১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ভোর ৫:৩৯

মুন্সীগঞ্জের অবৈধ কারেন্ট জাল নদী পথে রাতের আধারে পাচার হচ্ছে ঢাকা সহ দক্ষিন অঞ্চলের ২১ জেলায় : প্রশাসনের রহস্যজনক ভুমিকা

 

শেখ মোহাম্মদ রতন,মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জে অবাধে অবৈধ কারেন্ট জাল উৎপাদন হচ্ছে। এই অবৈধ কারেন্ট জাল উৎপাদনে মেতে উঠেছে এখানকার অসাধু ব্যবসায়িরা।জেল জরিমানা করেও এখানকার কারেন্ট জাল উৎপাদন কোনভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।কোনভাবেই কারেন্ট জাল বন্ধ না হওয়ার কারণে এখানকার অসাধু জাল ব্যবসায়িরা এই জাল উৎপাদনে মহা উৎসবে মেতে উঠেছে।

এই জাল উৎপাদন বন্ধ করতে হলে নতুন করে কঠোর আইন তৈরি প্রয়োজন বলে জেলাবাসী মনে করছেন।এছাড়া এই জাল সাময়িক ভাবে বন্ধ করতে জালের মেশিন জব্দ সহ এর বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্নসহ আর কখনো যাতে সেই ব্যক্তি বা পরিবারের কেউ যেন নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ না পায়।

এই ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এই যাত্রা থেকে সাময়িক কিছুটা ফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনেকেই ধারণা করছেন।বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে এখানকার কারেন্ট জাল এখন নদী পথ দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে।দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াতকারী যেসব লঞ্চ মুন্সীগঞ্জ টার্মিনালে থামছে,সেইসব লঞ্চে করে কারেন্ট জাল পৌছে যাচ্ছে চাহিদা মতো বিভিন্ন জেলায়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চরভৈরবি যাওয়ার জন্য একটি লঞ্চ মুন্সিগঞ্জ টার্মিনালে থামে। আর সেই লঞ্চে করে কারেন্ট জাল চলে যাচ্ছে লক্ষিপুর জেলার রায়পুর উপজেলার চরভৈরবি এলাকায়। পদ্মা নদী দিয়ে চাঁদপুর থেকে চরভৈরবি যেতে কয়েকটি লঞ্চ টার্মিনাল পরে। 

এর মধ্যে রয়েছে কাটাখালী ও হাইমচরসহ আরো কয়েকটি টার্মিনাল।এই গুলো পদ্মা নদী বেষ্টিত টার্মিনাল। এই নদীতে কোন ধরণের বাঁধা ছাড়াই কারেন্ট জাল ব্যবহার করতে দেখা গেছে।এছাড়া প্রতিদিন ফজরের নামাজের আগেই মুক্তারপুর পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় থেকে কয়েকটি ট্রলার কারেন্ট জাল ভর্তি করে ঢাকার দিকে চলে যায়। এখানে মধ্যেরাত থেকে কারেন্ট জাল ট্রলার ভর্তি করা হয়। রাতের আধারে এগুলো হচ্ছে লোকচক্ষুর অন্তরালে।

জানা যায়, ঢাকার চকবাজারে এই কারেন্ট জাল গুলো নিয়ে যাওয়া হয়।মুক্তারপুরের অনেকেরই ঢাকার চক বাজারে জালের দোকান রয়েছে। সেইসব দোকানের অন্তরালেই এই কারেন্ট জাল বিক্রি হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।তবে ঢাকা চক বাজারে কখনো কারেন্ট জাল উদ্ধারে কর্তৃপক্ষরা মাঠে নামেননি। ঢাকার চকবাজার থেকে কারেন্ট জাল চলে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী ও ভোলায়।মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা অবৈধ কারেন্ট জাল ব্যবসায়িদের একটি সুযোগ দিয়েছিলেন। যাতে তারা এই অবৈধ ব্যবসা ছেড়ে অন্য ব্যবসায় চলে যান।

গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সময়সীমা বেধে দেন। কিন্তু তাতে তেমন কোন লাভ হয়নি।বরং ঐসব ব্যবসায়িরা আবারো সেই অবৈধ কারেন্ট জাল ব্যবসায় কোমর বেধে নেমে পড়েছেন।মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, প্রয়োজনী বরাদ্দ না থাকায় আমরা অনেক সময় অভিযান চালাতে পারি না।মুন্সীগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, আমরা সাধ্যমতো চেষ্ঠা করছি এখানকার অবৈধ কারেন্ট জাল উৎপাদন বন্ধ ওপাচার করতে।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১১ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/বিকাল ৫:৪৩