ব্রেকিং নিউজ
২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৭:০০

দ্রুত ১০ হাজার সাউন্ড গ্রেনেড আনছে পুলিশ

 

ডেস্ক নিউজ : অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ১০ হাজার পিস সাউন্ড গ্রেনেড আনছে পুলিশ। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পুলিশের অপারেশনাল কাজে ব্যবহারের জন্য এই গ্রেনেড আসছে। গ্রেনেড আনার পর বিমান বা সমুদ্রবন্দর দিয়ে তা স্বল্প সময়ের মধ্যে খালাসের জন্য তৎপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতর। এ ক্ষেত্রে যাতে কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয়, সে জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর ও প্রধান আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের অনাপত্তিপত্র চেয়েছে পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দফতরের উপ-মহাপরিদর্শক রুহুল আমিন গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে একই সঙ্গে প্রশিক্ষণের জন্য পুলিশের মতো এত বড় একটি বাহিনীর আর্মস এবং অ্যামুনেশন সব সময়ই লাগে, এটাই স্বাভাবিক। যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব সময় আমাদের প্রস্তুতি রাখতে হয়। এটা আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্রিক কোনো প্রস্তুতিমূলক বিষয় নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ অধিশাখা-৪ থেকে এই অনাপত্তিপত্র চেয়ে পাঠানো পত্র গত ৯ সেপ্টেম্বর আসে এনবিআর চেয়ারম্যান ও প্রধান আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব খাদিজা তাহেরা ববি স্বাক্ষরিত ওইপত্রে বলা হয়, অতি অল্প সময়ের মধ্যে ১০ হাজার পিস সাউন্ড গ্রেনেড সরবরাহের লক্ষ্যে মূল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পুলিশ অধিদফতরের পত্রালাপ হয়।

এ ক্ষেত্রে বাতিল হওয়া সাউন্ড গ্রেনেড দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানো এবং রিপ্লেসমেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অথবা চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর হতে খালাসের সময় যাতে পুনরায় কোনো প্রকার শুল্ক বা অন্য কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে অনাপত্তি সনদ (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট-এনওসি) প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিবের কাছে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (আর্মস অ্যান্ড অ্যামুনিশন) এম এ জলিল স্বাক্ষরিত পত্রে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগের অপারেশনাল কাজে ব্যবহারের জন্য বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১০ হাজার পিস সাউন্ড গ্রেনেড কেনা হয়।

এ ক্ষেত্রে চুক্তিপত্র সম্পাদন করেই কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এই সাউন্ড গ্রেনেড সরবরাহ করলে শুল্ককর, সম্পূরক ভ্যাট ও অন্যান্য শুল্ককর বাবদ সর্বমোট ৩ কোটি ৯৪ লাখ ১৯ হাজার ৭২৩ টাকা পরিশোধ করে খালাস করা হয়। পত্রে বলা হয়, ওই সাউন্ড গ্রেনেড পুলিশ সদর দফতরের গ্রহণ কমিটি কারিগরি নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, পরীক্ষা করেছে। পরে গুণগতমান সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ৩ জানুয়ারি বাতিল করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই ১০ হাজার পিস সাউন্ড গ্রেনেড অপসারণ করার পর, অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে সমপরিমাণ সাউন্ড গ্রেনেড সরবরাহের জন্য পুলিশ সদর দফতর গত ২১ জানুয়ারি মূল সরবরাহকারি ও স্থানীয় এজেন্টের কাছে পত্র দিয়েছে।

পরবর্তীতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, সাউন্ড গ্রেনেডের নমুনা কোরিয়ান সেনাবাহিনীর পরীক্ষাগারের টেস্ট রেজাল্ট পাওয়ার পর তাদের ত্রুটি চিহ্নিত করে উৎপাদন করবে। এ ছাড়াও চুক্তি অনুযায়ী ১০ হাজার পিস সাউন্ড গ্রেনেড দ্রুত সময়ে রিপ্লেসমেন্টকরণের প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে মূল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পুলিশ সদর দফতরকে পত্র দিয়ে জানিয়েছে। ওই পত্রে আরও বলা হয়, উল্লিখিত সাউন্ড গ্রেনেড যেহেতু একটি চুক্তিপত্র এবং একই ঋণপত্র বা এলসির বিপরীতে রিপ্লেস করা হচ্ছে ও নিয়ম মোতাবেক শুল্কসহ অন্যান্য কর পরিশোধ করা হয়েছে, তাই বাতিল হওয়ায় সাউন্ড গ্রেনেড বিমান ও সমুদ্রবন্দর হতে খালাসের জন্য অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সাউন্ড গ্রেনেড কি : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিগত ২০১৩ ও ১৪ সালের রাজনৈতিক সহিংসতা দমনে সাউন্ড গ্রেনেড খুবই কার্যকর হিসেবে কাজ করেছে। তখন দেশে বিশৃঙ্খলাকারী— আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে সাউন্ড গ্রেনেড। এতে প্রাণহানি হয় না। কিন্তু বিকট শব্দে আতঙ্ক তৈরি হয়। এতে দাঙ্গা দমন অপেক্ষাকৃত সহজ হয়। কারণ সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দকে অনেকে বড় ধরনের ভারী অস্ত্রের ব্যবহার মনে করে।

 

 

কিউএনবি/রেশমা/১২ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/সকাল ১০:০০