১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৩:০৭

ফুলবাড়ীর নন্দীগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাইভেট পড়তে না দেওয়ায় দুইদিন ধরে ক্লাস বর্জন করছে শিক্ষার্থীরা

 

মো; আফজাল হোসেন দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর নন্দীগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাইভেট পড়াতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে গতকাল সোমবার ও গত রবিবার (৯সেপ্টেম্বর) দুইদিন থেকে ক্লাস বর্জন অব্যাহত রেখেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয়রা বলেন, কলেজে পড়ুয়া স্থানীয় দুইজন যুবক বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর পূর্বে এবং ছুটির পর বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরকে প্রাইভেট পড়ায়। আকস্মিকভাবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করে দিয়েছেন। এ কারণে শিক্ষার্থীরা গত রবিবার (৯সেপ্টেম্বর) থেকে ক্লাস বর্জন করছে।

গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় সরেজমিনে গিয়ে ওই বিদ্যালয়ে দেখা যায়, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৮০জনের মধ্যে ৭জন, সপ্তম শ্রেণিতে ৫১জনের মধ্যে ২জন, অষ্টম শ্রেণিতে ৭১জনের মধ্যে কেউ উপস্থিত ছিল না, নবম শ্রেণিতে ৪৭জনের মধ্যে ২জন এবং দশম শ্রেণিতে ২৬জনের ৩জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। এতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী ২৮৮জনের মধ্যে উপস্থিত ছিল মাত্র ১৪জন।

ক্লাস বর্জনকারি অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ক্লাসের ফাস্ট বয় ইবনে সিনহা বাঁধন, সপ্তম শ্রেণির সামিউল ইসলাম, রাকিব হোসেন, রেজাউল হক, মো. নূরুন্নবী ও আয়ারুজ জামান দিনার বলে, বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান ভালো না হওয়াসহ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া নিয়ে প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকদের গুরুত্ব না থাকায় প্রতি বছর বিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হচ্ছে। তারা ক্লাস শুরুর পূর্বে এবং ছুটির পর প্রাইভেট পড়ে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক প্রাইভেট বন্ধ করে দেওয়ায় তারা ক্লাস বর্জন করছে।

সম্প্রতি বিদ্যালয় ছেড়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলার দেশমা উচ্চ বিদ্যালয়ে চলে যাওয়া দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাসানুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান ভালো না হওয়ায় সে বিদ্যালয় ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।অভিভাবক শাহাজাহান আলী ও রোস্তম আলী বলেন, স্কুলে লেখাপড়া ভালো না হওয়ায় সন্তানদের প্রাইভেট পড়াতে হচ্ছে। প্রাইভেটও বন্ধ হওয়ায় ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক কামাল পাশা ও আজমির আলী বলেন, বহিরাগত দুইজন যুবকের বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করার কারণে তাদের উস্কানীতেই শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করছে।ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য রুহুল কুদ্দুস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে প্রাইভেট চলছে। হেড মাস্টার সেটি বন্ধ করায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম মুঠোফোনে বলেন, নিয়মনীতিকে উপেক্ষা করে বহিরাগত দুই যুবকের বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শমসের আলী মন্ডল বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করছে এটি তার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিবেন।ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনের বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন।

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১১ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৭:০৭