশ্বজিতকে। এমনকি তার সাথে শিরিনা আক্তারের মোবাইল ফোন দিয়ে কথা বলেন ডা. খায়রুল বাশার। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ডা. বিশ্বজিত মোবাইল ফোনে ডা. খায়রুল বাশারকে জানান ‘শিশু জিবা পুরো সুস্থ আছে। কিন্তু এ সময় সম্পূর্ণ সুস্থ জিবাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন ডা. খায়রুল বাশার।’ তিনি তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে ইনজেকশন দেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, কোন অবস্থাতেই যেন না বলে শিশুটি সুস্থ আছে। শিশুটি সুস্থ আছে সেটি নিজে জেনেই তার কাছে ভর্তি করার জন্য পাঠিয়েছেন বলেও ডা. বিশ্বজিতকে জানান। তাদের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়ে গেলেই যত বিপত্তি ঘটে। এ ঘটনার পর সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়। 

সোমবার প্রথম দফায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা। বুধবার ওই কমিটি বাতিল করে পূনরায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন সিভিল সার্জন ডা. সুচিন্ত চৌধুরী। এদিকে এ ঘটনায় সরেজমিন তদন্তে যান নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদ বিন হাসান। তিনি ওই উপজেলার আউশকান্দি বাজারে অরবিট হসপিটালের পরিচালক মহিবুর রহমান হারুনসহ কয়েকজনের সাথে কথা বলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদ বিন হাসান জানান, সিভিল সার্জন অফিস থেকে নেয়া অরবিট হাসপাতালের অনুমতির কাগজের মেয়াদ ২০১৭ সালের অক্টোবরে শেষ হয়েছে। তারা আবার আবেদন করেছে। এটি নাকি তাদের প্রক্রিয়াধীন আছে। তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে সিভিল সার্জন অফিসে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কাগজে ত্রুটি থাকলে যেন তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেন। আর ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে যেহেতু কমিটি আছে তারাই তা দেখবেন।

জানতে চাইলে অরবিট হাসপাতালের পরিচালক মহিবুর রহমান হারুন জানান, ডাক্তার খায়রুল বাশার তার হসপিটালে প্রায় ১২ বছর ধরে চিকিৎসা করছেন। কোন রোগী কখনও অভিযোগ দেয়নি। তিনি বলেন, যে রোগীর অভিযোগ সে রোগী অন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। আমার এখানে ভর্তি হয়নি। আর ডাক্তার যদি অন্যায় করে থাকে তার এসোসিয়েশন আছে। তারা দেখবে। এটি আমার বিষয় নয়।

 

 

 কিউএনবি/আয়শা/১২ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ই/সন্ধ্যা ৬:২৫